পটিয়া প্রতিনিধি
যানজটে দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। প্রতিদিন দক্ষিণ চট্টগ্রামের কর্ণফুলী শাহ আমানত ও কালুরঘাট সেতু হয়ে চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়ক দিয়ে যাতায়াত করছে কয়েক হাজার যাত্রী।তারা চট্টগ্রাম শহর থেকে দৈনন্দিন কাজ সেরে শাহ আমানত সেতু হয়ে ক্রসিং দিয়ে এবং কালুরঘাট সেতু হয়ে পটিয়ার উপর দিয়ে নিজ নিজ গন্তব্য স্হলে পৌঁছে। বিশেষ করে পটিয়া, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া ও লোহাগাড়ার মানুষ চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়ক দিয়ে যাতায়াত করে। এই ছাড়া পৃথিবীর সপ্তম আশ্চর্য খ্যাত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অন্যতম লীলাভূমি কক্সবাজারের সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য প্রতিদিন দেশি বিদেশি কয়েক হাজার পর্যটক দক্ষিন চট্টগ্রামের চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়ক দিয়ে চলাচল করে। যাত্রীরা সাধারণত বাস, মিনিবাস, চেয়ারকোচ, প্রাইভেট গাড়ী,এসি ননএসি বাস, সিএনজি চালিত অটো রিক্সা সহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন দ্বারা যাওয়া আসা করে থাকে। ক্রসিং থেকে ভেল্লাপাড়া পর্যন্ত সড়কের উভয় পাশে বালু ব্যবসায়ীরা বালুর স্তুপ করে রাখে।ভেল্লাপাড়া খালে মেশিন বসিয়ে পানি দ্বারা এসব বালুর স্তুপ করা হয়।পানি মিশ্রিত বালু হওয়ায় ঐ বালু থেকে আস্তে আস্তে পানি সরে মহা সড়কে চলে আসে। প্রতিনিয়ত এই পানি বাহিত রাস্তার উপর দিয়ে গাড়ি চলার কারণে সড়কে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া প্রতিনিয়ত সড়কের দুইপাশ থেকে বড় বড় পিকআপ দিয়ে বালু লোড আনলোড করতে গিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে রাস্তার উপর খালি ও বালি ভর্তি গাড়ি দ্বাড়িয়ে থাকতে হয়।ফলে মহাসড়কে ঘন্টার পর ঘন্টা যানজটের সৃষ্টি হয়। এদিকে শান্তির হাট পটিয়ার অশান্তির বড় কারণ। রাস্তার উপর বাজার, যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং,বাজারে আগত লোকজন সড়কের উপর অবাধে চলাফেরা করার কারণে পটিয়ার শান্তির হাটে প্রতিদিন যানজট লেগেই আছে। এতে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে যাত্রীরা। শান্তির হাট হতে বুধপুরা বাজার নয়াহাট হয়ে একটি সড়ক আনোয়ারা উপজেলার সাথে সংযোগ স্হাপন করেছে। আরেকটি রাস্তা কান্তফকির হাট হয়ে একদিকে কালারপুল সেতু ও অন্যদিকে বাদামতল হয়ে পাঁচরিয়া পৌঁছেছে। এই সড়ক গুলো দিয়ে প্রতিদিন শত শত গাড়ির চলাচল। শত শত গাড়ি শান্তির হাট পয়েন্ট হয়ে বিভিন্ন সড়কে গেলেও শান্তির হাটে গাড়ি দ্বাড়ানোর মত যথেষ্ট খোলামেলা জায়গা না থাকায় গাড়ি মহাসড়কের উপর দ্বাড়ায় এবং বিভিন্ন সড়কে মোড় নেয়।যারফলে প্রতিনিয়ত দীর্ঘ যানজট লেগে যায়।বর্তমানে ক্রসিং হতে পটিয়া পর্যন্ত মহাসড়কের সাইট বর্ধিত করণ কাজ চলমান। অপেক্ষাকৃত ছোট প্রস্তের এই মহা সড়কের উপর স্কেভেটর ও ট্রাক রেখে ঠিকাদারকে প্রায় সময় কাজ করতে হয়। তখনও লম্বা লাইনের যানজট লেগে যায়। অপরদিকে দীর্ঘদিন ধরে পটিয়া পৌর এলাকার বাইপাস সড়কের মূখে ছয় লাইন বিশিষ্ট ইন্দ্রপুল ব্রীজের নির্মাণ কাজ চলছে। ব্রীজের দুই এপ্রোচের উভয় পাশে এপ্রোচ সড়কের কাজও একই সাথে চলমান।একই সময়ে ব্রীজ ও এপ্রোচ সড়কের কাজ চললেও কোন ট্রাফিক সিস্টেম চালু করা হয়নি। মহাসড়ক সরু এবং ব্রীজ ও এপ্রোচ সড়কের কাজ চলার কারণে নির্মাণাধীন ব্রীজ এলাকায় মহাসড়কের বেশ কিছু অংশ জুড়ে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।প্রতিদিন ইন্দ্রপুল ব্রীজের দুই পাশে ঘন্টার পর ঘন্টা যানজট লেগেই আছে। অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের।বিপন্ন হচ্ছে তাদের জনজীবন।চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়ায় ৪ টি পয়েন্টে প্রতিনিয়ত এই যানজটের কারণে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার পটিয়া, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, লোহাগাড়ায় চলাচলকারী যাত্রীদের দু:খের যেন শেষ নাই। যানজট প্রসঙ্গে পটিয়া হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ওসি স্নেহাংশু বিকাশ সরদার জানান,ভেল্লা পাড়া আমাদের আওতায় নয়। আর শান্তির হাটে এখন আগের মত যানজট হয়না। মহাসড়ক প্রশস্ত করন কাজ চলায় কোন কোন জায়গায় যানজট লাগে । ইন্দ্রপোল এলাকায় এপ্রোচ সড়কের কাজ চলায় যানজট হচ্ছে। শীগ্রই এই সমস্যার সমাধান হবে। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের দোহাজারী কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী সুমন সিংহকে ফোন করা হলে তিনি আমি একটি মিটিং এ আছি পরে ফোন করব বলে ফোন কেটে দেন।