সাতকানিয়ায় বৃদ্ধ ইউসুফ হত্যা মামলার প্রধান আসামি মো. লোকমানকে (২৫) ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। সোমবার (৬ ফ্রেব্রুয়ারি) রাজধানীর কেরানীগঞ্জের কলাতিয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার লোকমান লোহাগাড়া থানার পদুয়া ইউনিয়নের নূর মোহাম্মদের ছেলে।
র্যাব জানায়, নিহত মো. ইউসুফ একজন কৃষক ছিলেন। শওকত নামের এক যুবক (বর্তমানে আসামি) তার নাবালিকা মেয়েকে প্রায় সময়ই উত্যক্ত করত এবং প্রেমের প্রস্তাব দিত। গেল ৯ জানুয়ারি বিকাল সাড়ে চারটায় ইউসুফ মেয়েকে ঘরে রেখে পরিবারসহ জমিতে কাজ করতে গেলে একা থাকার সুযোগে তার নাবালিকা মেয়েকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় শওকত। এসময় প্রতিবেশীর কাছ থেকে খবর পেয়ে ইউসুফ ও তার পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে এসে শওকতকে আটক করে এবং বিষয়টি এলাকার লোকজনকে জানায়।
র্যাব আরও জানায়, এর কিছুক্ষণ পর অর্থাৎ বিকাল চারটা ৫০ মিনিটের দিকে লোকমানের নেতৃত্বে ৪/৫ জনের একটি দল সন্ত্রাসী বৃদ্ধ ইউসুফের উপর হামলা চালায়। এসময় তারা ইউসুফকে এলোপাতাড়ি কিল ঘুষি মেরে গুরুতরভাবে আহত করে। এক পর্যায়ে ইউসুফ মাটিতে লুটিয়ে পড়লে সন্ত্রাসীরা ইউসুফের বুকের উপর পা দিয়ে সজোরে লাথি মেরে শওকতকে ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা ইউসুফকে উদ্ধার করে লোহাগাড়া পদুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
র্যাবের সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মো. নূরুল আবছার বলেন, এ ঘটনায় নিহতের ছেলে বাদী হয়ে সাতকানিয়া থানায় লোকমান প্রধান আসামি করে এবং ৭ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ৪/৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তিনি আরও বলেন, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে গোয়েন্দা তৎপরতা ও ছায়া তদন্তে মামলার প্রধান আসামি লোকমান ঢাকার কেরানীগঞ্জের কলাতিয়া এলাকায় অবস্থান করছে বলে জানতে পারে র্যাব। ৬ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টার দিকে সেখানে র্যাব-১০ সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় র্যাব-৭ এর একটি দল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লোকমান এজাহার নামীয় আসামি বলে স্বীকার করেছে। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।