নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ইভটিজিংয়ে বাধা দেওয়ায় ইট দিয়ে আঘাত করে রিয়াদ হোসেন ফাহিম (১৬) নামের এক স্কুলছাত্রের মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে বখাটেরা।
সোমবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার কেরানীহাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত ফাহিম ওই এলাকার আশশেফা স্কুল এন্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে উপজেলার দক্ষিণ ঢেমশা ইউনিয়নের দামাইরখীল এলাকার মোহাম্মদ ইয়াছিন আরফাত বাবুলের ছেলে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের আরিফুল ইসলাম তুষার (২০) ও মোহাম্মদ তুহিন (১৭) সহ অজ্ঞাত ১০/১২ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই স্কুল ছাত্রের বাবা।
আহত ফাহিম জানান, আরিফুল ইসলাম তুষার ও মোহাম্মদ তুহিন সহ এলাকার কিছু উচ্ছৃঙ্খল বখাটে ছেলে প্রতিদিন স্কুল ছুটির পর গেইটের সামনে দাড়িয়ে ছাত্রীদের উত্যক্ত করে আসছিল। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি দুপুরে একই স্কুলের ছাত্রী (তাঁর ভাগনি) কে উত্যক্ত করলে এর প্রতিবাদ করে সে। পরে ঘটনাটি স্কুলের অধ্যক্ষকে অবহিত করলে তার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয় বখাটেরা। পরে সোমবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ফাহিম মডেল টেস্ট পরীক্ষা দিয়ে বের হয়ে কেরানীহাট মোড়ে আসলে একা পেয়ে তুষার, তুহিন সহ ১০-১২ জন কিশোর এসে তার ওপর হামলা করে। একপর্যায়ে ইট দিয়ে আঘাত করে তার মাথা ফাটিয়ে দেয়। তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
এই বিষয়ে আশশেফা স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ ইসমাঈল মুহাম্মদ রাশেদ বলেন, বখাটেদের অনেক বার বারণ করেছি কিন্তু কথা শুনেনি। আজ (২০ ফেব্রুয়ারি) স্কুল ছুটির পর একই ভাবে এক ছাত্রীকে উত্যক্ত করলে একই স্কুলের ছাত্র তার মামা ফাহিম প্রতিবাদ করায় ঘটনাটি ঘটে।
এ ব্যাপারে আহত ফাহিমের বাবা মোহাম্মদ ইয়াছিন আরফাত বাবুল থানায় আরিফুল ইসলাম তুষার (২০) ও মোহাম্মদ তুহিন (১৭) সহ অজ্ঞাত ১০/১২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং বিষয়টি তদন্তাধীন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ ইয়াসির আরাফাত বলেন, এক স্কুল শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছিলাম। ঘটনার ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন ওসি।
সারা দেশে কিশোর গ্যাং কালচার ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে কিশোররা ব্যবহৃত হচ্ছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের অপরাধের ধরনও পাল্টে যাচ্ছে।
এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, চুরি-ছিনতাই, ইভটিজিং থেকে শুরু করে খুনাখুনিসহ নানা অপরাধে কিশোর-তরুণরা জড়িয়ে পড়ছে। মাদক ব্যবসা ও দখলবাজিতেও তাদের ব্যবহার করা হচ্ছে। নানা অপরাধে জড়িয়ে কিশোররা ক্রমেই অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছে। ‘হিরোইজম’ প্রকাশ করতেও পাড়া-মহল্লায় কিশোর গ্যাং গড়ে উঠছে।