খুলনা-বরিশালে প্রচার শেষ, অপেক্ষা ভোটের

নিজস্ব প্রতিবেদক:

শনিবার (১০ জুন) মধ্যরাতে শেষ হয়েছে খুলনা ও বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা। আর মাত্র একদিন এই দুই সিটিতে মেয়র নির্বাচন। আনুষ্ঠানিক প্রচার ও গণসংযোগ শেষ হওয়ায় এখন অপেক্ষা শুধুই ভোটগ্রহণের।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী সোমবার (১২ জুন) সকাল ৮টা থেকে এই দুই সিটিতে ভোটগ্রহণ শুরু হবে। একটানা চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত।

স্থানীয় সরকারের এ দুটি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে। সেইসাথে পুরো নির্বাচন ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করবে নির্বাচন কমিশন। কোথাও কোনো অনিয়ম দেখা গেলে সাথে সাথে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

খুলনায় প্রায় দুই সপ্তাহের বিরামহীন প্রচারণার শেষ দিন শনিবারও (১০ জুন) নানা প্রতিশ্রুতি আর ভোটের আবেদন নিয়ে নগরবাসীর দ্বারে দ্বারে ছুটে গেছেন মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা। পথসভা, কর্মীসভাসহ নানা উপায়ে ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণে ব্যস্ত সময় পার করেছেন তারা।

খুলনা সিটি করপোরেশনের ৩১টি ওয়ার্ডের আওতায় ভোটকেন্দ্র রয়েছে ২৮৯টি। এগুলোর মধ্যে এবার নির্বাচনে ১৬১টি কেন্দ্রকে ‘গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ’ ও ১২৮টি কেন্দ্রকে সাধারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে খুলনা মহানগর পুলিশ।অর্থাৎ, মোট কেন্দ্রের ৫৬ শতাংশই ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

খুলনায় ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৩৫ হাজার ৫২৯ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৬৮ হাজার ৮৩৩ জন এবং নারী ২ লাখ ৬৬ হাজার ৬৯৬ জন।

এই সিটিতে মেয়র পদে পাঁচজন, সাধারণ ৩১টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ১৩৬ জন এবং সংরক্ষিত ১০টি ওয়ার্ডে ৩৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

অন্যদিকে বরিশালে ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৭৬ হাজার ২৯৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৩৭ হাজার ৪৮৯ জন এবং নারী ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮০৯ জন।

নির্বাচনে সাতজন মেয়র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ ছাড়া ৩০টি ওয়ার্ডের সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১১৯ জন এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরের ১০টি পদের বিপরীতে ৪২ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।

দু্ই সিটিতেই নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব পর্যবেক্ষকের পাশাপাশি স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমের কয়েকশ সংবাদকর্মী ভোটের খবর সংগ্রহে উপস্থিত থাকবেন।

এ দুই সিটি নির্বাচন নগর দুটিতে নানা ঘটনা পরিক্রমার জন্ম দিয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্তের কারণে বিএনপি যেমন নির্বাচনে আসেনি, তেমন দল থেকে বহিষ্কারের পরেও অনেক মেয়র-কাউন্সিলর প্রার্থী ভোটে আছেন।

দুই সিটিতেই শেষ দিনের প্রচারে আওয়ামী লীগ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় পার্টি ছাড়াও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নিজেদের জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। কেউ কেউ ভোট কিনতে কালো টাকা ছড়ানোর পাশাপাশি ভয়-ভীতির পরিবেশ সৃষ্টির ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন।

তবে সব প্রার্থীই ভোটারদের দলবেঁধে কেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন।

 

 

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.