সাতকানিয়ায়-নবাবী চকিদার ওসমানের শখের তোলা কোটি টাকা

 

নিজস্ব প্রতিবেদক 

বেতন নামে মাত্র, একটি বাইসাইকেল নিয়ে সকাল বেলা আসেন পরিষদে আবার কাজ শেষ করে নিজ বাড়িতে যায় সন্ধ্যার সময়।
প্রতিদিন চলে তার এমন নিয়ম, নিয়মের কোন ব্যতায় ঘটেনা কখনো।
তবে তার মনে বাসা বাঁধে আগেকার আমলের রাজা রানী জমিদারদের মত একটি ইচ্ছে পোষণ করে আরাম আয়েশে তার কর্মস্থলে যাবে।
তবে সেটা কোন দামী মোটর সাইকেল কিংবা প্রাডো নয়।
সে তার সামর্থ্যমত একটা ঘোড়া কিনবে আর সেই ঘোড়ার উপর বসে হেলেদুলে পরিষদে যাবে।

বলছিলাম এওচিয়া ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ (চকিদার)ওসমান গনির কথা, বয়স তার ২২বছরের মত হবে তারা বংশপরম্পরায় এই পরিষদের চকিদার তার দাদাও বাপ এবং বড় ভাইও এই পরিষদের চকিদার ছিলো।

গোষ্ঠীর ভেতর কারো মনে এমন আশার বীজ বুনেনি কিন্তু চতুর্থ প্রজন্মে চকিদারি করতে এসে এই অদ্ভুত আবদার মনে আসে যুবক ওসমানের।

সে আর এখন পরিষদে পায়ে প্যাডেল মেরে সাইকেল চালিয়ে পরিষদে যায়না,ঘোড়ায় চড়ে মনে নবাব সিরাজ উদ্দৌলার নবাবী ভাবে সারা রাস্তায় হেলেদুলে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করে এবং পথচারী মানুষকেও বাংলার অতীত ঐতিহ্য স্মরণ করিয়েই সে পরিষদে যায়।

আচ্ছা এবার আসা যাক নবাবী এই চকিদার ওসমান পরিষদে এসে কী কাজ করেন,খোঁজ নিয়ে জানাযায় পারিবারিক অর্থাভাবে তেমন কোন লেখাপড়া করতে পারেননি তবে বংশপরম্পরায় চকিদার থাকার সুবাদে তার চাকুরী হয় পরিষদে অত্যান্ত সহজসরল সাদামাটা একটা যুবক।

 

সে ঘোড়া নিয়ে এসে গ্রাম পুলিশের যে কাজ থাকে সেটাই করে পরিষদে,এবং সবার আপনজন হওয়ার সুবাদে ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের চা নাস্তাও এনে দেয়, অনেকে তাকে নিয়ে ট্রল করে ঘোড়া নিয়ে এসে চা এনে দেয় পরিষদে।

তবে সে বিষয়ে ওসমান বলে ঘোড়া নিয়ে আসাটা আমার শখ তাই সেটা পূরণ করছি তবে পরিষদে এসে কাজ করাটা আমার পেশা।

এওচিয়ার মধ্যে ব্যক্তিমালিকানায় ঘোড়া ব্যবহার করা দেশ স্বাধীনের পর এই ওসমানই প্রথম বলে জানান এওচিয়ার একাধিক বয়স্ক স্থানীয় বাসিন্দা।

 

তারা ওসমানের এমন শখকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন শখের তোলা ৮০কোটি টাকা।
এখন রাতে এই ঘোড়ায় চড়ে এওচিয়া ৪নং ওয়ার্ডের পাড়া-মহল্লাও পাহাড়া দিতে শোনা যায় চকিদার ওসমান।

পাড়া মহল্লার অলিতে গলিতে রাতে টকটক পায়ের আওয়াজ শুনলেই স্থানীয়রা বুঝতে পারেন তাদের নবাবী চকিদার ওসমান যাচ্ছে।

 

এদিকে এওচিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাবেক উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আবু ছালেহ বলেন ওসমান গরীব ঘরের সন্তান হলেও যুবক হিসেবে খুবই সহজ সরল পরিষদের সবাই তাকে পছন্দ করে,তার অনেক দিনের স্বপ্ন ছিলো সে ঘোড়ায় চড়ে চলাফেরা করবে সেটা,সে আস্তে আস্তে টাকা জমিয়ে অল্পটাকা দিয়ে একটা ঘোড়া কিনেছে তারা আশাপূরণ হওয়ার পাশাপাশি এলাকার কিছু বাচ্চাকাচ্চার বিনোদনের চাহিদাও পূরণ করছে এই ঘোড়া।

এদিকে চকিদার ওসমান গনির খুবই ঘনিষ্ঠ বন্ধু মিশফারুল আকবর জানিয়েছেন লোহাগাড়া উপজেলার বড়হাতিয়া ইউনিয়ন থেকে মাত্র ৩০হাজার টাকার বিনিময়ে ওসমান এই ঘোড়া ক্রয় করেন।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.