“চট্টগ্রাম বিভাগ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন ওনার্স এসোসিয়েশনের” উদ্যোগে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে আয়োজনে দেশে চলমান এলপি গ্যাস সংকটের কারণে পরিবহন খাত ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়েছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন।গত মঙ্গলবার এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন ওনার্স এসোসিয়েশন চট্টগ্রাম বিভাগের উদ্যোগে সংবাদ সম্মেলনে তারা উক্ত লিখিত বক্তব্য রাখেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সাধারন সম্পাদক মোঃ দিদারুল আলম উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি ও সাপ্তাহিক চট্টগ্রাম সংবাদ পত্রিকা এবং ন্যাশনাল গ্রুপের চেয়ারম্যান মঈন উদ্দিন, সহ- সভাপতি: আজিজুল হক, সহ-সভাপতি: সাজ্জাদ হোসেন, সহ-সভাপতি: বিলাওয়াল চৌধুরী, সহ-সভাপতি: সাইফুল ইসলাম, সহ-সভাপতি: শহিদুল আলম প্রমুখ এবং এলপিজি স্টেশন মালিকবৃন্দ।
মালিকবৃন্দরা বলেন, এলপিজি অটোগ্যাস একটি পরিবেশবান্ধব, সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী জ্বালানি যাহা সিএনজি, পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের বিকল্প হিসেবে যানবাহনে ব্যবহার হয়ে আসছে।
যানবাহনে এলপিজি ব্যবহারের বিভিন্ন সুবিধার জন্য সরকারের উৎসাহে সারাদেশের ৬৪ জেলায় প্রায় ১০০০ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন স্থাপিত হয়েছে এবং যার উপর ভিত্তি করে প্রায় দেড় লক্ষ গাড়ি এলপিজি’তে কনভার্ট হয়েছে।
বর্তমানে এলপিজি’র তীব্র সংকটের ফলে দেশের প্রায় সকল অটোগ্যাস স্টেশন কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে স্টেশন মালিক ও এলপিজি চালিত গাড়ির মালিকগণ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্টেশনে ঘুরেও গ্যাস না পাওয়ায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং যাত্রীসেবা মারাত্মকভাবে বিঘ্ন হচ্ছে ও যাত্রীরা হয়রানির শিকার হচ্ছে। বর্তমানে দেশে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি ব্যবহৃত হয়, যার মধ্যে যানবাহন খাতে ১৫ হাজার মেট্রিক টন অর্থাৎ ১০ শতাংশ ব্যবহৃত হয়। অথচ এই সামান্য পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়ায় পুরো এলপিজি অটোগ্যাস শিল্প আজ ধ্বংসের মুখে।তাই এ সংকট মোকাবিলায় নিম্নোক্ত দাবিসমূহ তুলে ধরেন :-
১) এলপিজি সরবরাহ কোম্পানীসমূহ (অপারেটর) যেন এলপিজি অটোগ্যাস এর চাহিদা অনুযায়ী এলপিজি সরবরাহ নিশ্চত করেন এব্যপারে
জ্বালানি মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা দেয়ার জন্য অনুরোধ করছি।
২) জ্বালানি মন্ত্রণালয় ও অন্যান্য সরকারি অথরিটি যেন এলপিজি আমদানি সংক্রান্ত কোন জটিলতা থাকলে তাহা সমাধান করেন এবং সুলভমূল্যে,
সহজলভ্য ও নিরবিচ্ছিন্নভাবে যাতে চাহিদা অনুযায়ী এলপিজি আমদানি করতে পারে সে ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
৩) অপারেটরের মাধ্যমে এলপিজি আমদানির ক্ষেত্রে সরকার যে লিমিট দেয় তা যেন প্রত্যাহার করা হয়। কারণ দেখা যাচ্ছে যে, অনেক অপারেটরের সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও লিমিটের কারণে অতিরিক্ত এলপিজি আমদানি করতে পারছে না।
আবার দেখা যাচ্ছে সক্ষমতা নাই কিন্তু লিমিট
আছে যার কারণে তারাও প্রয়োজন অনুযায়ী এলপিজি আমদানি করতে পারছেনা। তাই আমরা এলপিজি আমদানির ক্ষেত্রে লিমিট উঠিয়ে দিয়ে-উন্মুক্ত করার জন্য আবেদন করেন।
৪) বাংলাদেশে প্রায় ৩০ টি অপারেটরের এলপিজি স্টোরেজ আছে অথচ তারা বিভিন্ন কারণে আমদানি করতে পারে না তাই তাদের স্টোরেজ
ব্যবহার করে অপারেটর ব্যতীত অন্য আমদানিকারক যেন আমদানি করতে পারে তার সুযোগ দেয়ার জন্য অনুরোধ করেন। অতএব, দেশে চলমান এলপিজি অটোগ্যাস সংকট নিরসনে আমাদের দাবিসমূহ বিবেচনার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করেন।