ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন: লবণ আমদানি স্থগিত, চাষিরা পেল স্বস্তি
লবণ ও চাষির স্বনির্ভরতা রক্ষায় মাঠে মহেশখালীবাসী
মহেশখালী প্রতিনিধি | মো. হামিদ হোসাইন
ভরামৌসুমে লবণ আমদানি বন্ধের দাবিতে ঢাকা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছেন কক্সবাজারের মহেশখালীসহ উপকূলীয় অঞ্চলের লবণচাষি ও স্থানীয় বাসিন্দারা। মহেশখালী সমিতি–ঢাকার উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে লবণচাষি, শ্রমিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দেশে পর্যাপ্ত লবণ উৎপাদন থাকা সত্ত্বেও ভরামৌসুমে বিদেশ থেকে লবণ আমদানির সিদ্ধান্ত দেশের চাষি ও দেশীয় শিল্পের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এতে উৎপাদন খরচ বাড়লেও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় হাজারো লবণচাষি পরিবার অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। বিশেষ করে মহেশখালী অঞ্চলের অর্থনীতি লবণ শিল্পনির্ভর হওয়ায় আমদানি অব্যাহত থাকলে এই জনপদের মানুষ ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়বে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন লেখক ও চিন্তাবিদ ড. সলিমুল্লাহ খান। তিনি বলেন, ভরামৌসুমে লবণ আমদানি শুধু চাষিবিরোধী নয়, এটি দেশের অর্থনৈতিক স্বাধীনতার বিরুদ্ধেও যায়। দেশে যদি শিল্প বিকশিত না হয়, আমরা চিরকাল পরনির্ভরশীল থেকে যাব।”তিনি দেশীয় সম্পদ ও শ্রমের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে স্বনির্ভরতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁর মতে, এটি মূলত জাতীয় অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্বের লড়াই।
মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন আলমগীর ফরিদ (সাবেক সংসদ সদস্য), নদভী (এমপি প্রার্থী), সিআইপি আব্দুশশুক্কুর, সচিব আবুল হাসেম, জয়নাল আবেদীন (সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান), মহেশখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি, মহেশখালী সমিতি–ঢাকার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, মো. আলী এবং রাশেদুল ইসলামসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।
কর্মসূচি শেষে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আমদানি বিভাগের প্রধান মৌখিকভাবে লবণ আমদানির সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখার কথা নিশ্চিত করেন। মানববন্ধনের প্রায় দুই ঘণ্টার মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত জানানো হলে লবণচাষিদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, অবিলম্বে লবণ আমদানি বন্ধ করা, দেশীয় লবণের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং লবণচাষিদের জন্য প্রণোদনা ও সহায়তা বাড়ানো জরুরি। তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও নীতিনির্ধারকদের প্রতি মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। অন্যথায় লবণচাষিদের জীবন–জীবিকা রক্ষায় আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন বলেও মানববন্ধন থেকে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়।
কর্মসূচি শেষে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, লবণ আমদানি স্থগিতের ঘোষণায় সাধারণ মানুষ ও লবণচাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে। আলহামদুলিল্লাহ—এই অনুভূতিই আজ মহেশখালীসহ উপকূলীয় জনপদে প্রতিফলিত হচ্ছে।