রাঙ্গুনিয়ায় গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে অবৈধ ইটভাটার ড্রাম চিমনি, জরিমানা ৬ লাখ : পূনরায় চালু

 

স ম জিয়াউর রহমান, চট্টগ্রাম থেকে :

রাঙ্গুনিয়ায় ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে অনুমোদনহীন একটি ইটভাটার ক্ষতিকর ড্রাম চিমনি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে এবং পাশের অন্য একটি ইটভাটাকে ৬ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

 

গত বছরের ১০ই ফেব্রুয়ারী  বিকালে উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের বানিয়াখোলা এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান। অভিযানে সহযোগিতা করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয় ও রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার পুলিশ।

 

ভ্রাম্যমাণ আদালত সুত্রে জানা যায়, উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের বানিয়াখোলা এলাকায় অনুমোদনহীন ইটভাটা পরিচালনায় পরিবেশ ধ্বংসকারী ড্রাম চিমনি দ্বারা ইট পোড়ানোর কাজে কাঠ ব্যবহার করায় একটি ইটভাটার ক্ষতিকর ড্রাম চিমনি ধ্বংস করা হয়। এছাড়াও একই এলাকায় অবৈধভাবে পাহাড় কেটে ধ্বংস করা, জ্বালানি হিসেবে বনের কাঠ ব্যবহার ও কৃষি জমির টপসয়েল কাটার অপরাধে একটি ইটভাটাকে ইটপ্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৩ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় ছয় লক্ষ টাকার জরিমানা করা হয়। পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে জানান।

 

এদিকে গতকাল ২৬ জানুয়ারি রবিবার বিকেলে এ এলাকা ও ইটভাটা পরিদর্শন করেন চট্টগ্রামের পরিবেশ, জলবায়ু কৃষি ও সেবামূলক সংগঠন গ্রীন চট্টগ্রাম এ্যালায়েন্স। সংগঠনের পরিদর্শন টিম সরেজমিনে দেখতে পায় রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের বানিয়াখোলা এলাকায় পাহাড়ের পাদদেশে কেবিএম ও কেআরএম নামক দুটো ইটভাটা। এখানে ইটভাটা দুটোর অবস্থান দেখে নিশ্চিত করতে হবে, সেখানেই ইটভাটা হতে পারে না। এছাড়াও ড্রাম চিমনি দিয়ে ইট পোড়ানো হচ্ছে এবং জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বনের কাঠ। ইটভাটা দুটোতে প্রায় কোটি টাকার মতো বনের কাঠ মওজুদ রয়েছে ইটভাটার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের জন্য।

 

অনুসন্ধানে জানা যায়, ইটভাটা দুটোর মালিক বেতাগী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলা বিএনপি নেতা মো : জাহাঙ্গীর আলম।

 

ইটভাটা ও ইট পোড়ানোর বনের কাঠ মওজুদ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা বিএনপি করি, আমার নেতা হুমাম কাদের। তিনি সব জানেন, নেতার নাম বললেই প্রশাসনের কেউ কিছু করতে পারবে না। তিনি আরও দাম্ভিকতার সুরে বলেন, হুমাম কাদের এর নাম বাগেও ভয় পায়, আপনি আর কি করতে পারবেন।

 

এদিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য ও রাঙ্গুনিয়া থেকে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী হুমাম কাদেরের কাছে এ বিষয় নিয়ে জানতে মুঠোফোনে অনেক কল করলেও তিনি কল না ধরায় কোন মতামত নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার একাধিক বিএনপি ও যুবদলের নেতা নাম প্রকাশ না করা শর্তে জানান, আমাদের নেতা হুমাম কাদের বলেছেন – আমার নাম ব্যবহার করে কেউ অন্যায় করলে তার দায়ভার তাকেই নিতে হবে। যেহেতু পরিবেশের ক্ষতি করে আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করেছেন, তার দায়ভার তাকেই নিতে হবে।

 

এদিকে অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, এসব অবৈধ ইটভাটা গুলো রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার ভূমি কে ম্যানেজ করে চালানো হচ্ছে। নাম প্রকাশ না করে অনেকে বলেছেন এসব অবৈধ ইটভাটা গুলো থেকে দুই তিন লাখ করে ঘুষ নিয়েছেন তারা। এজন্য প্রশাসন নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছে এবং অবৈধভাবে ইটভাটা গুলো চলছে দেদারসে।

 

গ্রীন চট্টগ্রাম এ্যালায়েন্সের সদস্য সচিব ও পরিবেশ সংগঠক স ম জিয়াউর রহমান বলেন, পরিবেশের ক্ষতি যত বড় ক্ষমতাবান ব্যক্তি করুক, তার কোন ছাড় নেই। তার বিরুদ্ধে আইনের প্রয়োগ করতে হবে এবং পরিবেশ বাচাতে হবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.