ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে অপপ্রচার ও প্রোপাগাণ্ডা বিষয়ে আমার সুস্পষ্ট বক্তব্য
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে গণসংযোগ করতে গিয়ে লক্ষ্য করছি—আমাকে ঘিরে কিছু উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য ছড়ানো হচ্ছে।
জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে এসব বিষয়ে আমার অবস্থান পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন মনে করছি।
⸻
১️⃣ অপপ্রচার
“শফিকুল ইসলাম রাহীকে কেন্দ্র থেকে বৈঠক করে বসিয়ে দেওয়া হবে।”
আমার বক্তব্য:
বাস্তবতা হলো—আমাকে ইতোমধ্যেই দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বর্তমানে আমি কোনো রাজনৈতিক দলের প্রাথমিক সদস্যও নই।
অতএব, দলীয় কাঠামোর বাইরে থাকা একজন মানুষ হিসেবে কোনো কেন্দ্রীয় বা প্রভাবশালী নেতার অনুরোধ কিংবা নির্দেশ মানতে আমি সাংগঠনিকভাবে বাধ্য নই।
আমি এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছি সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে, একমাত্র জনগণের শক্তিকে ভরসা করে।
⸻
২️⃣ অপপ্রচার
“শফিকুল ইসলাম রাহী ভোটের আগেই অন্য প্রার্থীর সঙ্গে সমঝোতায় যাবেন।”
আমার বক্তব্য:
সমঝোতা অবশ্যই হবে—তবে তা ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালের নির্বাচনের পর, ইনশাআল্লাহ।
ভোটের আগে কোনো প্রকার আপস বা সমঝোতার প্রশ্নই আসে না।
কারণ, আমি এই নির্বাচনে নেমেছি জনগণের রায় জানার জন্য, কোনো দরকষাকষির জন্য নয়।
⸻
৩️⃣ অপপ্রচার
“শফিকুল ইসলাম রাহী এলডিপি ও জামায়াতের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য নির্বাচন করছেন।”
আমার বক্তব্য:
আমি গত ১৭–১৮ বছর ধরে টানা সক্রিয় রাজনীতি করেছি কোনো দল, গোষ্ঠী কিংবা বিশেষ এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য নয়।
আমি একজন কৃষক ঘরের গরিব সন্তান হলেও আত্মমর্যাদাবোধ কী, তা আমি ভালোভাবেই বুঝি—আলহামদুলিল্লাহ।
দীর্ঘদিন আমি বিএনপির রাজনীতি করেছি একটি স্পষ্ট লক্ষ্য ও আদর্শ নিয়ে।
অনেকে হয়তো ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর জনগণের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, কিন্তু আমার জয়–পরাজয় যাই হোক না কেন—
জনগণের সঙ্গে আমার সামাজিক সম্পর্ক ও সংযোগ মৃত্যুর আগ পর্যন্ত অটুট থাকবে, ইনশাআল্লাহ।
আমার পথচলা নির্বাচনের আগে যেমন ছিল, নির্বাচনের পরেও ঠিক তেমনই থাকবে।
আমার নির্বাচন করার মূল উদ্দেশ্য হলো—
✔️ স্বাভাবিক ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায়
✔️ আমার রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থানকে পরিষ্কার করা
কোনো নির্দিষ্ট দলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা নয়।
⸻
৪️⃣ অপপ্রচার
“শফিকুল ইসলাম রাহী ১২ তারিখ ভোটের দিন পর্যন্ত কন্টিনিউ করবেন না।”
আমার বক্তব্য:
আমার সৃষ্টিকর্তা যদি ১২ ফেব্রুয়ারির আগে আমাকে মৃত্যু না দেন, তাহলে পৃথিবীর কোনো শক্তিই আমাকে এই নির্বাচন থেকে সরিয়ে রাখতে পারবে না—ইনশাআল্লাহ।
আমি ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবোই করবো, ইনশাআল্লাহ।
⸻
✊ শেষ কথা
আমি চট্টগ্রাম–১৪ (চন্দনাইশ–সাতকানিয়া আংশিক) এলাকার মানুষের পাশে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে থাকার চেষ্টা করেছি—স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে ভোট চাইবার জন্য নয়।
আমি মূলত বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছি, সে হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মাঠে কাজ করাই ছিল আমার লক্ষ্য।
ধানের শীষ প্রতীক আমাকে না দিয়ে যদি বিগত দুঃসময়ের কোনো একজন রিকশাওয়ালাকেও দেওয়া হতো, আমরা তাতেই সন্তুষ্ট থাকতাম।
কিন্তু এখন এমন একজনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, যিনি বহুমুখী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং যিনি সব সময় ক্ষমতাসীন দলের পক্ষে থাকতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
এই প্রতীক, এই মনোনয়ন এবং এই ধরনের নেতা নির্বাচনের কঠোর প্রতিবাদ হিসেবেই
আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছি।
আমি ভয়, চাপ কিংবা অপপ্রচারের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না।
আমি বিশ্বাস করি—জনগণই ঠিক করবে ৮ জন প্রার্থীর মধ্য থেকে কাকে সংসদে পাঠাবে।
সেই জনগণের রায় মাথায় নিয়েই আমি শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকবো, ইনশাআল্লাহ।
সত্যের পক্ষেই শেষ পর্যন্ত বিজয় হবে।