সহকারী নিরাপত্তা পরিচালকের আচরণে নিরাপত্তাহীনতায় ‘বিউবি চট্টগ্রাম’

সহকারী পরিচালক হাসনাইন কান্ড,নিরাপত্তা প্রহরী দিয়ে চালাচ্ছেন গাড়ী ও অফিস

 

সৈয়দ আককাস উদদীন, চট্টগ্রাম থেকে 

​বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) চট্টগ্রামের নিরাপত্তা ও অনুসন্ধান বিভাগের সহকারী -পরিচালক হাসনাইনের বিরুদ্ধে উঠেছে ক্ষমতার অপব্যবহার ও নিয়মবহির্ভূত সুযোগ-সুবিধা বণ্টনের পাহাড়সম অভিযোগ।

সাধারণ নিরাপত্তা প্রহরীরা যখন জনবল সংকটে ১২ ঘণ্টা ডিউটি করে হিমশিম খাচ্ছেন, তখন হাসনাইনের ‘ঘনিষ্ঠ’ কয়েকজন কর্মী ডিউটি না করেই পাচ্ছেন অতিরিক্ত কর্মঘণ্টার মজুরি ও বিশেষ সুবিধা।তিনি ​পছন্দের লোকজনকে বিশেষ সুবিধা প্রদান করেন।

​অভিযোগ রয়েছে, সহকারী -পরিচালক হাসনাইন তার পছন্দের ও সুবিধা প্রদানকারী ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ বা আরামদায়ক স্থানে পদায়ন করেন। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত নাম নিরাপত্তা প্রহরী আব্দুল মান্নান।কিন্তু ​কাগজে-কলমে ডিউটি অন্যত্র হলেও তিনি সহকারী পরিচালক হাসনাইনের পিএস হিসেবে ভূমিকা পালন করেন

মূলত মান্নানের ডিউটি রোস্টার অন্য দপ্তরের প্রহরী হিসেবে দেখানো হলেও বাস্তবে তিনি সারাদিন কাটান হাসনাইনের কক্ষে ‘অফিস সহকারী’ হিসেবে।

মান্নান নিরাপত্তা প্রহরী হলেও পাচ্ছেন ​অযাচিত ভাতা, এবং তিনি ১০টা-৫টা অফিস করার পাশাপাশি শিফটিং অ্যালাউন্স এবং প্রতি মাসে ১০০ ঘণ্টা অতিরিক্ত কর্মঘণ্টার (ওভারটাইম) সুবিধা ভোগ করছেন। এছাড়া হাসনাইনের কারণে নিরাপত্তা প্রহরী মান্নান শুক্রবার ও শনিবার নিয়মিত ছুটিও পাচ্ছেন যা অন্য সিকিউরিটি গার্ডরা কল্পনাও করতে পারেননা।

​একই চিত্র দেখা গেছে হাসনাইনের ব্যক্তিগত গাড়িচালক মনির-এর ক্ষেত্রেও। তিনিও একজন নিরাপত্তা প্রহরী হওয়া সত্ত্বেও মূল দায়িত্ব পালন না করে সহকারী -পরিচালকের গাড়ি চালান। মান্নানের মতো তিনিও ১০টা-৫টা ডিউটি, ওভারটাইম এবং সাপ্তাহিক ছুটির সব সুবিধা ভোগ করছেন, যা সাধারণ নিরাপত্তা প্রহরীদের ক্ষেত্রে কল্পনা করাও কঠিন।

​সাধারণ কর্মচারীদের আর্তনাদ ও বৈষম্য
​বিউবোর বিভিন্ন দপ্তর ও সাব-স্টেশনে নিরাপত্তা প্রহরীদের হাহাকার দীর্ঘদিনের। জনবল সংকটের কারণ দেখিয়ে সাধারণ প্রহরীদের দিনে ৮ ঘণ্টার পরিবর্তে বাধ্যতামূলকভাবে ১২ ঘণ্টা ডিউটি করতে হচ্ছে।এমনকি সাপ্তাহিক ছুটি পর্যন্ত ভোগ করা বন্ধ!
​”এমন অনেক সাব-স্টেশন আছে যেখানে মাত্র একজন প্রহরীকে পুরো নিরাপত্তা সামলাতে হচ্ছে।

তবুও নিরাপত্তা প্রহরীরা সেই কঠিন দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন কিন্তু একই ছাতার নিচে সকল সিকিউরিটি গার্ড একই সুবিধা না পেয়ে দুই তৃতীয়াংশ সিকিউরিটি গার্ড হচ্ছেন সহকারী নিরাপত্তা পরিচালক হাসনাইনের রোষানলের শিকার।

এসব অভিযোগের বিষয়ে সহকারী নিরাপত্তা পরিচালক হাসনাইনের মুঠোফোনে কল করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এদিকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় চীফ ইন্জিনিয়ার মো: কামাল উদদীনকে কল করা হলে তিনি বিষয়টা তার নিয়ন্ত্রণাধীন নয় বলে মন্তব্য করে সিকিউরিটি ডিরেক্টরের বিষয় বলে জানিয়েছেন।

মহা পরিচালক নিরাপত্তা ও অনুসন্ধান বেগ নাছির জাহানের সাথেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

 

এদিকে বিউবি চট্টগ্রামে কর্মরত একাধিক নিরাপত্তা প্রহরী প্রতিবেদককে বলেন,খুব দ্রুত যদি এই বৈষম্যের অবসান না হয় তাহলে আমরা সিকিউরিটি ডিরেক্টর বরাবর স্মারকলিপি প্রদানসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করতে বাধ্য হবো।

 

চলমান পর্ব-০১

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.