মো. সেলিম উদ্দিন খাঁন
জামায়াতে ইসলাম ও আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবীদের বর্জনের মধ্যে হওয়া চট্টগ্রামের জেলা আইনজীবী সমিতি নির্বাচনে পূর্ণ প্যানেলে জয় পেয়েছেন বিএনপিপন্থিরা এরমধ্যে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের তারিক আহমদ; সাধারণ সম্পাদক পদে জিতেছেন একই ফোরামের মো. মঈনুদ্দীন। বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে মুখ্য নির্বাচন কর্মকর্তা রৌশন আরা বেগম ফল ঘোষণা করেন।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম পূর্ণ প্যানেলে বিজয়ী হয়েছে। সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ ৯ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।“একটি সহ-সভাপতি ও ১১টি সদস্য পদে ভোট হয়েছে। জামায়াত ইসলামীর প্যানেল থেকে এসব পদে যারা প্রার্থী ছিলেন, তারা প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেননি। মোট ২ হাজার ১৬০ জন সদস্য ভোট দিয়েছেন।” বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অন্যদের মধ্যে নির্বাচিত হয়েছেন- জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি পদে সেলিমা খানম, সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে মো. নজরুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক পদে আবুল মনছুর সিকদার, পাঠাগার সম্পাদক তৌহিদ হোছাইন সিকদার, সাংস্কৃতিক সম্পাদক বিলকিস আরা মিতু, ক্রীড়া সম্পাদক মো. সরোয়ার হোসাইন এবং তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে মো. লোকমান শাহ। সবাই জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের প্রার্থী। সহ-সভাপতি পদে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নিলুফার ইয়াসমিন লাভলী ১৭৬৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বি জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদের প্রার্থী মো. নেজাম উদ্দিন পেয়েছেন ২৪০ ভোট। এছাড়া সমিতির ১১টি সদস্য পদে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আলী আকবর, দিদারুল আলম, দিলদার আহমদ ভুঁইয়া, মো. ইকবাল হোসেন, মো. জসিম উদ্দিন, মোহাম্মদ হাসান, মোকতার উদ্দিন, মোমিনুল হক, সাদিয়া খান, সাইফুল ইসলাম ও শেখ মোহাম্মদ ফয়সাল উদ্দিন জয়ী হয়েছেন। এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনের মিলনায়তনে ভোটগ্রহণ হয়।
এবারের নির্বাচনে বিএনপিপন্থি জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের প্রার্থীরা অংশগ্রহণ করলেও ভোট বর্জনের ঘোষণা দেয় জামায়াতে ইসলামীপন্থি আইনজীবীদের সংগঠন ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদ।
ভোট গ্রহণ চলাকালে আদালত ভবন এলাকায় সোনালী ব্যাংক চত্বরে ভোট গ্রহণের প্রতিবাদে সমাবেশ করেন ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদের সমর্থকরা। পরে আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবীরাও আইনজীবী সমিতি ভবনের নিচে অবস্থান নিয়ে একতরফা ভোটের প্রতিবাদ জানায়। ‘একতরফা’ নির্বাচনের প্রতিবাদে এর আগে বুধবার চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে মিছিল করেন আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবীরা। অন্যদিকে নির্বাচন স্থগিত চেয়ে আদালতে জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত আইনজীবীদের করা আবেদন নামঞ্জুর করে আদালত।
এরপর বিকালে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির বিদায়ী কমিটি থেকে পদত্যাগ করেন জামায়াত ইসলামী সমর্থিত সাত আইনজীবী। বৃহস্পতিবারের ভোট বর্জনেরও ঘোষণা দেয় ‘ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদের’ ১২ প্রার্থী। এর আগে মঙ্গলবার চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের জন্য গঠিত নির্বাচন কমিশন বাতিল চেয়ে ও নতুন তফসিল ঘোষণার জন্য জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত আইনজীবীদের আবেদনে হওয়া সমিতির তলবি সভায় তাদের প্রস্তাব কণ্ঠ ভোটে নাকচ হয়ে যায়। আওয়ামীপন্থি আইনজীবীদের অভিযোগ, মনোনয়ন ফরম বিতরণের দিন সমিতির লাইব্রেরির মূল ফটক বন্ধ রেখে তাদের ফরম নিতে দেওয়া হয়নি। এবার বাছাই শেষে সমিতির ২১টি পদের মধ্যে ৯টি পদে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিল না। বাকি ১২টি পদের প্রতিটিতে দু’জন করে প্রার্থী ছিল। বাছাই শেষে নির্ধারিত সময়ে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ না করায় এবং বাছাইয়ে ৯টি পদে জামায়াতপন্থি ৯ জনের প্রার্থীতা বাতিল করায় তারা নির্বাচন কমিশনকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দেয়।