পূর্ব তারা ডেস্ক
চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র শিল্পপতি এম মনজুর আলমের সাথে এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহর সাক্ষাৎ নিয়ে রাজনীতি পাড়া এখন উত্তপ্ত। মনজুর ইস্যুতে সৃষ্ট এই উত্তাপ চট্টগ্রাম ছাড়িয়ে ঢাকার রাজনীতিকেও প্রভাবিত করছে। আওয়ামী লীগ, বিএনপি-তে খেলার পর এখন তিনি নতুন ক্লাব এনসিপি-তে যোগ দিচ্ছেন। এনসিপি’র চট্টগ্রাম মহানগরের আহ্বায়ক হিসেবে তাকে নেয়ার জন্য দলটির শীর্ষ পর্যায় থেকে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এমনকি আগামী চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে এনসিপি’র টিকিটে তিনি মেয়র ইলেকশনও করতে পারেন। রাজনীতির মাঠে মনজুর আলমের এমন যাদুকরী খেলা দেখে বিএনপি-এনসিপিতে রীতিমত স্নায়ুযুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। একে অপরের উইকেট লক্ষ্য করে ছুড়ে যাচ্ছেন বল। তবে খেলার শেষ পরিণতি কি হয়- তা দেখতে করতে হচ্ছে অপেক্ষা।
এনসিপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগরের আহ্বায়ক ও দলীয় টিকিটে মেয়র ইলেকশন; দুইটি প্রস্তাব নিয়ে দলটির হাইকমান্ড মনজুর আলমের সাথে মার্চ থেকেই যোগাযোগ শুরু করেছে। সেই সূত্রে রমজান মাসে এনসিপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির ইফতার মাহফিলে মনজুর আলমের পক্ষ থেকে বড় অংকের অনুদানও প্রদান করা হয়েছে। আবার এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগর কমিটিতে মনজুর আলমকে আহ্বায়ক করে ১৫১ সদস্যের কমিটির একটি খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে।
এনসিপিতে যোগদান পাশাপাশি চসিক মেয়র পদে মনজুর এনসিপির প্রার্থী হতে পারেন এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন এনসিপির ছাত্র সংগঠন হিসেবে পরিচিত জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার। ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘সাবেক মেয়র মনজুর এনসিপির সমর্থনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন থেকে নির্বাচন করতে চাচ্ছেন। বিএনপি যেখানে অন্তর্কোন্দলে বিভক্ত সেখানে এনসিপির শক্তিশালী ক্যান্ডিডেট তাদের ভয়ের কারণ হবে এটাই স্বাভাবিক।’
এনসিপির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, চট্টগ্রামে একজন শক্তপোক্ত নির্ভরযোগ্য পৃষ্টপোষক প্রয়োজন। সেই পরিকল্পনা থেকেই মনজুর আলমের সাথে ঘনিষ্টতা সৃষ্টি করেছে দলটি। তাঁর মত একজন দলে থাকলে দল চালাতে বেগ পেতে হবে না। তাই চট্টগ্রামে অবস্থান শক্ত করতে মহানগরের কমিটিতে আহ্বায়ক করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে তাকে। আহ্বায়ক হিসেবে দলীয় টিকিটে মনজুর আলমকে সিটি নির্বাচনে দাঁড় করাতে চায় এনসিপি। এ বিষয়ে আলোচনা করতে চট্টগ্রামে এসেছিলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। এমনকি ওইদিন সকালে হাসনাত প্রথমে চান্দগাঁও হামিদচরে দলের কয়েকজন নেতার সাথে এনিয়ে বৈঠক করেন বলে জানা গেছে।
এ নিয়ে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, ‘ যারা গত ১৬ বছর ধরে ফ্যাসিবাদকে লালন পালন করেছে। আওয়ামী সন্ত্রাসী কার্যকলাপের পৃষ্টপোষকতা করে এসেছে, আজ তাদেরকে পুনর্বাসিত করার ভূমিকায় দেখছি জুলাই যোদ্ধাদেরকে। মনজুর আলমের বাসায় হাসনাত আবদুল্লাহর উপস্থিতি কেন ? এটা জাতি জানতে চায়। হাসনাত আবদুল্লাহরা নিজেদের জুলাই-আগস্টের যোদ্ধা হিসেবে দাবি করেন। সংসদে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে কথা বলেন। অথচ তারাই আবার সেই ফ্যাসিবাদিদের তোষামোদ করছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।’
নগর বিএনপি সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর বলেন, যাদের কাছে দল নেই। নীতি নেই, আদর্শ নেই। তাদেরকে মানুষ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করবে।
তবে মনজুর আলম এমন একটি মুখ; যিনি দল নয়, ব্যক্তিপ্রধান এক রাজনীতিক। তিনি দলীয় টিকিটে যেমন নির্বাচন করেছেন। তেমনি স্বতন্ত্র হিসেবেও নির্বাচন করেছেন। সমাজসেবায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকার কারণে চট্টগ্রামে তার একটি গ্রহণযোগ্য অবস্থান রয়েছে। মোস্তফা হাকিম ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
এ বিষয়ে এম মনজুর আলম বলেন, হাসনাত আবদুল্লাহর চট্টগ্রামে একটি প্রোগ্রাম ছিল। ওই প্রোগ্রাম সেরে তিনি আমার বাসায় মেহমান হিসেবে এসেছেন। আমি তাকে আপ্যায়ন করিয়েছি। গুণীজনকে সম্মান করি আমি। এটাকে অনেকে রাজনীতির রূপ দেয়। রাজনীতি না করেও সমাজসেবা করা যায়।
মেয়র নির্বাচনে অংশগ্রহন নিয়ে তিনি দল বা স্বতন্ত্র খোলাখুলি কিছু না বললেও ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, ‘এখনও সময় আছে। দেখা যাক, আল্লাহ ভরসা।’