অধ্যক্ষ তাজুল চেয়ার ছেড়ে দিলেও দেয়নি হাতিয়ে নেওয়া অর্থ,গিলেছেন মাহফিলের টাকাও
মামলার ভয়ে মুখ খোলেনা কোন শিক্ষক,সংবাদ করেনা স্থানীয় সাংবাদিকরা-
পীরে তাজুল, চট্টগ্রাম থেকে
২০২৪সালের ৫ই আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া কালিয়াইশের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রসুলাবাদ ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার প্রশাসনিক ও শিক্ষাদানের পরিবেশে চরম অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা এবং মূল অধ্যক্ষকে জোরপূর্বক মাদ্রাসায় আসতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে মাদ্রাসার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এবং প্রতিষ্ঠানের কল্যাণে পূর্বের বৈধ অধ্যক্ষকে স্বসম্মানে তাঁর আসনে পুনর্বহালের জন্য নিয়ে আসেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষক,অভিভাবক ও সর্বস্তরের জনগণ সহ সকলে পুষ্পমাল্য দিয়ে বরণ করে নিয়েছেন মূল অধ্যক্ষ জনাব আহমদ রেজা কে বরণ করে নেন।
অভিভাবক, স্থানীয় বাসিন্দা ও মাদ্রাসা সংশ্লিষ্টদের সূত্রে জানা যায়, ২০২৪সালের ৫ই আগস্টের পরবর্তী বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তাজুল ইসলাম একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন।
অভিযোগ রয়েছে, তিনি সম্পূর্ণ অনৈতিকভাবে ও জোরপূর্বক মূল অধ্যক্ষ মহোদয়কে মাদ্রাসায় প্রবেশ করতে দিচ্ছেন না এবং তাঁকে তাঁর দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করে আসছেন,যা ১৮৬০সালের পেনাল কোড ৩৫৩ ধারা মোতাবেক সরকারি কাজে বাধা প্রদানের সুস্পষ্ট অপরাধ।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্বে বসার পর থেকেই প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন প্রশাসনিক ও আর্থিক অনিয়ম দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। তাঁর এমন নীতিবর্হিভূত কর্মকাণ্ডে মাদ্রাসার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন।তারা আরো জানান,বেশ কিছু মাদরাসার গাছ বিক্রি করে ,ফ্যান বিক্রি করে, এবং মাদ্রাসার বার্ষিক আয় -ব্যয় এর হিসাব না দেওয়া,এবং হিসেব চাইলে মামলার হুমকি প্রধান করতেন তিনি (ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তাজুল ইসলাম)।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাদ্রাসার একাধিক শিক্ষক জানান,
”একটি দ্বীনি ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এভাবে কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত স্বার্থে চলতে পারে না। জোরপূর্বক মূল অধ্যক্ষকে দূরে রেখে যে পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে, তাতে আমরা শিক্ষকরাও স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারিনি।
মাদ্রাসার সাধারণ ছাত্র-ছাত্রী ও স্থানীয় সচেতন জনগণ সূত্রে জানা যায়, রসুলাবাদ ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার সুনাম ধরে রাখতে এবং চলমান অচলাবস্থা নিরসনে দল-মত নির্বিশেষে সকলে আজ ঐক্যবদ্ধ হয়ে আজ আমাদের মূল অধ্যক্ষ জনাব মাওলানা আহমদ রেজা নক্সবন্দী তার কর্মস্থলে নিয়ে এসেছি।
তারা আরো বলেন, স্থানীয় সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে লক্ষ করেন, হুজুরের আগমনে ছাত্র-ছাত্রী শিক্ষক মন্ডলী সকলের মূখে আনন্দ মূখর পরিবেশ ফিরে এসেছে।
অধ্যক্ষ আহমদ রেজা বলেন,আমি দীর্ঘ দিনের বেশি সময় ধরে আমার প্রিয় প্রতিষ্ঠানে কর্মস্থলে যুক্ত থাকতে পারিনি। আমার এই অনুপস্থিতি নিয়ে আমার বহু দ্বীনি ভাই, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং আপনজনেরা বিভিন্ন সময় গভীর দুঃখ ও আফসোস প্রকাশ করেছেন—আজ উপস্থিত হয়ে আপনাদের যে আন্তরিকতা ভালোবাসা ও সহানুভূতি আমার হৃদয়ে আজীবন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।আমি আমার পরবর্তী চাকরি জীবন অত্র মাদরাসার সবাইকে সাথে নিয়ে খাদেম হিসেবে বাকি জীবন অতিবাহিত করতে চাই। সকলের দোয়া ও সহযোগিতা চাই।
অধ্যক্ষ আহমদ রেজা আরো বলেন, জোর করে আমাকে বিধি বহির্ভূত সরিয়ে এমন কোন দূর্নীতি বাদ যায়নি সে(তাজুল)করেনি।
মাদ্রাসায় ফিরে আসা আসল অধ্যক্ষ আহমদ রেজা জানান,তাজুল ইসলাম ২০/৮/২০২৪ ইং তারিখে মাদ্রাসা র উপাধ্যক্ষকে জোরপূর্বক পদত্যাগ করিয়ে গত ২১/৮/ ২০২৪ ইং তারিখে অধ্যক্ষ আহমদ রেজা হতে দশলাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে
মব করার হুমকি দিয়ে প্রতিষ্ঠানে যেতে বাধা দেন।
এরপর মব করে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি ১২,ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের বিধি ১৩ লঙ্ঘন করে তথ্য গোপন করে নিজে নিজেই ভুয়া ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সাজে।
গত ২১/৯/২০২৫ ও ২৩/৯/২০২৫ ইং দুটি ভূয়া রেজুলেশন করে বৈধতা নেন।এরপর নিয়মিত ভাবে মাদ্রাসার টাকা লুটপাট করতে থাকেন।
গত ১৭/৭/২০২৫ ইং তারিখে দোহাজারী জনতা ব্যাংকের মাদ্রাসার একাউন্ট থেকে ১৮৮৮৭০ টাকা তুলে খেয়ে ফেলেন। পরে তার সহযোগীদের ভাগবাটোয়ারায় গরমিল হলে কতিপয় একজনের সহযোগিতার অভিযুক্ত তাজুলকে মাদ্রাসা বেধে রাখেন। পরে তাজুলের স্ত্রী এসে মুছলেকা দিয়ে মুক্ত করেন।
গত ১২/৯/২০২৫ ইং তারিখে অভিযুক্ত তাজুল ইসলাম এডহক কমিটির সভপতিকে বাদ দিয়ে আরেকটি ভূয়া রেজুলেশন করেন।এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিক্ষা ও আইসিটি তাকে প্রতারক হিসেবে গ্রেফতার করতে চাইলে তিনি পায়ে ধরে ক্ষমা চেয়ে পালিয়ে আসেন বলেও জানিয়েছেন বর্তমানে দায়িত্বে আসা অধ্যক্ষ আহমদ রেজা।
অধ্যক্ষ আহমদ রেজা আরো বলেন, মব সৃষ্টি করে মাদ্রাসার উন্নয়নকারী অধ্যক্ষকে মাদ্রাসায় আসতে না দিয়ে মাদ্রাসা ফান্ডের জমা টাকা বিভিন্ন অজুহাতে তছরুপ করেন।তাছাড়া মাদ্রাসার বিগত দুই সভার ইনকাম সে মাদ্রাসার একাউন্টে জমা দেন নাই,কিন্তু ছাত্ররা টাকাগুলো হিসাব চাইলে তিনি তাদের মামলার ভয় দেখান।তাজুল ইসলাম মব সৃষ্টি করে মাদ্রাসা প্রায় ৮০টি পরিবেশ বান্ধব গাছ অহেতুক বিক্রি করে টাকা লুটপাট করে তার সহযোগীসহ ভাগবাটোয়ারা করে খেয়ে ফেলেন।গাছ বিক্রি পয়সা কোন খাতে খরচ করেছেন তার কোন খাত তিনি লিপিবদ্ধ করেননি।শুধু তাই নয় তাজুল ইসলাম রসুলাবাদ মাদ্রাসা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী সরকারি প্রাইমারী স্কুলের গাছগুলোও মবকরে বিক্রি করেন এবং উক্ত বিদ্যালয়ের ছেলেদের সহজ চলাচলের রাস্তাও বন্ধ করে দেন।
আরো অভিযোগ করে তিনি বলেন, তাজুল ইসলাম নিয়মিত মাদ্রাসায় আসেন না।কেউ জিজ্ঞেস করলে কেন মাদ্রাসায় আসেনি তখন তিনি জবাব দেন তিনি মাদ্রাসার কাজে ঢাকা গেছে। অথচ উক্ত সময়ে অন্য সাবেক ছাত্ররা তাজুলকে কেরানিহাট বা চট্টগ্রাম শহরে ঘুরাঘুরি করতে দেখেন।আর ঢাকা গেছেন বলে মাদ্রাসার টাকা ভাউচার করে খরচ দেখান।
তাজুল ইসলাম বিগত মাদ্রাসার বার্ষিক সভায় ক্রেষ্ট বানিজ্য করেও প্রতিজন ব্যক্তি হতে পাঁচ হাজার টাকা নেন।সেগুলোর হিসাব চাইলে তিনি তাদের বিরুদ্ধে রেগে গিয়ে মামলার ভয় দেখান।
তাজুলের দূর্নীতি এখানেই শেষ নয়, তাজুল ইসলাম পাশ্ববর্তী এতিমখানায় মব করে দখল করে সেখানেও বিগত কয়েক বছরের কোরবানির পশুর ছদকার ছামড়াগুলো বিক্রি করে এতিমখানার ফান্ডে জমা না দিয়ে সে ভাগকরে আত্মসাৎ করেন।
উক্ত বিষয়ে হেফজখানার সাবেক শিক্ষক হাফেজ কফিল উদ্দিন প্রতিবাদ করলে তাকেও মব করে বের করে দেন,তিনি এখন অন্য মাদ্রাসায় চলে যান।
এদিকে অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, এই তাজুলের অনিয়মের বিরুদ্ধে নিউজ করার কারণে অন্তত গত ১০বছরে ৬জন সাংবাদিককে মামলার ভয় দেখিয়ে লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করেন।শুধু তাই নয় ২০২২সালে তাজুলের দূর্নীতির বিরুদ্ধে নিউজ করায় ২০২৫সালে এসে সাতকানিয়ার এক সাংবাদিককে মামলায় ভয় দেখিয়ে লিগ্যাল নোটিশ দিয়ে চাঁদা দাবী করেছেন।