বাঁশখালীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫১০ পরিবারের মাঝে আর্থিক অনুদান দিলেন প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম
জামায়াত অকৃতজ্ঞ দল , খালেদা জিয়ার দেওয়া মন্ত্রিত্বের কথা ভুলে গেছে
মুহাম্মদ মিজান বিন তাহের, বাঁশখালী চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন,
জামায়াত হল অকৃতজ্ঞ একটি দল ২০০১ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া জামায়াতের দুই নেতাকে মন্ত্রী করেছিলেন। ‘রাজাকারের তকমা’ দূর করার চেষ্টা করা জন্য মূলত তাদের মন্ত্রী করা হয়েছিল। কিন্তু জামায়াত এখন সেসব কথা ভুলে গেছে।
তিনি বলেন, বন্যা মোকাবিলায় সরকার সমন্বিতভাবে কাজ করেছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনের জন্য , কৃষি ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা আশাবাদী খুব শীগ্রই এই বন্যার ক্ষত মুছে গিয়ে মানুষ পূর্বের অবস্থায় ফিরে যাবে। আগামী বছরের শুরুতে ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে । ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন আগামী বছরের ৬ জুনের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনার রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার। বাংলাদেশের জনগণ যতবার অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের সুযোগ পেয়েছে, ততই বার তারা বিএনপিকে নির্বাচিত করেছে। অথচ ছয় মাস না যেতেই তারা লংমার্চ করে সরকার পতনের হুমকি দিচ্ছে। হুমকি ধমকি দিয়ে লাভ নাই।
জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মাহবেবুর রহমান শামীমকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, পরিষদের পক্ষ থেকে ১১ শত পরিবারকে আর্থিক সহয়তা দিব, আইনে কার্ভার হচ্ছে আপনার অনুমোদন লাগবে, আমি তাকে বল্লাম কাগজ নিয়ে আসেন আমি ২ ঘন্টায় অনুমোদন দিব। বিএনপি সরকার জনগণের সরকার, জনগণের জন্য যদি অন্যায় করতে করব, জনগণের জন্য জেলে যেতে হলে জেলে যাব।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়ায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে
চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের উদ্যােগে ৫ শত পরিবারের মাঝে (ব্যাংক চেকের মাধ্যমে) আর্থিক অনুদান অনুষ্ঠান শেষে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবের রহমান শামীমের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন, এনামুল হক এমপি, এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ জকরিয়া, স্থানীয় সরকার বিভাগ চট্টগ্রাম (যুগ্ম সচিব) মনোয়ারা বেগম, জেলা প্রশাসক জাহিদুল হক মিয়া, পুলিশ সুপার মাসুদুল আলম, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী রওশন আলম, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক ইদ্রিস মিয়া, সদস্য সচিব লায়ন হেলাল উদ্দিন, দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও মোঃ রুহুল আমীন, সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) মাহমুদুল হাসান, থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মোঃ রবিউল হক প্রমূখ।
মীর শাহে আলম জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। অন্য দিকে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদ্যুৎ ব্যয় কমাতে বড় পরিসরে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের স্থানীয় সরকার-সংশ্লিষ্ট ৬ হাজার ৫৪৪টি প্রতিষ্ঠানের ভবনের ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপন করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে প্রায় ৩৭০ কোটি টাকা। আগামী ২৭ জানুয়ারি থেকে এসব সৌর প্যানেল থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।
উৎপাদিত বিদ্যুতের অর্ধেক, অর্থাৎ প্রায় ১৫০ মেগাওয়াট সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের কাজে ব্যবহার করবে। বাকি ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরকারের কাছে বিক্রি করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, এবার স্থানীয় নির্বাচনে, উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি একক প্রার্থীকে সমর্থন দেবে। যারা এর বিরোধিতা করবে বা বিদ্রোহী প্রার্থী হবে, তাদের বিরুদ্ধে দল ব্যবস্থা নেবে।