চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্বে থাকা বার্থ অপারেটরদের চুক্তি দর জ্বালানি তেলের বর্তমান মূল্যের সঙ্গে সমন্বয়ের দাবি উঠেছে। টেন্ডার দাখিলের সময়ের তুলনায় ডিজেলের দাম ৬৯ শতাংশ বেড়ে গেলেও সেই অনুপাতে চুক্তি দর সমন্বয় না হওয়ায় পরিচালন ব্যয় সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন বলে দাবি করেছেন বার্থ অপারেটররা।
এ দাবিতে গত ২১ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দিয়েছে বার্থ অপারেটরস, শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটরস অ্যান্ড টার্মিনাল অপারেটরস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির দাবি, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বার্থ অপারেটিংয়ের বর্তমান চুক্তি দর পুনর্নির্ধারণ বা সমন্বয় করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
সংগঠনটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১৯ জানুয়ারি ওটিএম পদ্ধতিতে আহ্বান করা দরপত্রে তৎকালীন জ্বালানি ও অন্যান্য দ্রব্যসামগ্রীর বাজারদর বিবেচনায় নিয়ে বার্থ অপারেটররা দর নির্ধারণ করে দরপত্র দাখিল করেন। ওই সময় ডিজেলের দাম ছিল লিটারপ্রতি ৮০ টাকা।
এরপর ২০২২ সালের ৫ আগস্ট ডিজেলের দাম একদফায় লিটারপ্রতি ৩৪ টাকা বাড়ানো হয়। পরে আরও ১৫ টাকা বাড়ে। অর্থাৎ টেন্ডার দাখিলের সময়ের তুলনায় একপর্যায়ে ডিজেলের দাম ৪৯ টাকা বেড়ে যায়।
সর্বশেষ গত ২০ সেপ্টেম্বর থেকে লিটারপ্রতি আরও ২০ টাকা বাড়িয়ে ডিজেলের দাম করা হয়েছে ১৩৫ টাকা। এতে ২০২২ সালের টেন্ডারের সময়ের ৮০ টাকা থেকে বর্তমান দাম বেড়েছে ৫৫ টাকা বা প্রায় ৬৯ শতাংশ।
বার্থ অপারেটরদের দাবি, তাদের কনটেইনার হ্যান্ডলিং কার্যক্রম ব্যাপকভাবে জ্বালানিনির্ভর। ফলে ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে জাহাজ ও কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের পরিচালন ব্যয়ও বেড়েছে। কিন্তু চুক্তি দর একই থাকায় বাড়তি ব্যয় নিজেদের বহন করতে হচ্ছে অপারেটরদের।
বার্থ অপারেটরস, শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটরস অ্যান্ড টার্মিনাল অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি ফজলে ইকরাম চৌধুরী বলেন, জ্বালানির দাম দফায় দফায় বৃদ্ধি হচ্ছে কিন্তু আমাদের চুক্তি সমন্বয় হচ্ছে না। জ্বালানি দাম বৃদ্ধির কারণে চুক্তি দর সমন্বয়ের জন্য আমরা চিঠি দিয়েছি। চুক্তি সমন্বয়ের জন্য জোর দাবি করছি।
তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।