চট্টগ্রাম সংবাদ’র খবর প্রকাশের পর বাঁশখালীর সেই বালুমহালে অভিযান

২৭শে অক্টোবর চট্টগ্রাম সংবাদ'র অনলাইন সংস্করণে খবর ছাপিয়েছে-

 

​বাঁশখালী চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার খানখানাবাদ, সাধনপুর ও পুকুরিয়া ইউনিয়নে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। আজ ২৮ অক্টোবর (বুধবার) দিনব্যাপী পরিচালিত এই অভিযানে খানখানাবাদ, সাধনপুর ও পুকুরিয়াসহ ৭ টি অবৈধ বালুর মহলে দিনব্যাপী অভিযান পরিচালনা করে স্কেভেটর, পাইপ সহ বিভিন্ন মালামাল জব্দ করেন বাঁশখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট জনাব তামজীদুর রহমান তন্ময়। এসময় প্রায় ৭০টি ড্রেজার পাইপ ও একটি এক্সকেভেটর (মাটি কাটার যন্ত্র) জব্দ করা হয়।

​উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, নদীর পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে পৃথক ৭ টি পয়েন্টে এই ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ​​খানখানাবাদ ইউনিয়নের পশ্চিম রায়ছটা, তৎসংলগ্ন ঈশ্বর বাবুর হাট ও চৌধুরী ঘাট এলাকার ৪টি স্পটে অভিযান চালিয়ে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের ৬৪টি অবৈধ ড্রেজার পাইপ জব্দ করে অকেজো করা হয়। অপর দিকে সাধনপুর ইউনিয়নের ২টি স্থানে অভিযান চালিয়ে আরও ৪-৫টি অবৈধ ড্রেজার পাইপ জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে
​পুকুরিয়া ইউনিয়নের তৈলারদ্বীপ ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় স্থানীয় জনগণের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে পুকুরিয়া ইউনিয়নের তৈলারদ্বীপ ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় ‘শিরোপা বিল্ডার্স’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়। তদন্তে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটির চন্দনাইশের ডলুখাল বালুমহাল থেকে বালু এনে উক্ত ডাম্পিং পয়েন্ট ব্যবহারের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অনুমতি থাকলেও, তারা অবৈধভাবে সাংগু নদী থেকে বালু উত্তোলন করছিল। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির নদীর সাথে সংযোগকারী ২টি ড্রেজার পাইপ বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং তাদের ব্যবহৃত ১টি এক্সকেভেটর জব্দ করা হয়।
​উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিরোপা বিল্ডার্সকে তাদের অনুমতিপত্র ও প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র আগামী কার্যদিবসের মধ্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কার্যালয়ে দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়।

 

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট জনাব তামজীদুর রহমান তন্ময় বলেন, জব্দকৃত সব স্পটের ড্রেজার পাইপের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণের উত্তোলন করা বালুও জব্দ করা হয়েছে। সংগৃহীত বালু ও অন্যান্য সরঞ্জামাদি স্থানীয় সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বারদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থে এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

 

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.