উখিয়ায় বন বিভাগের অভিযানে মাটিভর্তি ডাম্পারসহ চালক আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

 

কক্সবাজারের উখিয়ায় পাহাড় কাটার কাজে ব্যবহৃত মাটিভর্তি একটি ডাম্পার জব্দ করেছে বন বিভাগ। এ সময় পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ডাম্পারটির চালক আবুল কাশেমকে আটক করা হয়েছে।

সোমবার ভোরে উখিয়া বন রেঞ্জের আওতাধীন হলদিয়া পালং বনবিটের পশ্চিম হলদিয়া পালং এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। বন বিভাগের এ অভিযানে মাটিভর্তি ডাম্পারটি জব্দের পাশাপাশি পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে সংশ্লিষ্টরা।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার ভোর ৬টার দিকে উখিয়া বন রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল মান্নানের নেতৃত্বে বন বিভাগের একটি দল উখিয়া উপজেলার পশ্চিম হলদিয়া পালং এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে দোছড়ি বিট কর্মকর্তা ইমদাদুল হাসান রনি, ইসমাইল, ইলিয়াস ও আলীসহ একদল বনকর্মী অংশ নেন। অভিযান চলাকালে ঘটনাস্থল থেকে মাটিভর্তি একটি ডাম্পার গাড়ি জব্দ করা হয়। একই সময় পাহাড় কাটার কাজে ওই ডাম্পার ব্যবহারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ডাম্পার চালক আবুল কাশেমকে আটক করা হয়। আটক আবুল কাশেম পশ্চিম হলদিয়া পালং এলাকার বাসিন্দা আমির হোসেনের ছেলে বলে জানা গেছে।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, উখিয়ার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় কাটা ও সরকারি বনভূমি থেকে মাটি কাটার বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পাহাড় কেটে মাটি পরিবহনের মাধ্যমে পরিবেশ ও বনসম্পদের ক্ষতি করার অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

উখিয়া বনরেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান মাটিভর্তি ডাম্পার জব্দ এবং চালককে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পাহাড় কাটার অভিযোগে জব্দ করা ডাম্পারটি বন বিভাগের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আটক চালকের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কক্সবাজার কারাগারে পাঠানো হবে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উখিয়ার বিভিন্ন এলাকায় রাতের আঁধারে কিংবা ভোররাতে পাহাড় কেটে মাটি পরিবহনের ঘটনা ঘটছে। এতে একদিকে যেমন পাহাড় ও বনভূমি ধ্বংস হচ্ছে, অন্যদিকে পরিবেশের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়ছে। পাহাড় কাটা বন্ধে বন বিভাগের অভিযান আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

বন বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বনভূমি, পাহাড় ও প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি কিংবা মাটি পরিবহনে ব্যবহৃত যানবাহনের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.