বাঁশখালীতে বালু উত্তোলনের মহোৎসব, নীরব ভূমিকায় প্রশাসন
সরকারি অনুমোদন ছাড়াই প্রতিদিন হাজার হাজার ঘনফুট বালু তুলে বিভিন্ন স্থানে বিক্রয় করা হচ্ছে
মুহাম্মদ মিজান বিন তাহের, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পুকুরিয়ায় সাঙ্গু নদীর ব্রীজের দক্ষিণ পাশে পিএবি প্রধান সড়কের পাশে অবৈধভাবে তুলে স্তূপ করে রাখা বালু।
চট্টগ্রামের বাঁশখালী পুকুরিয়া ও খানখানাবাদ এলাকায় সাঙ্গু নদী ও বিভিন্ন ইউনিয়নের পাহাড়ি ছড়া থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। এই অবৈধ বালু লুটকারী চক্রটি পুকুরিয়া ও খানখানাবাদ ইউনিয়নের বিভিন্ন পয়েন্ট এলাকায় সাঙ্গু নদীর তীরবর্তী এলাকায় আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বালু লুটকারী চক্র।নদীভাঙনে দীর্ঘদিন ধরে বিপর্যস্ত এই এলাকা ঘিরে নতুন করে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ ও শঙ্কা। দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজার ও মেশিন বসিয়ে অবাধে বালু উত্তোলন করা হলেও স্থানীয় প্রশাসন রহস্যজনকভাবে নীরব ভূমিকা পালন করছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।
সরেজমিনে দেখা গেছে, তৈলারদ্বীপ সাঙ্গু ব্রীজের দক্ষিন পাশে পিএবি প্রধান সড়কের পাশে প্রকাশ্যে খননযন্ত্র (ড্রেজার) মেশিন বসিয়ে
বালু তুলে স্তূপ করে সাইনবোর্ড লাগিয়ে “শিরোপা বিল্ডার্স” বালু বিক্রয়, সরবরাহকারী কার্যাদেশ-ডলুখাল বালুমহাল, চন্দনাইশ, চট্টগ্রাম।
স্মারক নং- ০৫.৪২.১৫০০.৩০২.১০.১১৪.২০২৪.৯০৫।
আদেশক্রমে- জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রাম।
বালুমহাল ডাম্পিং পয়েন্ট নাম দিয়ে ব্যাপকভাবে বালু উত্তোলন করছে অসাধু একটি চক্র। একই সাথে পুকুরিয়া তেচ্ছিপাড়া এলাকায় ও খানখানাবাদের বিভিন্ন পয়েন্টে কোনো প্রকার সরকারি অনুমোদন ছাড়াই প্রতিদিন হাজার হাজার ঘনফুট বালু তুলে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও তলদেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে আরও দেখা যায়, উপজেলার সাধনপুর মৌলভী ঘোনা পানি চড়া , কালীপুর ইউনিয়ন পরিষদের পূর্ব পাশে জঙ্গল কোকদন্ডী চড়া- ফকির মোহাম্মদ পাড়া এলাকার পর্ব দিকে পাহাড়ি চড়া , বৈলছড়ী ইউনিয়নের পূর্ব বৈলছড়ী, অভ্যারখীল, পূর্ব চেচুরিয়া খদুল্ল্যাহ পাড়া , জলদী চুম্মাপাড়া , কাজীর পাড়া, চাম্বল ইউপির পূর্ব চাম্বল মিয়ার দোকানের পূর্ব পাশে ধূল্লাজিরি, চাম্বল ফরেস্ট রোড, আর্দশ গ্রাম, পাতলা মার্কেট ও সোনারখীল, পূর্ব নাপোড়া মীরাপাড়া ও ভিলেজার পাড়া, পূর্ব পুইছুড়ি ও দক্ষিণ পুইছুড়ি পাহাড়ি চড়ায় মেশিন বসিয়ে দেদারসে বালু উত্তোলন করে ট্রাকযোগে বিভিন্ন স্থানে বিক্রয় করা হচ্ছে ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্ট এবং ছড়াবেষ্টিত পাহাড়ি অঞ্চল থেকে প্রতিদিন শত শত ফুট বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। ইজারা ছাড়া বা নির্দিষ্ট শর্ত ভেঙে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই চলছে এই কার্যক্রম। অবাধে বালু উত্তোলনের ফলে আশপাশের কৃষিজমি, বসতভিটা এবং বেড়িবাঁধ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “চোখের সামনে প্রতিদিন ছড়া ও নদী থেকে বালু তুলে বিক্রি করা হচ্ছে। আমরা বহুবার স্থানীয় প্রশাসনকে জানিয়েছি, কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। প্রশাসনের এ ধরনের নীরব ভূমিকা অবৈধ বালু খেকোদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে।”
তৈলারদ্বীপ সাঙ্গু ব্রীজের দক্ষিন পাশে ড্রেজার দিয়ে বালু তুলে স্তূপ করে সাইনবোর্ড লাগিয়ে “শিরোপা বিল্ডার্স” বালু বিক্রয় কেন্দ্রের সাকিব সিকদার শাহীন বলেন, আমরা অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করছি, জেলা প্রশাসকের অনুমোদন নিয়ে অন্যত্র থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু এনে আমরা বালু বিক্রি করছি।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রুহুল আমীন বলেন, সাঙ্গু ব্রীজের পশ্চিম পাশ থেকে বালু উত্তোলন করার কোন অনুমোদন নাই। তবে ডলু খাল থেকে এনে বিক্রি করার অনুমোদন আছে বলে জানান তিনি। তবে অন্যান্য ইউনিয়নে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে খোঁজখবর নিয়ে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।