বাকলিয়ার রাজাখালীতে যুবলীগের জনি-তানজিরুলের দ্বন্দ্ব ছড়াচ্ছে উত্তাপ

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের বাকলিয়ার রাজাখালীতে যুবলীগ নেতা মহিউদ্দিন জনি ও তানজিরুল হক চৌধুরীর দ্বন্দ্ব উত্তাপ ছড়াচ্ছে স্থানীয় রাজনীতিতে৷ মহিউদ্দিন জনির বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত দুইটি মামলা দায়ের করেছে তানজিরুল হক চৌধুরীর স্ত্রীসহ নিকটাত্মীয়রা। মহিউদ্দিন জনির অভিযোগ, পুলিশ, র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে একের পর এক মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে মহিউদ্দিন জনিকে ঠেকাতেও ব্যস্ত তার প্রতিপক্ষরা। ইতোমধ্যে র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মহিউদ্দিন জনির বিরুদ্ধে কোনো বড় অপরাধের প্রমাণ পায়নি। কোনো অপরাধের প্রমাণ না থাকায় জনিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এক দফা আটক করে ছেড়েও দেয় জনিকে।

মহিউদ্দিন জনি চট্টগ্রাম সংবাদকে বলেন, ‘আমার প্রতিপক্ষ আমাকে ক্রসফায়ারের হুমকি দিচ্ছে৷ র্যাবের মাধ্যমে আমাকে হত্যা করাবে বলেও হুমকি দিচ্ছে তারা। আমার বিরুদ্ধে তারা মিথ্যা দুইটি মামলা দিয়েছে। এসব মামলায় আমি জামিনে আছি। গত ২৪ আগস্ট চার-পাচজন আমাকে ঘিরে ধরে সিজেকেএস মাঠের রাস্তায়। সাদা পোশাকে থাকা এই ব্যক্তিরা নিজেদের একটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দেয়। একপর্যায়ে আমি সেখান থেকে ধস্তাধস্তি করে পালিয়ে আসি। আমি জীবন নিয়ে শংকায় আছি। এখন শারিরীকভাবে একটু অসুস্থ। আমি এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নিবো।’ জনির অভিযোগ, বিভিন্ন গণমাধ্যমে একের পর এক একচেটিয়া তার বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করাচ্ছে তার প্রতিপক্ষরা। এসব সংবাদের প্রতিবাদলিপিতে জনি উল্লেখ করেছেন উপরোক্ত তথ্য। এমনকি সংবাদ সম্মেলনও করেছেন তিনি। জানা গেছে, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের দিন ২৭ জানুয়ারি রাজাখালীর ফায়ার সার্ভিস এলাকায় বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে যুবলীগ নেতাকর্মীদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। বাকলিয়া থানার চাক্তাইয়ের রাজাখালীর ফায়ার সার্ভিস সড়কে ওই ভিডিও নিয়ে এলাকায় দুটি বিবাদমান পক্ষের মধ্যে চলছে রাজনীতি।

জনির প্রতিপক্ষের দাবি, মহিউদ্দিন জনির হাতেই এই অস্ত্র দেখা গেছে। তারা ইতোমধ্যে জনির বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে এ বিষয়টি নিয়ে দিচ্ছে গোপন অভিযোগ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও তদন্ত করে দেখেছে, এটি নির্বাচনকালীন একটি ঘটনার ভিডিও। আবার এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারীরা বলছেন, মেয়র নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতের বিরুদ্ধে আইডিয়াল স্কুল সেন্টারে মহিউদ্দিন জনির নেতৃত্বে অবস্থান নেয় যুবলীগ। সেদিন বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের ধাওয়া দিয়েছিল তারা। তবে কারও হাতে অবৈধ কিছু ছিল না। আর অস্ত্র হাতে দেখা যাওয়া যুবক মহিউদ্দিন জনি নন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মহিউদ্দিন জনি বলেন, ‘এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর একজন কর্মী হিসেবে ওই এলাকায় যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত আমি। যার কারণে এখন একটি পরাজিত অপশক্তি আমার বিরুদ্ধে মেয়র নির্বাচনের দিনের একটি ভিডিও নিয়ে অপরাজনীতির চেষ্টা করছে। যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইতোমধ্যে পরিস্কার হয়েছে।’

মহিউদ্দিন জনি আরও বলেন, ‘একমাত্র আমাকে যদি মিথ্যা মামলা কিংবা অন্য যেকোনভাবে হয়রানি করতে পারে তাহলে মহিউদ্দিন ভাইয়ের অনুসারীদের এলাকা ছাড়া করতে পারবে। সাবেক মেয়রের অনুসারী দাবি করা কিছু সন্ত্রাসী ঈর্ষান্বিত হয়ে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচারে নেমেছে।’ ওই সিসিটিভি ফুটেজটি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২৭ জানুয়ারি ২০২১ তারিখ যেদিন চসিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় সেদিনের ভিডিও এটি। ওই ভিডিওতে চসিক নির্বাচনের পোস্টারও দেখা গেছে। এই ভিডিওটি নিয়ে বর্তমানে আলোচনার নেপথ্যে জানা গেছে, রাজাখালী এলাকার আবুল কালাম হাজীর একটি ট্রাক টার্মিনালের জমি নিয়ে মোহাম্মদ আলী নামে এক ব্যক্তির দ্বন্দ্ব রয়েছে। আবুল কালাম হাজীর পক্ষে ওই টার্মিনালের সুপারভাইজারের পদে দায়িত্বপালন করছেন মহিউদ্দিন জনি। স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় মহিউদ্দিন জনির বিরুদ্ধে মোহাম্মদ আলীর পক্ষের গ্রুপ ওই জমি নিয়ে প্রভাব বিস্তার করতে পারছে না।

এ বিষয়ে মহিউদ্দিন জনি বলেন, ‘মুলত ট্রাক টার্মিনালের মালিকানার বিরোধ নিয়ে অপরাজনীতি করছে কিছু স্বার্থান্বেসী মহল। তারা চসিক নির্বাচনের দিনের একটি ভিডিও’র বিষয়ে আমাকে জড়িয়ে অপরাজনীতির চেষ্টা করছে। ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে তারা আমার বিষয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়েছে। নির্বাচনী ওই ভিডিওটি তদন্তও করেছে একটি বিশেষ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। যারা আমাকে এ ঘটনার সাথে ফাঁসাতে চায় তারা এলাকায় সন্ত্রাসী ও বিএনপি-জামায়াতের লোক হিসেবেই পরিচিত।’ জনি আরও বলেন, ‘একটি গ্রুপ ২০১২ সালে এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর গায়ে বালু নিক্ষেপ করেছিল। ২০১৩-১৪ সালে মহিউদ্দিন ভাইয়ের বিরুদ্ধে ফেসবুকে লিখালিখি করতো। আমিই তখন ওই এলাকায় প্রথম এসবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু করি। মহিউদ্দিন ভাই মারা যাওয়ার পর তার ঘনিষ্ঠ সিনিয়রদের বিরুদ্ধে অশালীন কথাবার্তা ফেসবুকে লিখায় কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে আইসিটি আইনে। এসব মামলার আসামীরা আমার বিরুদ্ধে এখন প্রপাগাণ্ডায় নেমেছে। তাদের বিরোধীতা ও চক্রান্তের কারণে এলাকার মানুষের কাছে আমি আরও গ্রহনযোগ্য হয়ে উঠছি।’

বাকলিয়া থানা সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনের দিনে বিএনপি প্রার্থী ও আওয়ামী লীগ প্রার্থীর মধ্যে ধাওয়া পালটা ধাওয়ার ঘটনায় বাকলিয়া থানায় কোনো অভিযোগ হয়নি। ৩৫ নম্বর বখশিরহাট ওয়ার্ড কাউন্সিল হাজী নুরুল হক বলেন, ‘জনির বিরুদ্ধে যারা প্রপাগাণ্ডা চালাচ্ছে তারা মূলত বিএনপি-জামায়াতের এজেন্ট। কারণ ওই এলাকায় জনি সক্রিয়ভাবে যুবলীগ করছে দীর্ঘদিন ধরে। তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবসায়ী বা স্থানীয়দের কোনো অভিযোগ নেই।’ সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর লায়ন লুৎফুন্নেছা দোভাষ বেবি বলেন, ‘জনি আপাদমস্তক একজন রাজনৈতিক কর্মী। স্থানীয় রাজনীতিতে তার গ্রহনযোগ্যতা থাকায় তাকে ফাঁসিয়ে কেউ কেউ ফায়দা নিতে চায়।’ চাক্তাই ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হারুন সওদাগর বলেন, ‘জনির বিরুদ্ধে আমাদের ব্যবসায়ীদের কোনো অভিযোগ নেই। তার সঙ্গে ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের সুসম্পর্ক রয়েছে।’

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.