‘ভুললে কেন মানুষ ছিলে, ধার্মিক হবার আগে’

প্রকাশিত: ১০:৫৪ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৩, ২০২১

 

চট্টগ্রাম ব্যুরো: ‘বললে কথা বিরুদ্ধতায়, পোড়াও তুমি রাগে/ ভুললে কেন মানুষ ছিলে, ধার্মিক হবার আগে’, এমন আকুতিভরা লেখা ফেস্টুন নিয়ে এক শিশু দাঁড়িয়েছিল চট্টগ্রামে এক মানববন্ধনে। সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে খেলাঘর চট্টগ্রাম উত্তর, দক্ষিণ ও মহানগর কমিটির উদ্যোগে এই মানববন্ধন হয়েছে, যাতে শিশু-কিশোররাও রাজপথে দাঁড়িয়েছিল। শুক্রবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে নগরীর চেরাগির মোড়ে এই মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন খেলাঘর দক্ষিণ জেলা কমিটির সভাপতি জসিম চৌধুরী সবুজ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক হামলা ও মৌলবাদীদের ঘৃণ্য চক্রান্তে দেশ যেমন পিছিয়ে পড়ছে, তেমনি জনগণের মধ্যে বিভেদ বাড়ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের আগামী প্রজন্ম। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের কারণে শিশু-কিশোরদের অসাম্প্রদায়িক চেতনা, মানসিক ও মানবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পরিপন্থী সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে ধর্মান্ধতার বীজ রোপিত হয়েছে। এতে ধর্মীয় উন্মাদনা এবং বিভেদ সৃষ্টি হয়েছে।’

বক্তারা দেশজুড়ে সাম্প্রদায়িক হামলায় জড়িতদের কঠোর শাস্তি দাবি করেন।

খেলাঘর চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক এ এস এম জাহিদ হোসেনের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- খেলাঘর কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য রথীন সেন, কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য শ্যামল বিশ্বাস, উত্তর জেলার সভাপতি খোরশেদ আলম, সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য আশীষ ধর, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য প্রদীপ ভট্টাচার্য্য, রোজী সেন, দক্ষিণ জেলা কমিটির সহ সভাপতি শামসুল হক, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি নাজিম উদ্দিন শ্যামল, বাংলাদেশ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক রঞ্জন বণিক, বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতি চট্টগ্রামের সাংগঠনিক সম্পাদক শিব প্রসাদ শূর, চন্দন পাল, প্রণব চৌধুরী, টিংকু কুমার চৌধুরী, শুভ্রা বিশ্বাস, সুচিত্রা গুহ টুম্পা, খেলাঘর দক্ষিণ জেলার সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব বসু, উত্তর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক এম এ কাশেম, খেলাঘর দক্ষিণ জেলার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ভগীরথ দাশ, বোয়ালখালী উপজেলার সাধারণ সম্পাদক কাজল নন্দী, শিবু প্রসাদ চৌধুরী।

কোতোয়ালী থানা সিপিবি
সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে শুক্রবার বিকেলে নগরীর পাথরঘাটার পাঁচবাড়িতে নগরীর কোতোয়ালী থানা সিপিবির উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে। সিপিবি কোতোয়ালি থানার সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল শিকদারের সভাপতিত্বে এবং জাবেদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন রুপন কান্তি ধর, বিপ্লব চৌধুরী, রাশিদুল সামির, ছাত্র ইউনিয়ন চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি এ্যানি সেন ও সাধারণ সম্পাদক ইমরান চৌধুরী।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে গত ৫০ বছরে ক্ষমতায় থাকা ও ক্ষমতায় যাওয়ার নির্লজ্জ প্রতিযোগিতায় শাসক দলগুলো সাম্প্রদায়িকতাকে মদদ দিয়েছে। জনগণ যে সাম্প্রদায়িক অশুভ শক্তিকে পরাজিত করেছে, শাসক শ্রেণির প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে তা পুরনায় মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে। ফ্যাসিবাদী শাসনই সাম্প্রদায়িকতার জন্ম দেয়। ফ্যাসিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা একে অপরের হাত ধরাধরি করে চলে।’

রামকৃষ্ণ মিশন সেবাশ্রম, চট্টগ্রাম
সারাদেশে হিন্দুদের মঠ মন্দিরে হামলা, প্রতিমা, ঘরবাড়ি ভাংচুর, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদে রামকৃষ্ণ মিশন সেবাশ্রম চট্টগ্রামের উদ্যোগে শুক্রবার সকালে মানববন্ধন ও সম্প্রীতি সমাবেশ হয়েছে। নগরীর আসকার দিঘীর পাড়ে সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন রামকৃষ্ণ মিশন সেবাশ্রম, চট্টগ্রামের পরিচালনা কমিটির সভাপতি গুরুপদ পালিত।

অ্যাডভোকেট রুবেল পালের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন রামকৃষ্ণ মিশন পরিচালনা কমিটির সদস্য রতন কান্তি মজুমদার, ড. উজ্জ্বল কুমার দেব এবং সারদা সংঘের জয়শ্রী মজুমদার। বক্তারা বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, দুর্গাপূজার সময় কুমিল্লায় অনভিপ্রেত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে সারাদেশে কুচক্রী মহলের ইন্ধনে হিন্দুদের মন্দির-ঘরবাড়িতে হামলা ও ভাংচুর করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও হত্যার ঘটনাও ঘটেছে, যা বাংলাদেশের সংবিধান, ভাবাদর্শ ও মানবতা বিরোধী। রামকৃষ্ণ মিশন কোনো ধর্মের প্রতি অবজ্ঞা ও অশ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং সহিংসতা পছন্দ করেনা। কোনো ধর্মই তা করেনা। আমরা কুমিল্লাসহ অন্যান্য স্থানে সংঘটিত অপরাধের সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’