সাতকানিয়ায় সিএনজি ড্রাইভারের গলায়ও ঝুলছে সাংবাদিকতার কার্ড!

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সাতকানিয়া -লোহাগাড়ায় সিএনজি আর ছারঁপোকা গাড়ী চালকদের গলায়ও ঝুলছে সাংবাদিকতার কার্ড।

সমগ্র বাংলাদেশে এমনিতেই জনশ্রুতি রয়েছে সাতকানিয়া লোহাগাড়ার অধিকাংশ সাংবাদিকরা এসএসসি পর্যন্তও লেখা-পড়া না করে সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত আবার অনেকেই স্কুলের গন্ডি না পেরিয়ে আন্ডার গ্রাউন্ড পত্রিকার পরিচয়পত্র ব্যবহার করে চালাচ্ছে সাংবাদিকতা।

আবার অনেকেই সিএনজি বা চায়ের দোকান ও জমি বিক্রি করে ঢাকায় গিয়ে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে কোন একটা স্যাটেলাইট চ্যানেলের জেলা বা উপজেলা প্রতিনিধির পরিচয়পত্র হাতিয়ে নিচ্ছে।

ফলে গনমাধ্যমের অফিসে দেয়া টাকা তোলতে সেইসব কতিপয় সাংবাদিকদের আশ্রয় নিতে হচ্ছে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকান্ড চালিয়ে।

উপরোক্ত কর্মকান্ডের জ্বালায় অতিষ্ঠ সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার শিক্ষিত ও মুলধারার সাংবাদিক সমাজ।

এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিকে আরো অসহনীয় করে তুলেছে চট্টগ্রামের আনোয়ারার কথিত সাংবাদিক-নামধারী হান্নানের `চট্টগ্রাম সংবাদ`নামক পরিচয়পত্র গুলি।

তার এই পরিচয়পত্র কোন অফিস আদালতে বা বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের বা জনকল্যানমুখী কর্মকান্ডে ব্যবহার না হলেও নিয়মিত গলায় ঝুলিয়ে বেপরোয়া দাপটে রাজপথ কাঁপাচ্ছে সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার অধিকাংশ সিএনজি চালকরা।

৭বছর থেকে ৬০বছর বয়সী চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়কের প্রায় চালকের গলায় এখন হান্নানের দেয়া সাংবাদিকতার পরিচয়পত্র।

পুলিশ প্রশাসনকে মূলত বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলতে কথিত সাংবাদিক “চট্টগ্রাম সংবাদ”নাম দিয়ে অনৈতিক সুবিধা আদায়ে ব্যস্ত।

তবে গোপনসুত্রে জানা গেলো -কিছু পুলিশ কর্মকর্তা হান্নানকে চট্টগ্রাম কক্সবাজারের মহাসড়কে বেপরোয়া দাপট চালাতে সহযোগিতা করে আসছে।

আর অসাধু সিএনজি চালকরা কথিত সাংবাদিক হান্নান থেকে মাসিক মাসোহারার বিনিময়ে এই “চট্টগ্রাম সংবাদ”নামে পরিচয়পত্র কিনে রাজপথে দাঁপিয়ে গাড়ী চালাচ্ছে।

তবে এসবের কিছুই জানেননা প্রকৃত দৈনিক চট্টগ্রাম সংবাদের সম্পাদক ও প্রকাশক সৈয়দ আককাস উদদীন।
এবং চট্টগ্রামস্থ শিল্পগ্রুপ ন্যাশনাল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও দৈনিক চট্টগ্রাম সংবাদের নির্বাহী চেয়ারম্যান মঈন উদদীন।

কথিত সাংবাদিক হান্নানের দেয়া “চট্টগ্রাম সংবাদের” নাম দিয়ে রাজপথে সিএনজি চালানোর বিষয়টা কি ভাবে দেখছেন এমন প্রশ্ন করা হয় প্রকৃত চট্টগ্রাম সংবাদের সম্পাদক ও প্রকাশক সাতকানিয়া সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি সৈয়দ আককাস উদদীনকে তিনি বলেন, আসলে দেখেন বৃহত্তর চট্টগ্রামের কোন না কোন জায়গা থেকে প্রতিদিন আমাকে বা আমার অফিসের ফোনে একই প্রশ্ন শুনতে শুনতে আমি বিরক্ত।

লেখাপড়া ছাড়া আবাল কোন একটা সাংবাদিক হান্নান আমার সম্পাদিত চট্টগ্রাম সংবাদের নাম ব্যবহার করে সিএনজি চালকের গলায়ও সাংবাদিকতার কার্ড ঝুলাচ্ছে যা আমাদের প্রতিষ্ঠানের জনপ্রিয়তার সুনাম ক্ষুন্ন করে যাচ্ছে।

আমি যখনি খবর পাই তখনি পুলিশ প্রশাসনকে বলি ব্যবস্থা নিতে।

আর আপনারা তো জানেন, আমার চট্টগ্রাম সংবাদ পত্রিকাটি ন্যাশনাল গ্রুপের একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান এবং পত্রিকার নামে নিজস্ব হাউজ আছে তাও আবার চট্টগ্রাম কক্সবাজারের মহাসড়ক কেরানীহাটে-যার অফিস স্পেস হচ্ছে প্রায় ২০০০স্কয়ার ফিট।

যেখানে আন্তর্জাতিক ডেস্ক এবং সংবাদ সম্মেলন কক্ষসহ মূল অফিসের কর্মকর্তাও আছেন ১০জন।

বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায় আমার সংবাদকর্মী আছে।

আপনারা তো জানেন আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকার মালিকরা কোন প্রতিনিধিকে সেলারীও দিতে পারেননা।

বরং উল্টো অশিক্ষিত এবং অপেশাদারদের নিয়োগ দিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয়।

সেক্ষেত্রে আমি সার্টিফিকেট নিয়ে-গোয়েন্দা তথ্য নিয়ে যাচাই বাছাই করে সাংবাদিক নিয়োগ দিই।

যদিও আমি চট্টগ্রামস্থ চট্টগ্রাম সংবাদের পত্রিকার সম্পাদনা করি ঢাকা থেকে প্রকাশিত সামনের সারীর দৈনিক সকালের সময় এবং দৈনিক বাংলাদেশ বুলেটিন পত্রিকায় আমি লিখি।

তিনি আরো বলেন-আরে ভাই দেখেন আমি কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শেষ করে আবার আইন নিয়েও পড়াশোনা শেষ করে সাংবাদিকতা করি এখনো মনে হয় এই গনমাধ্যম জগতে কেবল শিশু! অথচ সেই জায়গায় এই হান্নান আমাদের প্রাণের এই গনমাধ্যমকে তোলে দেয় সিএনজি চালক আর ডাম্পার চালকদের হাতে।

আমি খুব শীঘ্রই কথিত এসব সাংবাদিকের বিরুদ্ধে আইনের দ্বারস্থ হবো।

পাশাপাশি শিক্ষিত মার্জিত লোকদের এই পেশায় এসে মানটা ধরে রাখার অনুরোধ জানাচ্ছি।

বাস-ড্রাইভার -সিএনজি চালক-হেলপার স্কুল পড়োয়া লোকজন সাবেক চায়ের দোকানদার ফুটপাতে পেপার বিক্রেতা যখন বিভিন্ন গণমাধ্যমের বোম্ব হাতে নিয়ে কোন অনুষ্ঠানে আমার সামনে বসে বা কথা বলে তখন লজ্জায় আমার বুক ফেটে যায়।

আমি আসলে এই পেশার মান বাড়ুক সেটাই চাই।

আপনারা দেখেন একজন আইনজীবি বা একজন ডাক্তার যেভাবে তার ভিজিটিং কার্ডে ডিগ্রী লিখে সেরকম যদি রাষ্ট্রের চতুর্থস্তম্ভ সাতকানিয়া -লোহাগাড়ার সাংবাদিকরা তাদের পকেট থেকে দাপুটে বের করা ভিজিটিং কার্ডে শিক্ষাগত-যোগ্যতার পরিমাণটা লিখে আপনি বুঝতেন কী এক্টা অবস্থা- আমরা কোন দেশে আছি বা কোন পেশায় আছি।

বা বর্তমানে যারা কর্মরত তাদের অনেকের অতীত ইতিহাসটা কী!!
বা কোন লেভেল থেকে তাদের আসা।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.