চট্টগ্রামে গৃহকর বাড়ছে

চট্টগ্রাম ব্যুরো: ১০ বছর আগে নির্ধারিত হারের পরিবর্তে পুনঃমূল্যায়নের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) গৃহকর আদায়ের বাধা কেটেছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নেওয়ায় চসিক এখন বর্ধিত হারে গৃহকর আদায় করতে পারবে। এর ফলে দীর্ঘসময় পর চট্টগ্রাম নগরীতে গৃহকর বাড়ছে।

তবে চসিক মেয়র বলছেন, গণহারে গৃহকর বাড়ানো হবে না; শুধুমাত্র করের আওতা বাড়ানো হবে।

মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের সই করা এক চিঠিতে চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহীদুল আলমকে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের জানানো হয়।

চিঠিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম নগরীতে গত ১০ বছর পূর্বের নির্ধারিত হারে জনসাধারণ কর দিচ্ছেন। এতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে। জনগণের নাগরিক সেবা ও বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড গতিশীল রাখাসহ সিটি করপোরেশনের আয় বৃদ্ধির স্বার্থে ব্যক্তিমালিকানাধীন ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হোল্ডিংয়ের ওপর থাকা থাকা স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হলো। এখন থেকে পঞ্চবার্ষিকী গৃহকর পুনর্মূল্যায়ন অনুযায়ী গৃহকর আদায়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হলো।

জানতে চাইলে চসিক মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের চিঠি এসেছে। আমি এখনও সেটি দেখতে পারিনি। কাল (বুধবার) দেখব। আমাদের সিদ্ধান্ত হচ্ছে, কোনোভাবেই কর বাড়ানো হবে না। শুধুমাত্র করের আওতা বাড়ানো হবে। আরেকটি ‍গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, সর্বশেষ গৃহকর পুনর্মূল্যায়নে অসঙ্গতি নিয়ে যদি কেউ আপিল করেন, তাদের জন্য অবশ্যই সহনীয় পর্যায়ে কর নির্ধারণ করা হবে।’

মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী দায়িত্ব নেওয়ার পর পুনঃমূল্যায়নের ভিত্তিতে গৃহকর আদায়ের ওপর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দেওয়া স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়ে দুই দফা চিঠি দেয় চসিক। সর্বশেষ গত ৩ জানুয়ারি স্থানীয় সরকার বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিবকে দেওয়া সিটি করপোরেশনের চিঠিতে বলা হয়, সিটি করপোরেশনের করবিধি ১৯৮৬ এর ২১ বিধি অনুযায়ী প্রতি পাঁচ বছর পর পর গৃহকর পুনর্মূল্যায়নের এখতিয়ার সিটি করপোরেশনগুলোকে দেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, বিধি অনুযায়ী ২০১৬-১৭ অর্থবছরে সরকারি ও বেসরকারি হোল্ডিংয়ের (স্থাপনা) কর পুনর্মূল্যায়ন করা হয়। কিন্তু বিভিন্ন মহলের বাধার মুখে এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশনায় তা স্থগিত করা হয়। ফলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

ফলে ১০ বছর আগের করা পঞ্চবার্ষিকী কর পুনর্মূল্যায়নের ভিত্তিতে গৃহকর আদায় কার্যক্রম চালু রয়েছে। এর মাধ্যমে হওয়া আয় দিয়ে নগরের ৬০ লাখ মানুষকে নাগরিক সেবা এবং বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ব্যয় মেটানো সম্ভব হচ্ছে না বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের আমলে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে পঞ্চবার্ষিকী কর পুনঃমূল্যায়ন করা হয়েছিল। তবে এর বিরুদ্ধে সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে আন্দোলন শুরু হয়েছিল। আন্দোলনের মুখে ২০১৭ সালের ১০ ডিসেম্বর সেটা স্থগিত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

প্রসঙ্গত, চসিকের ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে গৃহকর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। পুনঃমূল্যায়ন অনুযায়ী কর আদায় হলে তা দাঁড়াবে ৮৫১ কোটি ৩০ লাখ টাকায়।

চট্টগ্রাম সংবাদ/ আই   এইচ।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.