ঘরের দরজা-জানালা সব ঠিক-ঠাক, বাইরের লোক এসে কিভাবে হত্যা!

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতকানিয়া:

সাতকানিয়ায় নিজ বসতঘরে প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল হক মিঞা হত্যাকাণ্ড নিয়ে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। ঘরের মধ্যে গভীর রাতে কেন, কিভাবে হত্যার শিকার হলেন তা নিয়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ।

এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহত আবদুল হক মিঞার বাড়ির কর্মচারী জমির উদ্দিনকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে।

নিহতের কক্ষে চোখ-মুখ ও পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার হওয়া বাড়ির কর্মচারী জমির উদ্দিন বলেন, “রবিবার রাতে ভাত খেয়ে চেয়ারম্যান নিজের কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। আমি পাশের কক্ষে ঘুমাই। গভীর রাতে মুখোশধারী ৪-৫ জনের দল এসে আমাকে ধরে চেয়ারম্যান সাহেবের কক্ষে নিয়ে গিয়ে মারধর শুরু করে। তখন চেয়ারম্যান সাহেব আমাকে মারধর করতে নিষেধ করেন। তখন তারা আমার চোখ-মুখ এবং পা বেঁধে ফেলে রেখে চেয়ারম্যানকে মারধর শুরু করে। চোখ বাঁধা থাকায় চেয়ারম্যানকে কী দিয়ে এবং কীভাবে হত্যা করেছে আমি বুঝতে পারিনি।”

দরজা-জানালা না ভেঙ্গে বাইরের লোক কীভাবে ঘরে প্রবেশ করলো জানতে চাইলে জমির কোনো ধরনের সদুত্তর দিতে পারেননি।

হাত খোলা থাকার পরও চোখ-মুখ এবং পায়ে থাকা কাপেড়ের বাঁধন খুলল না কেন জানতে চাইলে জমির বলেন, “আমি ভয়ের মধ্যে ছিলাম।”

সাতকানিয়া থানার ওসি মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “সোমবার সকালে খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছি। নিহতের বাম কানের উপরে মাথায়, বাম চোখ এবং বাম হাতে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এগুলো ছুরিকাঘাত হতে পারে। তবে ছুরিকাঘাতে মারা গেছেন নাকি অন্য কোনোভাবে হত্যা করা হয়েছে তা ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পাওয়ার আগে বলা মুশকিল। নিহতের মুখে এবং বুকে বালিশ ছিল বলে জানিয়েছে বাড়ির গৃহপরিচারিকা। এজন্য আমরা বালিশ উদ্ধার করেছি।”

ওসি আরো বলেন, “ঘরের দরজা-জানালা সব ঠিক-ঠাক আছে। ফলে বাইরের কোনো লোক এসে হত্যা করেছে বলে মনে হচ্ছে না। ঘরে যারা ছিল তারাই ঘটনার সাথে জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে। আপাতত আমরা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঐ বাড়ির কর্মচারী জমির উদ্দিনকে থানায় ডেকে এনেছি।”

নিহত আবদুল হক মিঞার ছেলে চট্টগ্রাম সংবাদ পত্রিকার চেয়ারম্যান মো. মাঈনউদ্দিন মনু বলেন, “ঘরে আমার বাবা এবং কর্মচারী জমির ছিল। রবিবার রাতে আমার বাবা অন্যান্য দিনের মতো খাবার সেরে নিজের কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। আজ সকালে এলাকার লোকজনের মাধ্যমে জানতে পারলাম কে বা কারা আমার বাবাকে হত্যা করেছে। এটা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। আমি চাই প্রশাসন সঠিক তদন্তের মাধ্যমে আমার বাবার হত্যাকারীকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনুক।”

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.