ঘুষের মামলা : বিটিসিএলের দুই কর্মচারীর কারাদণ্ড

ঘুষ নেওয়ার দায়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় নগরের নন্দনকানন বিটিসিএলের কার্যালয়ের প্রধান সহকারী কাম ক্যাশিয়ার মো. গিয়াস উদ্দিনকে ৪ বছরের কারাদণ্ড ও ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত।

একই মামলায় টেলিফোন অপারেটর মো. হুমায়ুন কবিরকে ২ বছরের কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সোমবার (১৬ মে) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মুন্সী আবদুল মজিদের আদালত এ রায় দেন। রায় ঘোষণার পর গিয়াস উদ্দিনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আর হুমায়ুন কবিরের সাজার মেয়াদ ১ বছর হওয়ায় ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২৬(২) ধারা মতে আপিলের শর্তে আসামি পক্ষের আবেদনের ভিত্তিতে ৩ দিনের অন্তর্বর্তী জামিন দিয়েছেন আদালত।

দুদকের পক্ষে মামলা পরিচালনাকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) কাজী ছানোয়ার আহমেদ লাভলু এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- ফেনীর সোনাগাজী থানার মজুপুর এলাকার মৃত আলী আকবরের ছেলে। তিনি নগরের নন্দনকানন বিটিসিএল কার্যালয়ে বিভাগীয় প্রকৌশলী, ফোনস (অভ্যন্তরীণ) প্রধান সহকারী কাম-ক্যাশিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। চাঁদপুর জেলার মতলব থানার টরকী এলাকার মৃত আবদুর জব্বারের ছেলে। তিনি নগরের নন্দনকানন বিটিসিএল কার্যালয়ে বিভাগীয় প্রকৌশলী, ফোনস (অভ্যন্তরীণ) টেলিফোন অপারেটর (অতিরিক্ত দায়িত্ব) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, নগরের নন্দনকানন বিটিসিএল কার্যালয়ে ২০১৬ সালের ১৭ আগস্ট বিটিসিএলের সাবেক উপ-সহকারী মো. আবুল কাশেম ভূঁইয়ার পেনশন মঞ্জুরের ফাইল আটকে তার কাছে ২০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণকালে হাতেনাতে তাদের গ্রেফতার করে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাব্বির রহমান সানিসহ দুদকের টিমের সদস্যরা হাতেনাতে গ্রেফতার করে। এ ঘটনায় দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-১ এর সাবেক উপ-সহকারী পরিচালক মানিক লাল দাশ বাদী হয়ে দুজনের বিরুদ্ধে নগরের কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে তদন্ত শেষে দুইজনকে অভিযুক্ত করে ২০১৭ সালের ২১ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-১ এর উপ-পরিচালক মো. মোশারফ হোসেন মৃধা। ২০১৭ সালের ২৪ জুলাই অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। ১৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ১০ জনের সাক্ষ্যপ্রদান শেষে আদালত রায় দিয়েছেন।

দুদকের পিপি কাজী ছানোয়ার আহমেদ লাভলু বলেন, আদালত আসামি মো. গিয়াস উদ্দিনকে দণ্ডবিধির ১৬১/১৬৫ (ক) ধারায় দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। আর ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ৪ বছরের কারাদণ্ডের মধ্যে দুই বছর ভোগ করলে হবে। জরিমানা ৪০ হাজার টাকা দিতে হবে।

তিনি বলেন, মো. হুমায়ুন কবিরকে দণ্ডবিধির ১৬১/১৬৫ (ক) ধারায় আদালত ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। আর ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। অনাদায়ে আরও ১ মাসের কারাদণ্ড দেন। ২ বছরের কারাদণ্ডের মধ্যে ১ বছর ভোগ করলে হবে। জরিমানা ২০ হাজার টাকা দিতে হবে। রায় ঘোষণার পর গিয়াস উদ্দিনকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। আর হুমায়ুন কবিরের সাজার মেয়াদ ১ বছর হওয়ায় ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২৬(২) ধারা মতে আপিলের শর্তে আসামি পক্ষের আবেদনের ভিত্তিতে ৩ দিনের অন্তর্বর্তী জামিন দিয়েছেন আদালত।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.