লোহাগাড়ায় জোর পূর্বক খাস জমি দখল করে সীমানা প্রাচীর , উচ্ছেদের দাবি স্থানীয়দের

লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

 

চট্টগ্রাম লোহাগাড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড দুলা হাজির পাড়ামুখী খাস জায়গা জোর পূর্বক দখল ও সীমানা প্রাচীর দিয়ে ঘেরাও এর অভিযোগ উঠেছে একজনের বিরুদ্ধে।

উক্ত সীমানা প্রাচীরটি দরবেশ হাট ডিসি সড়ক হইতে খাঁন মোহাম্মদ সিকদার পাড়া ষ্টেশনের দক্ষিণ দিকে এসে বরাবর ব্রীজ ও রাস্তার মূল সড়কের সাথে সংযুক্ত ।

এ ব্যাপারে সম্প্রতি আলমগির নামে এক ব্যাক্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, মৃত ওবাইদুল হাকিমের পুত্র নুরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি জোর পূর্বক নকশাভূক্ত বি.এস ও আর.এস খাস জায়গার উপর সীমানা প্রাচীর দিয়ে রাস্তার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে যাচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। উক্ত জায়গায় মানুষ ও যানবাহন চলাচল করছে দীর্ঘদিন ধরে গ্রামবাসীর ।আর.এস ৭৩৬৯ দাগের তৎ বি.এস ১৯৬২৯ দাগটি ০.৬৭ একর জমি নিয়ে রাস্তা শ্রেণি হিসেবে রেকর্ড ও খাস খতিয়ান চূড়ান্ত আছে। এমনকি জনগণের গণ স্বাক্ষরের আবেদনের প্রেক্ষিতে সরকারি ভূমিতে রাস্তা নির্মাণ করার জন্য চট্টগ্রাম -১৫ মাননীয় সংসদ সদস্য মহোদয় ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃআহসান হাবিব জিতু নির্দেশ দেন স্হানীয় চেয়ারম্যানকে। তারই ধারাবাহিকতায় সার্ভেয়ারের প্রতিবেদন অনুযায়ী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নিজে উপস্থিত থেকে প্রায় কাজ নিজে তদারকি করে শেষ করেছিলেন তবে অভিযুক্ত ব্যক্তি গায়ের জোরে খাস জায়গাটি দখল করে রাখায় সামন্য রাস্তার মুখের কাজটি করা সম্ভব হয় নাই বলে অভিযোগ জানা যায় ।

উক্ত স্থানে বাউন্ডারী নির্মাণকারী ওবায়দুল হাকিমের ছেলে নুরুল ইসলামের
সাথে সরেজমিনে কথা হলে তিনি জানান, দীর্ঘদিন যাবত এ জায়গাটি আমার দখলে থাকায় আমি বাউন্ডারি নির্মাণ করেছি।তবে
জায়গাটি খাস কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে নুরুল ইসলাম বলেন,হ্যাঁ জায়গাটি খাস তবে উক্ত জায়গার সমপরিমাণ ৩-৪ ফুট এলাকাবাসীকে কিনে দিবে বলে স্বীকার করেন তিনি। প্রয়োজনে ছেলেদের সাথে কথা বলে খাস জায়গা ছেড়ে দিবেন বলে মৌখিক স্বীকার করেন।

 

বৃহস্পতিবার (১৭ মে) বিকেলে রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়, তফসিল উক্ত জায়গা খাস সীট থাকা সত্বেও নুরুল ইসলাম দাগের সর্ব উত্তর পাশে বর্তমান ৭০ ফুট রাস্তা এবং ৫৪ ফুট দৈর্ঘ্য ও প্রায় ৮ ফুট প্রস্হ সীমানা প্রাচীরের মাধ্যমে দীর্ঘদিন সীমানা প্রাচীর দিয়ে অবৈধ ভাবে দখলে রেখেছেন। বর্তমানে রাস্তাটি প্রায় সম্পুর্ন অংশে ৮-১০ ফুট তবে অভিযুক্ত নুরুল ইসলামের অংশে এসে ২-৩ ফুট প্রস্ত আইলের মত রয়েছে। তপশীলোকক্ত সরকারি খাস দখলীয় জায়গার পশ্চিমে প্রায় ৫০০ লোকের আবাসস্থল দেখা যায় । রাস্তাটি উত্তর -দক্ষিণে সরকারি গোপাট রাস্তার জায়গা পরিমাপে ৮৫০ ফুট দুলা হাজীর পাড়ামূখী পর্যন্ত বিস্তৃত ৮-১২ ফুটের মতো।

স্হানীয় সদর ইউনিয়ন আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ আবদুল আজিজ অভিযোগ করে বলেন, অত্যান্ত পরিতাপের বিষয় দুলা হাজির পাড়ার ধর্মপ্রাণ মুসল্লীগণ রাস্তার অভাবে মসজিদে ০৫ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।এমনকি এলাকার সন্তান প্রসূতি মা-বোন কে হাসপাতালে ও মৃত ব্যক্তির লাশ পরিবহন করে কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া সহ স্কুল, কলেজ,মাদ্রাসা, পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের সীমাহীন কষ্ট পোহাতে হচ্ছে প্রায় ১০০ শত পরিবারের । তিনি অবৈধ স্হাপনা অপসারণের পাশাপাশি সরকারি খাস জমি উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা গ্রহণ করার জন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন

স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুস ছবুর কন্টাক্টর বলেন,সরকারী খাস জায়গাটি নিয়ে এলাকাবাসীর মাঝে উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে। অবিলম্বে খাস জায়গাটি কোন একটা সূরহা হলে ভালো হবে।

সদর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নুরুচ্ছাফা বলেন,সার্ভেয়ারসহ সরেজমিনে গিয়েছিলাম এবং এলাকার জনসাধারণের সমুখে তিনি নুরুল ইসলামকে অনেকবার অনুরোধ করেন খাস জায়গা ছেড়ে দিতে । কিন্তু নুরুল ইসলাম ছাড়তে রাজি না হওয়ায় একপর্যায়ে তাকে আরো বিশেষ অনুরোধ করে বলেন অনন্ত ৮-১০ ফুট জায়গা হলেও ছেড়ে দিয়ে সীমানা প্রাচীর করার জন্য। তাও নাকি ছাড়তে নারাজ নুরুল ইসলাম গং।

এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ শাহাজাহান বলেন, আমি অভিযোগ পেয়েছি এবং অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগতভাবে ব্যবস্হা নিবেন বলে জানান।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.