সাতকানিয়ায় মুরগির ট্রলি নিয়ে মহাসড়কে আহত হওয়া সেই সাদেক আর নেই

মহাসড়কে আহত হওয়ার ঘটনা যেতে পারে ভিন্নখাতে দাবী-আইনজীবি নাজিমের

 

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহতের পাঁচ দিন পর চালকের মৃত্যু হয়েছে। তাঁর নাম মোহাম্মদ সাদেক (২০)। গতকাল সোমবার রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।

দোহাজারী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাকসুদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, গত ২৯ জুন রাত ১০টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়া উপজেলার রোড ভিউ রেস্টুরেন্টের সামনে মুরগিবাহী একটি গাড়ি উল্টে ওই গাড়ির চালক মোহাম্মদ সাদেক আহত হন।

গুরুতর আহত সাদেককে স্থানীয়রা উদ্ধার করে কেরানীহাটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেয়। সেখান থেকে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল সোমবার রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।

কিন্তু এই আহতকে কেন্দ্র করে কেঁওচিয়ার ৯নং ওয়ার্ডের আইনজীবি নাজিম উদদীনের সম্পৃক্ততার কথা প্রচার করে আসছিলো সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলা একই এলাকার তৈয়ব আলীরা।

তৈয়ব আলীদের দাবী ছিলো -শুরু থেকে অদ্য পর্যন্ত আহত সাদেক(২০)কে এসিড নিক্ষেপ করা হয়েছিলো মহাসড়কে সুকৌশলে।

অপর দিকে চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়কে স্থানীয় রেষ্টুরেন্ট রোডভিউ এর সামনে উপস্থিত লোকজন মুরগি বোঝাই ট্রলি সড়ক দূর্ঘটনার স্বীকার বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করেছিলো তাৎক্ষনিক।
এমন কি সাতকানিয়ার এক স্থানীয় সাংবাদিকের সামনেই এই দূর্ঘটনা হয় বলে সুত্র নিশ্চিত করেন। এবং ওই সাংবাদিকের নিজস্ব ভেরিফাইড ফেসবুকেও দূর্ঘটনা বলে একটি ভিডিওসহ কয়েকটি ছবি পোষ্ট করা হয়েছিলো।

তবে অপর দিকে আহত সেই সাদেক(২০)চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যু বরণ করলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ৩০% এসিডে ঝঁলসে তার (সাদেক)এর মৃত্যু হয়েছেন বলে মৃত্যুনামা প্রদান করেন।

অপরদিকে আহতের সময় স্পটে থাকা স্থানীয় লোকজনের চোখের সামনেই ঘটেছিলো সেদিনের মুরগী বোঝায় ট্রলির এক্সিডেন্ট, যেটার স্টীল ছবি আর ফুটেজ সামাজিক মাধ্যমে এখনো ভেসে বেড়াচ্ছে।
স্পটে থাকা লোকজনের মধ্য থেকে- তখন থেকে এখন পর্যন্ত কেউ সেটাকে পরিকল্পিত কোন হামলা বা ঘটনা বলে প্রচার বা বলতে শোনা যায়নি।

এই প্রসঙ্গে আইনজীবি নাজিম উদদীন বলেন,আমার   পরিবারের উপর চাঁদা না পেয়ে বিগত ২৬/৬/২২ ইং তারিখে একদল সন্ত্রাসী হামলা চালায়। উক্ত হামলায় আমার মা সহ দুই ভাই গুরুত্বর আহত হয়।

উক্ত ঘটনা সংক্রান্তে আমি দুইজন কে এজাহার ভুক্ত আসামি করে এবং ৫০/৬০ অজ্ঞাত নামা আসামি করে মামলা করেছি।আমার মামলার খবর পেয়ে আসামীরা আমার নামে এবং আমার পরিবারের নামে মামলা করার জন্য বিভিন্ন পাঁয়তারা করিয়া আসিতেছে।

অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে বিগত ২৯/৬/২২ ইং তারিখে রাত ৯.৫৯ ঘটিকার সময়( রোড ভিউ রেস্টুরেন্টের সিসিটিভির ফুটেজ থেকে) চট্টগ্রাম – কক্সবাজার মহাসড়কের হাসমতের দোকানের পশ্চিম পার্শ্বে রোড ভিউ রেস্টুরেন্টের সামনে ১নং আসামীর(তৈয়ব আলী) কর্মচারি মুরগী বোঝাই ট্রলি/ভটবটি গাড়ি নিয়ে এক্সিডেন্ট করেন।
উক্ত এক্সিডেন্টে ট্রলি চালকের নাম সাদেক (২০)গাড়ির গরম পানি পড়ে পিঠে জলসে যায়। উক্ত এক্সিডেন্টের সময় একজন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে ছবিগুলো তুলেছেন। উক্ত এক্সিডেন্টের ঘটনাকে ১ নং আসামী (তৈয়ব আলী)ভিন্ন ভাবে নিয়ে আহত চালক সাদেককে সাতকানিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে পুলিশ কেইস এর স্লিপ নিয়ে আমাকে এবং আমার ভাইদের নিয়ে সাতকানিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

অথচ!উক্ত সময়ে আমি চট্টগ্রাম শহরে অবস্থান করছিলাম।
উক্ত এক্সিডেন্টের ঘটনা নিয়ে পরিকল্পিত ভাবে আমার প্রতিপক্ষগন আমাকে এবং আমার পরিবারের সদস্যদের ফাঁসানোর চেষ্টা করতেছে।
উক্ত বিষয়ে আমি বিভিন্ন গনমাধ্যমসহ প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।

 

এদিকে একই বিষয়ে আইনজীবী নাজিমুদ্দিন  তার ব্যবহৃত ফেসবুকে লাইভে এসেও জানান দেন যে এই মৃত্যুর সাথে তাকে ফাঁসানোর ষড়যন্ত্র চলমান।

 

তবে সচেতন মহল জানান-প্রশাসন মৃত্যুর ধরণও কারণ ঠিকই বের করে ফেলবে -এখানে নির্দোষ  যেমন দোষী হবেনা, অপরদিকে দোষী কেউ বাঁচতেও  পারবেনা।

 

 

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.