চোরাই মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরে এলো পদ্মা সেতু, বাড়ি এসে ধরা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা
কেরানীহাটসহ একাধিক জায়গায় চুরির গডফাদার হিসেবে পরিচিত
সৈয়দ আক্কাস উদ্দীন:
চট্টগ্রামের চন্দনাইশ থানা পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ১টি চোরাইকৃত মোটরসাইকেলসহ দেড় ডজন মামলার আসামী কেরানীহাটের স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা জাবেদ জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার করেছে। গত মঙ্গলবার রাতে সাতকানিয়ার কেরানীহাট এলাকায় এ অভিযান চালায় পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গত বছরের ৯ ডিসেম্বর চন্দনাইশের হাশিমপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড উত্তর হাশিমপুর, ছৈয়দাবাদ আলমগীর চেয়ারম্যানের বাড়ির মৃত মোজাহের মিয়ার পুত্র মো. নোমান(৪৯)-এর ১টি মোটরসাইকেল চুরি হয়।
এ ব্যাপারে থানায় অভিযোগ দায়েরের পর মোটরসাইকেলটি উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রাখে চন্দনাইশ থানার পুলিশ।
গত মঙ্গলবার চোরাইকৃত মোটরসাইকেলটি কেরানীহাটে রয়েছে এমন সংবাদ গোপন সূত্রে পেয়ে চন্দনাইশ থানার এসআই মো. হাছান উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ অভিযান চালায়।
এসময় চোরাইকৃত মোটরসাইকেলটি সহ জাবেদ জাহাঙ্গীর নামে ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত জাবেদ জাহাঙ্গীর সাতকানিয়ার কেওচিয়া ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড চেয়ারম্যান পাড়ার ইলিয়াছ ড্রাইভারের পুত্র। সে কেরানীহাটসহ একাধিক জায়গায় চুরির গডফাদার হিসেবে পরিচিত।
গ্রেপ্তারকৃত জাবেদ জাহাঙ্গীর সড়ক দুর্ঘটনায় একহাত হারিয়েও চোরাই মোটরসাইকেলটির এক্সিলারেটর স্টিয়ারিং বাম পাশে স্থানান্তর করে এক হাতে চালিয়ে সিলেট, রাজশাহী, খুলনা ও পদ্মা সেতু সহ বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করেছে বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করে।
চন্দনাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন জানান, চোরাই মোটরসাইকেলসহ গ্রেপ্তারকৃত জাবেদ জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ১০টির বেশি মামলা রয়েছে। তাকে বুধবার (৬ জুলাই) আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ প্রদান করেন।
জাবেদের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর যুবলীগ কর্মী আবদুল জব্বার হত্যা মামলাসহ নাশকতা ও জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার একাধিক মামলা আছে বলে জানা গেছে।
জানা যায়, ২০১৩ সালের ১০ ডিসেম্বর সরকারের শেষ সময়ে সাতকানিয়া থানার মাদারবাড়ি এলাকায় বিএনপি-জামায়াত কর্মীদের হামলায় গুরতর আহত হন যুবলীগ কর্মী আবদুল জব্বার (২৬)। আশঙ্কাজনকভাবে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে আনা হলে ১৯ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান জব্বার। এ ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পরে আওয়ামী লীগ দ্বিতীয়বার সরকার গঠন করলে নিহত জব্বারের পরিবারকে ঢাকায় ডেকে দশ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আলোচিত এ মামলার অন্যতম আসামি জাবেদ জাহাঙ্গীর। যুবলীগ কর্মী জব্বার হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেন এ স্বেচ্ছাসেবক দলের ক্যাডার। তার বিরুদ্ধে সেসময় ১৭টির মত মামলা বিচারাধীন থাকার কথা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়। এরমধ্যে কোনো একসময় অবৈধভাবে ভারতে পালিয়ে যান জাবেদ। সেখানেও শেষ রক্ষা হয়নি। ২০১৪ সালের ৯ অক্টোবর জেএমবির জঙ্গি সন্দেহে জাবেদকে গ্রেপ্তার করে ভারতের পশ্চিবঙ্গের বনগাঁ থানা পুলিশ। পরে দেশে ফেরত আসার পর পুলিশ তাকে বেশ কয়েকবার গ্রেপ্তার করে।