পবিত্র ঈদুল আজহার দিনে দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত নগরের অলিগলি থেকে চামড়া সংগ্রহ করেছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। লাভের আশায় সে চামড়া আড়তদারদের কাছে নিতেই বাঁধে যত বিপত্তি। কেউবা চামড়াপ্রতি ২০ টাকা লাভ পাচ্ছেন, আবার কেউবা অনভিজ্ঞতায় বেশি দরে চামড়া কিনে এখন কেনা দামেও চামড়া বিক্রি করতে পারছেন না।
এদিকে আজ ঈদের দিন প্রথম ধাপে নগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগ্রহ করা চামড়াগুলোই কিনে নিচ্ছেন আড়তদাররা। বিভিন্ন উপজেলার চামড়াগুলো আগামীকাল সংগ্রহ করবেন বলে জানিয়েছেন তারা। তাই লবণ দিয়ে চামড়া সংরক্ষণের পরামর্শও দিয়েছেন আড়তদাররা।
রোববার (১০ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় নগরের চৌমুহনী এলাকায় ৭০টি চামড়া নিয়ে আসেন মৌসুমি ব্যবসায়ী মো. জামাল। তিনি সিভয়েসকে বলেন, আমি বড় সাইজের চামড়া ২৫০ টাকায় কিনেছি। এখন আড়তদাররা প্রতি চামড়া ২শ টাকায় কিনতে চাইছেন। আমি এখন কেনা দামে চামড়া বিক্রি করতে চাইছি। তবুও পারছি না।
নগরের আগ্রাবাদ এলাকা থেকে ৫০ পিস চামড়া সংগ্রহ করেছে আবু মোতালেব। তিনি বলেন, ১৮০ থেকে ২শ টাকা দরে চামড়া কিনে ২২০ টাকায় সব বিক্রি করে দিয়েছি। আড়তদাররা ঠকাতে চাইছেন। তাই ২০ টাকা লাভও ভালো এই মন্দা বাজারে। আগামী বার আর চামড়া কিনবো না।
এ বছর রাজধানীতে প্রতি বর্গফুট গরুর লবণযুক্ত কাঁচা চামড়ার দাম ৪৭ থেকে ৫২ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৪০ থেকে ৪৪ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। আর খাসির লবণযুক্ত চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ১৮ থেকে ২০ টাকা এবং বকরির চামড়া ১২ থেকে ১৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
মৌসুমি ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, আড়তদাররা ইচ্ছা করেই কম দামে চামড়া কিনছেন। তারা সবাই মিলে সিন্ডিকেট করে কম দামে চামড়া কিনে ট্যানারি মালিকদের কাছে ৭শ থেকে ৮শ টাকা হারে বিক্রি করবেন।
তবে সিন্ডিকেটের অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ মুসলিম উদ্দিন সিভয়েসকে বলেন, আমাদের সিন্ডিকেট করার প্রশ্নেই ওঠে না। আমরা যথাযথ নিয়মে চামড়া খরিদ করছি। কিছু অনভিজ্ঞ মৌসুমি ব্যবসায়ী যদি না বুঝে বেশি দামে চামড়া কিনে সেটা তো আমাদের দোষ না। আমাদের যদি না পোষায় তাহলে আমরা ওই চামড়া কেন কিনবো? অনেকেই চামড়া বিক্রি করে লাভবান হয়েছেন।
তিনি বলেন, এবার আমরা দু ধাপে চামড়া কিনছি। আজ প্রথম ধাপে নগরের বিভিন্ন এলাকার চামড়াগুলো আমরা কিনছি। আগামীকাল সোমবার বিভিন্ন উপজেলার চামড়াগুলো সংগ্রহ করব। তাই আমরা ওই চামড়াগুলোতে লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করার পরামর্শ দিয়েছি।