চট্টগ্রামে সংস্কৃতি কর্মী গায়ত্রী চৌধুরীকে হত্যার অভিযোগ

চট্টগ্রামে সংস্কৃতি কর্মী গায়ত্রী চৌধুরীর (৩৫) মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগ করেছেন তার পিতা তপন দাশ। তিনি রিটন চৌধুরীসহ (৪৯) ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করার প্রস্তুতি নিয়েছে বলেও জানান।

এর আগে গত সোমবার (১১ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা গায়িত্রী চৌধুরীকে মৃত ঘোষণা করেন।
জানা গেছে, নগরীর জামালখান প্রেস ক্লাবের বিপরীতে একটি ভবনের ছয় তলায় সংস্কৃতি কর্মী গায়ত্রী চৌধুরী ও তার স্বামী রিটন চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছে। ঘটনার দিন সংস্কৃতি কর্মী গায়ত্রী চৌধুরী গত ১১ জুলাই সোমবার বেলা ১২টায় তার বাবার সাথে মোবাইলে কথা বলেন। দুপুর ২টায় নিজের ফেসবুকে পুজোর ছবি আপলোড দেন। আড়াইটার দিকে মেয়ের জামাই রিটন চৌধুরী হঠাৎ ফোন করে শ্বশুরকে তার মেয়ে অসুস্থ বলে চট্টগ্রাম মেডিকেলে আসতে বলেন।

লাশটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে মেডিকেল থেকে কোতোয়ালী থানাকে জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে। লাশ চট্টগ্রাম মেডিকেল থেকে ময়নাতদন্ত করে রাউজান পৌরসভার জগতমল্লপাড়া জানআলীর হাটে নিয়ে দাহ করা হয়।
রাউজান পৌরসভার জগতমল্লপাড়ার জালানীহাট এলাকার মৃত নেপাল চৌধুরীর পুত্র সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী রিটন চৌধুরীর সাথে পটিয়া পৌর সদরের সুচক্রদন্ডী এলাকার তপন দাশের মেয়ে গায়িত্রী দাশের সাথে ২০০৪ সালে বিয়ে হয়। বিয়ের আগ থেকে গায়ত্রী চৌধুরী স্কুল কলেজে পড়ার সময় খেলাঘর আসর, বর্ণরেখা খেলাঘর আসরসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন শিশু সংগঠনের সাথে যুক্ত ছিলেন। নিয়মিত সংগীত চর্চা করতেন।

এ বিষয়ে সাংস্কৃতিক কর্মী গায়ত্রী চৌধুরীর পিতা তপন দাশ জানান, আমার মেয়েকে তারা পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। কোন আত্মহত্যা করেনি, তারা আত্মহত্যার নাটক সাজানোর চেষ্টা করতেছে। ঘরে মেয়ের জামাইর উপস্থিত ছিল, উনার উপস্থিতে কিভাবে আত্মহত্যা করল সঠিক তদন্ত করলে প্রকৃত ঘটনা বের হয়ে আসবে । টাকার বিনিময়ে পোস্টমর্টেম রিপোর্ট তাদের পক্ষে নেয়ার চেষ্টা করবে বলে বিভিন্ন জনকে বলাবলি করতেছে।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য রিটন চৌধুরীর মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলেও রিং বাজলেও রিসিভ করেনি। বিভিন্ন মোবাইল থেকে ফোন করলে তাকে পাওয়া যায়নি।

কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ জাহিদুল কবির জানান, ঘটনাটি ঘটনার পর আমি নিজেই লাশ পোস্টমর্টেম রির্পোটের জন্য পাঠিয়েছি। রিপোর্ট আসার পর ঘটনার মামলা কোন দিকে যাবে বলা যাবে। তবে গৃহবধুর পরিবারের পক্ষ থেকে যদি হত্যা মামলা করতে থানায় আসে পুলিশের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে। তবে এখনো পর্যন্ত এ ধরণের অভিযোগ নিয়ে আমাদের কাছে কেউ আসেনি।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.