ঘোষণা দিয়েও দালালমুক্ত হতে পারেনি লোহাগাড়া উপজেলা ভূমি অফিস। আলমারির ‘চাবি’থেকে ফাইল সবকিছুর নিয়ন্ত্রণে দালালরা।
সোমবার (২৫ জুলাই) উপজেলা ভূমি অফিস ঘুরে দেখা গেছে, রেকর্ড রুমের আলমারি থেকে ফাইলপত্র বের করে আনছেন দালালরা। সবার সামনে আলমারি থেকে ফাইলপত্র নিয়ে দালালরা বেরিয়ে গেলেও নিশ্চুপ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
সেবাপ্রার্থীদের অভিযোগ, ভূমি অফিসের যেকোন কাজে প্রথমে দ্বারস্থ হতে হয় দালালদের। এরপর তাদের কাছ থেকে মোটাদাগে টাকা নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে নিয়ে পরবর্তী কাজ নামে দালালরা। আর যারা দালালের দ্বারস্থ হন না তাদের ফাইল কৌশলে অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহযোগিতায় আটকে রাখেন। আর যদি কেউ এসব নিয়ে মুখ খোলার চেষ্টা করে তার দুর্গতির শেষ নেই। এমনকি এসিল্যান্ডের দ্বারগোড়ায় পৌঁছাতেও ‘আশীর্বাদ’ নিতে হয় দালাল-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বয়স্ক এক ব্যক্তি বলেন, নতুন এসিল্যান্ড এসেছে শুনেছি। তিনি নাকি সেবা দিতে প্রস্তুত। কিন্তু তার দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই কাজের বড় বাধা। কারণ তাারা সবাই দালালপুষ্ট। দালালদের ছাড়া সেবাতো দূরে থাক, ফাইল খুঁজে পেতেও কষ্টকর হয়ে যায় সাধারণ মানুষের।
জানা গেছে, , ভূমি অফিসে দালাল সিন্ডিকেট প্রতিদিন ভূমি অফিসের কানুনগো, সার্ভেয়ার ও অফিস সহায়কের কক্ষের কর্মচারীদের ম্যানেজ করে গুরুত্বপূর্ণ ফাইল তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। কাজ শেষ হলেই ইচ্ছে মতো রেখে যায়।
লোহাগাড়া উপজেলা সহাকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ শাহাজাহান বলেন, যোগদানের পর থেকে ভূমি অফিসকে শতভাগ দালালমুক্ত। ভূমি সংক্রান্ত যাবতীয় সেবা আমার অফিস থেকে দেওয়া হবে। তবে যারা আলমারি থেকে ফাইলপত্র বের করেছেন, তাদের ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।