বাঁশখালীতে পাহাড় কেটে সাবাড়

বাঁশখালী প্রতিনিধিঃ

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার সাধনপুরে চলছে পাহাড় কাটা। পাহাড় খেকো স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তির সিন্ডিকেটর নেতৃত্বে ওই স্থানে পাহাড়ি মাটি কেটে সাবাড় করার মহোৎসব চলছে। চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের কালীপুর বনবিটের আওতাধীন পুকুরিয়া বৈলগাঁও চা বাগানের সম্পত্তি জবর দখলের কু-মানসে সাধনপুর বাণীগ্রাম নতুন পাড়া কচুজুম এলাকায় পাহাড় কাটা অব্যাহত রয়েছে। সাধনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অল্প পূর্বে মাটি কেটে পাহাড় সাবাড় করা হচ্ছে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাধনপুর ইউপির ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আওতাধীন বাণীগ্রাম নতুন শীল পাড়ার কচুজুম এলাকায় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি বসতবাড়ি নির্মাণের জন্য পাহাড়ের সর্বোচ্চ চওড়া সমতলে পরিণত করতে এ মাটি কাটার কাজ অব্যাহত রাখে। ওই এলাকার মোঃ বাবুলের ছেলে মোঃ জনি, সাবেক ইউপি সদস্য আবুল হোসেন, নুরুল আবচার ও জেবুল হোসেন কুম রেজিস্ট্রা জায়গায় বসতি স্থাপনের জন্য পাহাড়ি কেটে মাঠি বিক্রি করে পুরো পাহাড় ধ্বংস করে দিয়েছেন। পাহাড়টি সহ আশেপাশে আরো ২- ৩ টি পাহাড় তাদের নেতৃত্বে প্রতিনিয়ত রাতে অন্ধকারে পাহাড় টি কেটে প্রায় সাবাড় করে দিয়েছেন। ওই পাহাড় থেকে প্রায় ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার ট্রাক মত মাটি বিক্রি করেছে বলে ধারণা করে স্থানীয়রা। গত ২ থেকে ৩ মাস ধরে এই পাহাড় কেটে ৪-৫ কোটি টাকার মাটি বিক্রি হয়েছে। এই সিন্ডিকেট স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তি,জনপ্রতিনিধি সহ প্রভাবশালী মহল জড়িত রয়েছে বলে জানা যায়। এ দিকে এই পাহাড়খেকো সিন্ডিকেট রাতারাতি পাহাড় কেটে সাবাড় করলেও প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয়রা। পাহাড় টির পাশে ছালেহ আহমদ এর পুত্র বাদশা ও মোঃ জনি অবৈধ বসতি স্থাপন করে। পাহাড়ে তাদের বসতির আয়তন বাড়াতে বাড়ির পূর্বপার্শ্বে মাটি কাটা কাজ বাস্তবায়ন করছে। সাবাড় করা পাহাড়ের ওই চওড়াটি সাধনপুর এলাকার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ। অর্ধেকের বেশি অংশ কাটা হয়েছে। পুরো পাহাড় টি স্কেভেটর দিয়ে কাটা হয়েছে। পাহাড় টি আশেপাশে আরো বেশ কয়েকটি পাহাড় কাটা চলছে। মানুষের বসবাস উপযোগী করতে ভূমিদস্যু চক্রের কু-দৃষ্টি পড়ে পাহাড়ে। ভূমিদস্যুরা দু’য়েক মাস যাবৎ পাহাড় কাটছে এবং পাহাড়ের চওড়া সমতল করেছে। প্রায় ফুটবল খেলার মাঠ সমান অংশ পাহাড়ের চওড়ায় মাটি কেটে সমতল করে। বাদশা ও জনির ভিটার লাগোয়া ওই চড়াটি প্রবাহমান। এদিকে পাহাড় কাটা অব্যাহত থাকলেও নেই ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা। স্থানীয় লোকজন এ পাহাড় কাটার জন্য বনবিভাগকে দায়ী করছেন। তারা দেখলেও না দেখার ভান করে। এ বিষয়ে ইউপি সদস্য মোঃ দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমার ওয়ার্ডের বাণীগ্রাম নতুন পাড়া এলাকায় পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করছে একটি সিন্ডিকেট। তারা দীর্ঘদিন যাবৎ এই পাহাড় কেটে সাবাড় করেছে। কিন্তু স্থানীয় জনসাধারণ তাদের বিরুদ্ধে কেউ মূখ খুলছে না। কুম রেজিস্টেট জায়গা গুলো দখল করে সাবেক ইউপি সদস্য আবুল হোসেন, নুরুল আবচার ও জেবুল হোসেনের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট এই পাহাড় গুলো কেটে সাবাড় করে ফেলছে। এ দিকে খবর বাঁশখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্টেট খন্দকার মাহমুদুল হাসান অভিযান পরিচালনা করার খবর পেয়ে ভূমিদস্যুরা পালিয়ে যায়,তিনি জানান, কয়েকবছর আগে চাঁদপুর-বোলগাঁও চা বাগান কতৃপক্ষের কাছ থেকে স্থানীয় কিছু লোক ইজারা নেয়। পাহাড়খেকোরা রাতের আঁধারে মাটি কেটে নিয়ে যায়। আমরা এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যর সাথে কথা বলেছি। আমাদের কঠোর নজরদারি রয়েছে। শীঘ্রই এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাইদুজ্জামান চৌধুরী বলেন, পাহাড় কাটার বিষয়ে খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। শীঘ্রই পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.