হিন্দু না মুসলিম— এ নিয়ে বিবাদ, ২৪ দিন ধরে হিমাঘারে যুবকের মরদেহ

কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়ায় ২৯ জানুয়ারি তেলবাহী লরিচাপায় পিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় ২৯ বছর বয়সী এক যুবকের। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানো হয় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে।

নিহত সেই যুবক হিন্দু না মুসলিম এ নিয়ে বাধে দ্বন্দ্ব। তাকে সৎকার করা হবে নাকি কবর দেওয়া হবে এ বিবাদে চমেক মর্গে মরদেহ পড়ে আছে ২৪ দিন।

এর আগে ৩০ জানুয়ারি পটিয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট বিশ্বেশ্বর সিংহ ধর্ম শনাক্ত না হওয়া পর্যন্ত মরদেহ চমেক হাসপাতালের হিমাগারে রাখার নির্দেশ দেন।

নিহত যুবকের পরিবার শুরু থেকেই দাবি করে আসছে- রতন দাস সনাতন ধর্মের অনুসারী। তাই হিন্দু ধর্মের নিয়ম মেনে শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে চায় তারা। কিন্তু তার সহপাঠীদের দাবি, রতন ২০২০ সালের ১৭ নভেম্বর চট্টগ্রামের লালখান বাজার এলাকার একটি মাদরাসায় মাওলানা হারুন এজাহারের কাছে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। এর পর থেকে তিনি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তেন ও ইসলাম ধর্মের সব নিয়ম-কানুন মেনে চলতেন। তাই মুসলিম হিসেবে তার মরদেহ দাফন করতে আগ্রহী সহপাঠীরা।

জানা গেছে, ওই যুবকের নাম রতন দাস (২৯)। বাড়ি মিরসরাই উপজেলার পূর্ব মায়ানী গ্রামে। তার বাবার নাম মনো দাস ও মায়ের নাম সন্ধ্যা রানী দাস। রতন বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান হওয়ায় মাকে নিয়ে নগরের আগ্রাবাদ এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন এবং একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন।

হলফনামার বিষয়ে অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম বলেন, নিহত যুবক ২০২০ সালে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার জন্য জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে নাম পরিবর্তন করে আহমাদ হয়েছে। যার নোটারি নম্বর- ১১০৫৪৪। ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার ছবিও রয়েছে। হলফনামামূলে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে এফিডেভিট সম্পাদন করেছি।

নিহত যুবকের শিক্ষক ক্বারী মোহাম্মদ আকরম হোসেন বলেন, আমার কাছে তার সহপাঠীরা নিয়ে এসেছিলেন। আমি তাকে কুরআন ও ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা দিয়েছি। সে নিয়মিত ইসলাম হুকুম আহকাম মেনে চলতো। সে যে মুসলিম বিষয়টি আদালতে প্রমাণ করতে আমরা সব কাগজপত্র সংগ্রহ করেছি। দুই-একদিনের মধ্যে আমরা আদালতে উপস্থাপন করবো।

নিহতের মা সন্ধ্যা রাণী দাস বলেন, ‘রতন আমার নাড়ি ছেঁড়া সন্তান। দশ মাস এই জঠরে ধরেছি। আমার ছেলে মুসলমান হয়নি। যে হলফনামা দেখানো হচ্ছে সেটি ভুয়া। ছেলে আমার সঙ্গে থাকতো। সনাতন ধর্মের সবকিছু পালন করতো। কেউ যদি হাজারো ডকুমেন্ট উপস্থাপন করে সেটি আমার কাছে ভিত্তিহীন। পৃথিবীর এমন কোনো আইন নেই- মায়ের কাছ থেকে তার ছেলেকে আলাদা করার। আমি মহামান্য আদালতের কাছে আবেদন জানাচ্ছি, আমার ছেলের মরদেহ আমার কাছেই ফিরিয়ে দিবেন’।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পটিয়া হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক রুহুল আমিন বলেন, আদালতের নির্দেশে মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হিমাগারে রাখা হয়েছে। বিজ্ঞ আদালত মার্চের নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে নিহত যুবকের স্থায়ী-অস্থায়ী ঠিকানায় গিয়ে সব খবরাখবর নিয়ে ডকুমেন্টসসহ উপস্থাপন করতে বলেছেন। তদন্তের কাজ শেষ পর্যায়ে। সব ডকুমেন্টসসহ শিগগিরই আদালতে উপস্থাপন করবো। আদালতের রায় যার পক্ষে যাবে, তিনিই মরদেহ নিয়ে যাবেন।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.