পটিয়া প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের পটিয়ায় প্রতিপক্ষের ভয়ে পালিয়ে বেড়ানো একটি পরিবারের ঘরের মালামাল লুট করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী পরিবারটির অভিযোগ সরাসরি আমলে নিয়ে গত ২৬ জুন পটিয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্টেট আদালতের বিচারক বেগম তাররাহুম আহমেদ ৬ জন আসামীর বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। আসামীরা হলেন, শোভনদন্ডী ইউনিয়নের হাতিয়ারঘোনা এলাকার আবদুল ছবুরের ছেলে নুরুল আবছার (৩৭), হিলচিয়া এলাকার মৃত মোসলেম মিয়ার ছেলে মো. মহসীন (৪০), রিয়াজ উদ্দিন (৩৫), নেজাম উদ্দিন (২৭), আবুল কাশেমের ছেলে জহির আহমদ (২৭) ও সিরাজ মিয়ার ছেলে মো. নাজিম (২৩)। এরআগে গত ২ জুন প্রতিপক্ষের গুলিতে সাকিব নামে এক কিশোর গুলিবিদ্ধ হন। এ ঘটনায় আদালতের নির্দেশে পটিয়া থানায় একটি মামলা নথিভূক্ত করা হয়। সেই মামলায় ৫ জন আসামী গত ২২ জুন পটিয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্নসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে আদালতের বিচারক বেগম তাররাহুম আহমেদ তাদের জামিন আবেদন না মন্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন । এর জের ধরে ক্ষিপ্ত হয়ে আসামী পক্ষের লোকজন ইদ্রিচ আলীর পরিবারের উপর সশস্ত্র হামলা চালায়। গত ২৩ জুন শুক্রবার বিকেল থেকে শোভনদন্ডী ইউনিয়নের হিলচিয়া গ্রামের মৃত করিম বকসুর ছেলে ইদ্রিচ আলীর পরিবার স্থানীয় কিশোর গ্যাং লিডার নুরুল আবছার বাহিনীর ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। জানা যায়, গত ২৩ জুন বিকেল ২.৩০ ঘটিকার সময় কিশোর গ্যাং লিডার নুরুল আবছারের নেতৃত্বে ১০/১২ জনের একটি স্বসস্ত্র সন্ত্রাসীদল ইদ্রিস আলীর ঘরে হামলা করে ফাঁকা গুলি বর্ষনের পর মারধর করে ৪ জনকে গুরতর আহত করে। আহতরা হলেন, ইদ্রিস আলী, রুবি আক্তার, মিনুয়ারা বেগম, উম্মত আলী। এসময় তারা রুবি আক্তার ও মিনুয়ারা বেগমের শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। গত ২৬ জুন পটিয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করার পর আসামীরা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে ইদ্রিচ আলীর ঘরের তালা ভেঙে মুল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ইদ্রিস আলী । হামলার শিকার ইদ্রিস আলী জানান, আমার পরিবারের উপর হামলার পর বাড়ি ঘরে ব্যাপক ভাংচুর করে আমাদের টাকা পয়সা, স্বর্ণালংকার, টিভি ফ্রিজ সহ সবকিছু লুটপাট করে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে আমরা বাড়িতে ঢুকতে চাইলে আবছারের নেতৃত্বে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা অস্ত্র হাতে আমাদের ধাওয়া করে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেন। আমরা এখনো সন্ত্রাসীদের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। বর্তমানে আমরা পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছি।
আরো পড়ুন