রাত পোহালেই সাতকানিয়াবাসীর ব্যালটে নির্ধারণ হবে নদভী নাকি মোতালেব

লাইনে দাঁড়িয়েই প্রত্যক্ষ ভোটে হতে হবে নির্বাচিত

 

নিজস্ব প্রতিবেদক

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি শেষ। এখন শুধু ভোটের জন্য অপেক্ষা। আগামীকাল রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ করা হবে। এর ৪৮ ঘণ্টা আগে প্রচার কার্যক্রম শেষ করার নিয়ম মেনেই গতকাল সকাল ৮টায় সারা দেশে সব ধরনের প্রচারের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হয়েছে। এর পরও নানাভাবে অনানুষ্ঠানিক প্রচার এবং পোলিং এজেন্ট চূড়ান্তকরণে প্রার্থীরা ব্যস্ত রয়েছেন।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গতকাল সকাল ৮টায় প্রচারের সময় শেষ হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কেউ আইন না মানলে ছয় মাসের জেল বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে। কমিশন চাইলে কারও প্রার্থিতা বাতিলের মতো কঠোর সিদ্ধান্তও নিতে পারে।

 

এদিকে আইনশৃংখলা বাহিনীর প্রায় সাড়ে ৭ লাখ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫ লাখ ১৭ হাজার ১৪৩ আনসার সদস্য। বাকিদের মধ্যে রয়েছে বিজিবি, র্যাব, পুলিশ, কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী। এরই মধ্যে গত ৩ জানুয়ারি থেকে ভোটের মাঠে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা। ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত আট দিন মাঠে থাকবেন তারা। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করার লক্ষ্যে আগামী ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র বহন ও প্রদর্শনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এ সময় পর্যন্ত লাইসেন্সধারীরাও আগ্নেয়াস্ত্র বহন করতে পারবেন না।

নির্বাচন কেন্দ্র করে আট বিভাগে ২ হাজারেরও বেশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত রয়েছেন। বিভিন্ন অপরাধের বিচার সম্পন্ন করতে গতকাল থেকে মাঠে নেমেছেন আরও ৬৫৩ বিচারিক হাকিম। তারা ভোটের আগে-পরে পাঁচ দিন দায়িত্ব পালন করবেন। এর আগে সারা দেশে ৩০০ আসনের জন্য ৩০০টি নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি করা হয়। তারা বিভিন্ন অপরাধে প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের রেকর্ডসংখ্যক শোকজ, তলব ও জরিমানা করেন। এসব কমিটির সুপারিশে নিয়মিত আদালতে অর্ধশতাধিক প্রার্থী ও তাদের সমর্থকের বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত হয়।

১৮৬ বিদেশিকে পর্যবেক্ষণের অনুমতি: নির্বাচন দেখার জন্য যেসব বিদেশি আবেদন জানিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে ১৮৬ পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিককে অনুমোদন দিয়েছে ইসি। তাদের মধ্যে ১২৭ পর্যবেক্ষক আর ৫৯ জন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের কর্মী। এ ছাড়া নির্বাচন দেখতে দেশি ২০ হাজার ৭৭৩ পর্যবেক্ষককে অনুমোদন দিয়েছে ইসি। তাদের মধ্যে কেন্দ্রীয়ভাবে ৪০ পর্যবেক্ষণ সংস্থার ৫১৭ জন এবং স্থানীয়ভাবে ৮৪ সংস্থার ২ হাজার ২৫৬ জন ভোট পর্যবেক্ষণ করবেন।

২২ সদস্যের মনিটরিং সেল: নির্বাচন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে ২২ সদস্যের মনিটরিং সেল গঠন করেছে কমিশন। এই মনিটরিং সেলের নেতৃত্ব দেবেন আইডিএ প্রকল্প-২-এর প্রকল্প পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ সায়েম। ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী, মনিটরিং সেল শনিবার সকাল ৮টা থেকে ৯ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত ৭২ ঘণ্টা পরিচালনা করা হবে। দায়িত্বরত কর্মকর্তারা বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে মাঠপর্যায়ে যথাসম্ভব যাচাই-বাছাই করা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনকে অবহিতকরণ এবং জরুরি প্রয়োজনে বিশেষ প্রতিবেদন পাঠাবেন।

ব্যয় ২৩০০ কোটি টাকা: এ নির্বাচনের ব্যয় বেড়ে দাঁড়াচ্ছে প্রায় ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। আসনপ্রতি ৭ কোটি টাকার বেশি ব্যয় করবে ইসি। বিশাল এ বাজেটের বেশিরভাগ অর্থই ভোটের দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পেছনে ব্যয় হবে। জানা গেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থেকে প্রাপ্ত চাহিদা অনুযায়ী সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ১ হাজার ২২৫ কোটি ৬২ লাখ টাকা এবং নির্বাচন পরিচালনা খাতে সম্ভাব্য ব্যয় ১ হাজার ৫০ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

এবারের নির্বাচনে ভোটার ১১ কোটি ৯৬ লাখ ৯১ হাজার ৬৩৩ জন। এর মধ্যে ৬ কোটি ৭ লাখ ৭১ হাজার ৫৭৯ পুরুষ, ৫ কোটি ৮৯ লাখ ১৯ হাজার ২০২ নারী এবং ৮৫২ জন হিজড়া।

ঘরে বসেই মিলবে ভোটার নম্বর, কেন্দ্রের তথ্য:

ইসির ‘স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি’ নামের অ্যাপে ভোটার নম্বর, কেন্দ্রের নাম ও অবস্থান, ভোট পড়ার হার, প্রার্থীদের হলফনামাসহ নির্বাচনের বিভিন্ন তুলনামূলক চিত্র ঘরে বসেই জেনে নিতে পারবেন আগ্রহীরা। দুই ঘণ্টা পরপর আসনভিত্তিক ভোট পড়ার হারও জানানো হবে সেখানে। অ্যান্ড্রয়েড ও অ্যাপল উভয় প্লে স্টোরে অ্যাপটি পাওয়া যাবে। অ্যাপটি ব্যবহার করতে হলে জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, জন্মতারিখ ও মোবাইল নম্বর দিয়ে নিবন্ধন করতে হয়। পরে জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্মতারিখ দিলেই মিলবে তথ্য। অ্যাপটি গত ১২ নভেম্বর উদ্বোধন করার পর এ পর্যন্ত এক লাখের বেশি ডাউনলোড করা হয়েছে।

 

 

 

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.