বাঁশখালী পুকুরিয়া ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে শত শত গাছ কাটার অভিযোগ

 

বাঁশখালী চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলা পুকুরিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আসহাব উদ্দীন অনুমতি ছাড়া শত শত গাছ কেটেছেন।

অনুমতি ছাড়া গাছ কাটায় আজ মঙ্গলবার ২৩ এপ্রিল সকালে গাছগুলোর ২ শতাধিক টুকরো জব্দ করেছে বনবিভাগের একটি দল। গাছগুলো ইউক্যালিপটাস ও আকাশমনি প্রজাতির বলে জানা গেছে।

এদিকে চেয়ারম্যান আসহাব উদ্দীন বলেন, আমার নামে এই জায়গায় টি সরকার থেকে আমি লিজ নিয়েছি। আমার গাছ আমি কেটেছি, এই গাছ গুলো আজ থেকে ২০-৩০ বছর যাবৎ আমি বড় করেছি। গাছগুলো কাটার আগে অনুমতি ও নিয়েছি বন বিভাগ থেকে।

দক্ষিণ বনবিভাগের কালীপুর রেঞ্জের পুকুরিয়া বিটের কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফ বলেন, আইন অনুযায়ী ব্যক্তিমালিকানাধীন ভূমি থেকে গাছ কাটার আগে বনবিভাগের অনুমতি নিতে হবে। কিন্তু উনি (চেয়ারম্যান) সেটি করেনি। তাই গাছগুলো জব্দ করে সেগুলো একজন স্থানীয় ইউপি সদস্যের জিম্মায় রেখেছি। তবে চেয়ারম্যান বন বিভাগ থেকে অনুমতির কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছি।

এই বন কর্মকর্তা বলেন, যে ভূমি থেকে গাছগুলো কাটা হয়েছে সেই ভূমির মালিকানা নিয়ে জটিলতা আছে। চেয়ার‌ম্যান নিজের ভূমি দাবি করে গাছগুলো কেটেছে। তবে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ওই ভূমি সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত। তাই গাছগুলো জব্দ করেছি।

পুকুরিয়া ইউপির ৫নং ওয়ার্ডের সদস্য মনির উদ্দিন বলেন, ওই ভূমি সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত। চেয়ারম্যান প্রভাব বিস্তার করে সেগুলো দখলে নিয়ে ভোগ করতেছেন। তিনি (চেয়ারম্যান) দীর্ঘদিন ধরে ওই জমিতে থাকা গাছ কেটে পরিবেশের ক্ষতি করতেছেন।

কালীপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন বলেন, এই জায়গায় গুলো বন বিভাগের আওতায় পড়েছে কিনা জানি, আমি বিট অফিসার পাটিয়েছি। ঘটনা স্থল থেকে ২ শত গাছের টুকরো জব্দ করা হয়েছে।

বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তোফায়েল আহমেদ বলেন, ঘটনাটি শুনার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাটিয়ে গাছ গুলো জব্দ করেছি।

 

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন, বিষয় টি শুনার সাথে সাথে আমি তাৎক্ষনিক ভাবে ব্যবস্থা নিতে বন বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছি।

 

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.