পতেঙ্গায় শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টা, আসামির যাবজ্জীবন

চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়ুয়া এক কন্যা শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে মো. ফজলুল শেখ (৪৮) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

আসামি মো. ফজলুল শেখ ফরিদপুরের সালতা থানার যৌথনন্দী এলাকার মৃত মো. আফসার শেখের ছেলে। তিনি থাকতেন চট্টগ্রাম পতেঙ্গা থানাধীন কাঠগড় এলাকায়।

মঙ্গলবার (১৪ মে) চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর বিচারক ফেরদৌস আরা এই রায় ঘোষণা করেন।

অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ঐ ব্যক্তির বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি ৩ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয় আদালত। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ বিশেষ পিপি এডভোকেট খন্দকার আরিফ বলেন, আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকে এসমস্ত মামলাগুলো দ্রুত শেষ করার। এজন্য মামলা সাক্ষ্য দ্রুত শেষ করে থাকি। এই মামলায় আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়াই যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ৩ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয় আদালত। এ রায়ে আমরা রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট।

মামলার এজহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ১৮ আগস্ট পতেঙ্গা থানাধীন কাঠগড় ওসিএল গলি এলাকার শহিদুলের বিল্ডিংয়ে ঘটনা এটি। ভিকটিমের বয়স তখন ৯ বছর। সে দ্বিতীয় শ্রেণীতে লেখাপড়া করতেন। বাবা ড্রাইভার হিসাবে চাকরি করতেন প্রাণ কোম্পানির গাড়িতে।

তার মা কেইপিজেডস্থ ক্যানপার্ক-২ চাকরি করতেন। ঘটনার দিন সকালে ভিকটিম ও তার ছোট বোনকে একা বাড়িতে রেখে যার যার কর্মস্থলে চলে যান ভিকটিমের মা-বাবা। সেই সুবাধে ছোট বোনকে চিপসের জন্য দোকানে পাঠিয়ে ভিকটিমকে বিস্কুট খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে শহিদুলের নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে মোঃ ফজলুল শেখ।

এ সময় ভিকটিমের চিৎকারে আশপাশের লোকজন জড়ো হয়ে তাকে উদ্ধার করে। পরে ঘটনাটি উল্লেখ করে মোঃ ফজলুল শেখ নামে ঐ ব্যক্তির বিরুদ্ধে পতেঙ্গা মডেল থানায় ধর্ষণ চেষ্টা মামলা দায়ের করেন ভিকটিমের মা।

২০১৭ সালের ৫ মার্চ পুলিশের দেওয়ার অভিযোগের উপর ভিত্তি করে অভিযোগ গঠন করে আদালত। মোট ৫ সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে দীর্ঘ ৮ বছর পর আজ ঐ অভিযুক্ত মোঃ ফজলুল শেখ বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করেন করে আদালত।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.