সৈয়দ আককাস উদদীন
সাতকানিয়া উপজেলার ব্যুরো বাংলাদেশ নামক এনজিও সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে তাদের নিয়মমোতাবেক কিস্তু পরিশোধ করতে না পেরে লোক সমাজে হেয় হওয়ার কারণে ফাঁসিতে ঝুলে প্রাণ দিল মেহেরুন্নেসা নামে এক গৃহবধূ।
২৫শে জুন(মঙ্গলবার) দুপুরে সাতকানিয়া পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের ভোয়ালিয়া পাড়ার নৌকা ঘাট এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
নিহত গৃহবধূর নাম মেহেরুন্নেসা সে ভোয়ালিয়া পাড়ার আরিফুল ইসলামের স্ত্রী।
নিহত গৃহবধুর ১১বছর আর ৭বছরের দুটি ছেলে শিশু আছেন,একজনের নাম মো:আব্দুর রহমান আরেকজন আরাফাত।
জানা যায়, ওই গৃহবধূ উপজেলার মির্জারখীল এলাকায় অবস্থিত ব্যুরো বাংলাদেশ নামক একটি বেসরকারি এনজির সংস্থা থেকে ঋণ নেয়।
তবে নিয়মমতো কিস্তি পরিশোধ করলেও মাঝে মধ্যে দিতে না পারলে ব্যুরো বাংলাদেশ নামক এনজিওর কর্মকর্তারা লোক সমাজে দিতে না পারার বিভিন্ন কারণ খুঁজে আর রাত ১১টা পর্যন্ত স্বামীবিহীন গৃহবধূ মেহেরুন্নেসার ঘরে টাকার জন্য বসে থাকেন।
অপরদিকে গেল কোরবানের ঈদ থেকে স্বামী আরিফও বাড়ি ঘরে আসতেছেনা,দুই ছেলে শিশুকে নিয়ে খুব কষ্টে অসহনীয় হয়ে যাচ্ছিল গৃহবধূর জীবন।
সব মিলিয়ে দুপুরে নিজের শরীরের ওড়না গলায় পেছিয়ে ঘরের চালের বিমে লাগিয়ে, ছেলে দুইটার জন্য দুপুরের ভাত রান্না করে এই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন গৃহবধূ আরিফুলের স্ত্রী মেহেরুন্নেসা।
নিহত গৃহবধূর বড় ছেলে মো: রহমান বলেন,আমাদের বাড়িতে কিস্তির জন্য প্রায় সময় রাত পর্যন্ত লোক বসে থাকেন।এবং গতকাল রাতেও ব্যাংকের লোক ছিলো মির্জারখিল বাংলা বাজারের।
ছেলে রহমান আরো জানান, আমার মা কাঞ্চনা ফুলতলা থেকেও একটি ঋণ নিয়েছিলো ওখানকার একজন হিন্দু ম্যাডামও আমার মাকে প্রেসার দিত।
এদিকে স্থানীয় কাউন্সিলর আরাফাত উল্লাহ বলেন,মূলত বাংলা বাজার এলাকার ব্যুরো বাংলাদেশ এনজিও এবং কাঞ্চনা ফুলতলা এলাকার একটি এনজিও থেকেও লোন নেয়, ফলে তাদের টাকা আদায়ের যে মানসিক প্রেসার সেটা তারা নিতে পারেনি।
আমরা ওইসব এনজিওর কর্মকর্তাদের আচরণের বিষয়ে অবশ্যই জবাবদিহি চাইব।