সাতকানিয়া :জামাল -মুজিবের গভীর প্রেম, এবার নিশ্চিত ধানের শীষের বিজয়
দুজনের ঐক্যে ক্ষোভে ফুঁসছে একটি কুচক্রী মহল
সৈয়দ আককাস উদদীন সাতকানিয়া :
দীর্ঘদিনের বৈরিতার অবসান ঘটিয়ে এবার ঐক্যের সুর উঠেছে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলা বিএনপি পরিবারে।
এ লক্ষ্যে সোমবার (২১ জুলাই) দীর্ঘ রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব মিটিয়ে সাতকানিয়া উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ্ব মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যানের গ্রামের বাড়িতে আয়োজিত মধ্যাহ্নভুজ অনুষ্ঠানে যোগ দেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক জামাল হোসেন সহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের উচ্চ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দরা। এ নিয়ে ইতিমধ্যে উপজেলা বিএনপি পরিবারের মাঝে বইছে আনন্দের হাওয়া।
উপজেলা পর্যায়ের একাধিক বিএনপি নেতা বলেন, স্বৈরাচার আমলে শত মামলা হামলার শিকার হয়েও বিএনপির হাল ধরে রেখেছিলেন মুজিব চেয়ারম্যান। কিন্তু পরবর্তীতে জামাল ভাইকে আহ্বায়ক করে কমিটি ঘোষনা করার পর দুই নেতার মাঝে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব শুরু হয়। আমাদের মনে হয়েছিল এই বিরোধ কখনো নিরসন হবেনা। তবে গত কিছুদিন ধরে মুজিব ভাই নিয়মিত বলে যাচ্ছিলেন বিএনপির ঐক্য প্রসঙ্গে। ইতিমধ্যে আমাদের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের মধ্যস্থতায় সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া বিএনপির মাঝে ঐক্য হয়েছে।
আমরা মনে করি, বিএনপির আজকের এই ঐক্য পরবর্তীতে বিএনপির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং এই ঐক্য আমাদের জন্য অত্যান্ত আনন্দের।
আরো পড়ুন
এর আগে সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া বিএনপির নেতৃবৃন্দকে নিয়ে গত ১৭ জুলাই ও ২০ জুলাই চট্টগ্রাম শহরে দুই দফা ঐক্য প্রক্রিয়ার বৈঠক করেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় এ বৈঠকে নেতৃত্ব দেন বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম। এ দুই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ ইদ্রিস মিয়া, সদস্য সচিব লায়ন হেলাল উদ্দীন, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আসহাব উদ্দিন চৌধুরী, জামাল হোসেন, মুজিবুর রহমান, জেলা বিএনপির সম্মানিত সদস্য অধ্যাপক শেখ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, নাজমুল মোস্তফা আমিন, এস এম ছলিম উদ্দিন খোকন চৌধুরী সহ সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া বিএনপির উচ্চ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দরা। পরদিন সাতকানিয়া উপজেলা বিএনপি নেতাদের নিয়ে ভোজের আয়োজন করেন মুজিব চেয়ারম্যান। তবে এ আয়োজনে লোহাগাড়ার কোন নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতি লক্ষ্য করা যায়নি।
প্রসঙ্গত: চট্টগ্রাম-১৫ (লোহাগাড়া-সাতকানিয়া আংশিক) আসনটি মূলত জামায়াত অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত। ১৯৯১, ২০০১ এবং ২০০৮ সালে এ আসনে জামায়াত প্রার্থী জয়লাভ করেন। বর্তমানে এ আসনে জামায়াতের শক্ত অবস্থান রয়েছে। এছাড়াও সম্প্রতি রাজনৈতিক বিভিন্ন বিষয়ে জামায়াত ও বিএনপির’র বিরোধীতা স্পষ্ট আকার ধারন করেছে। এ অবস্থায় জামায়াত থেকে আসনটি পুনরুদ্ধার করতে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে বিএনপি।
এ প্রসঙ্গে দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মুজিবুর রহমান বলেন, এ আসনটিকে মূলত জামায়াত অধ্যুষিত এলাকা বলা হলেও জামায়াত কখনো এই আসন থেকে এককভাবে জয় লাভ করতে পারেনি। তারা প্রত্যেকবার বিএনপির সাথে জোটবদ্ধ অবস্থায় জয়লাভ করেছে। সুতরাং এই আসনে যথেষ্ট বিএনপির ভোট রয়েছে এবং এসব ভোট পেয়েই জামায়াত এই আসনে একাধিকবার জয়লাভ করেছে। আমি মনে করি বিএনপি যদি ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করে, আসন্ন নির্বাচনে এ আসনটিতে নিঃসন্দেহে বিএনপি জয়লাভ করবে। এজন্য আমরা বিএনপি পরিবার অতীতের সব ভুল বুঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে এক হয়েছি। ইনশাআল্লাহ আমাদের এই ঐক্য আসন্ন নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এদিকে উভয় গ্রুপের নেতাকর্মীরা সকালের সময়কে বলেন এবার আমাদের ধানের শীষের বিজয় ঠেকায় কে?
তারা বলেন এই আসন জামায়াত কখনো একক ভাবে জিতেনি তবে বিএনপি জিতেছে, এই আসন আমরা উদ্ধার করবই ইনশাআল্লাহ।