ফটিকছড়িতে হালদা গিলে খাচ্ছে মাটি ও বালু খেকোরা

অনলাইন ডেস্ক

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে অবাধে পাড় কাটা ও বালু উত্তোলনের ফলে দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র হালদা নদীর অস্তিত্ব বিপন্ন হচ্ছে। স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র নদীর মাটি ইটভাটায় বিক্রি করায় নদীর গতিপথ পরিবর্তন ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের মুখে পড়েছে।

উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের মাদার্শার বাড়ি এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, ভেকু দিয়ে নদীর পাড় কাটা হচ্ছে। এসব মাটি ও বালু ড্রাম ট্রাকে করে বিভিন্ন ইটভাটায় নেওয়া হচ্ছে। মাটি কাটার ফলে নদীর বিশাল অংশ ভরাট হয়ে গতিপথ বদলে যাচ্ছে।

নদী পাড়ের মাটি কাটার শ্রমিক এবং ট্রাক ড্রাইভারদের কাছে কারা এসব কাজ  করছে জানতে চাইলে- তারা কিছু না বলে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, দিনরাত বালু ও মাটির ট্রাক চলায় গ্রামীণ রাস্তাঘাট নষ্ট হচ্ছে। ধুলার কারণে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। নদীর পাড় কেটে ফেলায় শুষ্ক মৌসুমে সেচ সংকট ও বর্ষায় ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে।

পাইন্দং ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি এরশাদ উল্লাহ বলেন, এখানে নির্বিচারে মাটি ও বালু তোলা হচ্ছে। আমাদের দলের নাম ব্যবহার করে কেউ এসব করলে প্রশাসন ব্যবস্থা নিক।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রধান ও হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরির সমন্বয়ক ড. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, মৎস্য হেরিটেজ হালদার জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় এই প্রাকৃতিক সম্পদ হারাবে দেশ।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, হালদার পাড় কাটা বা বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। যারা এর সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে নদী সংরক্ষণ আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

#খবরের কাগজ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.