বন্যহাতির তান্ডবে কৃষক হারাচ্ছে জীবিকা,ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেত ও পরিবারদের সাথে কথা বলতে গেলেন হাবিবুল্লাহ

পরিদর্শনে গেলেন লামা ডলুছড়ি রেঞ্জের কর্মকর্তা এস এম হাবিবুল্লাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

 

 

পার্বত্য চট্টগ্রামের   বান্দরবানের লামায় ফাইতং ইউনিয়ন ৫নং ওয়ার্ড খেদারবান-সুতাবাদী নয়াপাড়া’সহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের পাহাড়ি গ্রামগুলোতে বন্যহাতির দল প্রায়ই হানা দিচ্ছে,ফলে নষ্ট হচ্ছে সবজি বাগানসহ বিভিন্ন সবজি ক্ষেত।

 

শুক্রবার (২রা জানুয়ারী)কৃষকদের এমন দু:খ দুর্দশা পরিদর্শনে গেলেন লামা ডলুছড়ি রেঞ্জের চৌকস কর্মকর্তা এস এম হাবিবুল্লাহ।

 

স্থানীয়সূত্রে জানা যায়, গত সপ্তাহের সোমবার,মঙ্গলবার,বুধবার বৃহস্পতিবারসহ  গত ১২/১৩ দিন রাতে কলা গাছ,আলু, সিম, ফসলে সবজি ক্ষেত ও চলতি সবজি খেতে তাণ্ডব চালিয়েছে বন্যহাতির একটি পাল।

এতে কৃষকদের নানান ধরনের সবজি ক্ষেতে হয়েছে ব্যাপক ক্ষতি। গ্রামবাসীরা আরো জানান, শুধু ক্ষেত নষ্ট হয়েছে তা নয়, বরং তারা সহায় সম্বল হারিয়ে এখন জানমাল রক্ষায়ও নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন।আরো বলেন,হাতির দল কলাগাছ,আলু ক্ষেতের খেয়ে ও পা দিয়ে মাড়িয়ে নষ্ট করে দিচ্ছে। তাই চলতি সবজি ফসল রক্ষায় কৃষকরা রাতে মশাল জ্বালিয়ে, ঢাকঢোল বাজিয়ে, টিন পিটিয়ে ও হই-হুল্লোড় করে ক্ষেত পাহারা দিচ্ছেন।

 

কলা বাগানের স্থানীয় এক কৃষক মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, দিনের বেলায় বন্যহাতির পাল গহীন অরণ্যে লুকিয়ে থাকে।

কিন্তু সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলেই খাদ্যের সন্ধানে বাড়িঘর ও ফসলের মাঠে তাণ্ডব চালায় তারা।

আমার কলাগাছ,সবজি,ক্ষেত নষ্ট করে প্রায় ১ লক্ষ টাকার ও বেশি ক্ষতি করেছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, প্রতিবছর বন্যহাতির পাল খাবারের খোঁজে লোকালয়ে এসে ফসল নষ্টের পাশাপাশি অনেক প্রাণহানিও ঘটাচ্ছে।

এই হাতিগুলো তাড়ানোর জন্য স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা এখন পর্যন্ত নেয়া হয়নি। ফলে পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষ ও কৃষকরা হাতির ভয়ে নির্ঘুম রাত কাটান। মানুষের জীবিকা ও জীবন রক্ষার্থে এর একটি স্থায়ী সমাধান হওয়া দরকার।

লামা ডলুছড়ি রেঞ্জের চৌকস কর্মকর্তা এস এম হাবিবুল্লাহ বলেন, বন্যহাতির পাল দিনে উপজেলার বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকার গভীর জঙ্গলে অবস্থান করে।

আর সন্ধ্যা হলেই খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে নেমে আসে। বন্যহাতি ও ফসল রক্ষায় তৎপর রয়েছি আমিসহ আমাদের টিম।

তিনি আরো বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নিয়ে তাদের ক্ষেতসহ কলাবাগান  পরিদর্শন করেছি এবং  তাদের(কৃষক) সাথে কথা বলেছি।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা বন বিভাগের নির্ধারিত ফরমে আবেদন করে সরকারিভাবে ফসলের ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন এবং অবশই পাবেন।

 

তাই তিনি বন্যহাতিকে উত্ত্যক্ত করতে নিষেধ করেন, তবে হাতির প্রধান খাবার হচ্ছে কলাগাছ।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.