মবের শাসন থেকে আইনের শাসনে ফিরে যাচ্ছে দেশ,হচ্ছে পুলিশ হত্যার তদন্ত

ঢাকাসহ দেশজুড়ে জুলাই আগস্টের সহিংসতা: তদন্তে অগ্রগতি

ডেস্ক রিপোর্ট 

গত বছরের ২৪ জুলাই ও আগস্ট মাসজুড়ে রাজধানী ঢাকা এবং দেশের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়া সহিংসতার ঘটনাগুলোকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম গুরুতর আইনশৃঙ্খলা সংকট হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি স্থাপনায় হামলা,মব সন্ত্রাস,থানা থেকে অস্ত্র লুট,অগ্নিসংযোগ এবং দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যদের ওপর প্রাণঘাতী আক্রমণের মতো একাধিক ঘটনায় দেশজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।এসব ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে শিগগিরই জড়িতদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান,সহিংসতার ঘটনাগুলো ছিল সংগঠিত ও সমন্বিত প্রকৃতির। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় সরকারি দপ্তর, বিদ্যুৎ অফিস, পৌর ভবন,থানা, পরিবহন স্থাপনা এবং কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হয়। একাধিক স্থানে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে, ভাঙচুর করা হয় গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও অবকাঠামো।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক ছিল কয়েকটি থানায় হামলা চালিয়ে অস্ত্র ও গুলি লুটের ঘটনা। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। পাশাপাশি দায়িত্ব পালনরত বহু পুলিশ সদস্য নিহত ও আহত হন, যা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তোলে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো একযোগে ঘটনাগুলোর পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চালাচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও, প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য এবং প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার কাজ চলছে।
তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, কয়েকটি ঘটনায় পরিকল্পিত উসকানি, গুজব ছড়ানো এবং সংগঠিত মব গঠনের প্রমাণ মিলেছে। বিশেষ করে থানায় হামলা ও অস্ত্র লুটের ঘটনাগুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দেখা হচ্ছে। অস্ত্র উদ্ধারে পৃথক অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন,তদন্তের প্রাথমিক ধাপ শেষ হওয়ার পরপরই চিহ্নিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ইতোমধ্যে কয়েকজনকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে এবং বিভিন্ন জেলায় সমন্বিত গ্রেপ্তার অভিযান চালানোর প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র বলছে,গ্রেপ্তার কার্যক্রম হবে ধাপে ধাপে এবং প্রাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতে। কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হন,সে বিষয়েও সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

সরকারি কর্মকর্তারা বলেছেন,রাষ্ট্রীয় স্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। যারা পরিকল্পিতভাবে সহিংসতা উসকে দিয়েছেন বা সরাসরি অংশ নিয়েছেন তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। একইসঙ্গে সাধারণ জনগণকে গুজবে কান না দেওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এসব ঘটনার স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের নাশকতা প্রতিরোধে তা কার্যকর ভূমিকা রাখবে। দেশের স্থিতিশীলতা ও জননিরাপত্তা রক্ষায় চলমান তদন্ত ও আসন্ন গ্রেপ্তার অভিযান গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

পরিস্থিতি এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকলেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায়। তদন্ত শেষ হলে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র প্রকাশ করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.