ছয় বছর ধরে বন্ধ প্রাথমিক বিদ্যালয়, উম্বনিয়া পাড়ায় নেমে এসেছে শিক্ষার অমানিশা

 

মো. হামিদ হোসাইন, মহেশখালী (কক্সবাজার)

২০০২ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল উম্বনিয়া পাড়া কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। দুর্গম এই জনপদের শিশুদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত করাই ছিল বিদ্যালয়টির লক্ষ্য। কিন্তু সে আলো আজ নিভে গেছে। টানা ছয় বছর ধরে শিক্ষকদের বেতন দিতে না পারায় বিদ্যালয়টি বন্ধ হয়ে আছে। ফলে উম্বনিয়া পাড়াজুড়ে নেমে এসেছে অমানিশা।

বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশু শিক্ষার্থীরা। স্কুল না থাকায় পড়াশোনার সুযোগ হারাচ্ছে তারা। অভিভাবকদের কপালে এখন শুধু দুশ্চিন্তা। গ্রামের স্বাক্ষরতার হার কমছে, বাড়ছে নিরক্ষরতা। ধীরে ধীরে শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ছে একটি পুরো প্রজন্ম।

কয়েকজন ছোট শিক্ষার্থী বাধ্য হয়ে পড়তে যাচ্ছে ছোট মহেশখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও গোরকঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। তবে দূরত্ব বড়ো বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা জানান, এক–দুদিন সন্তানরা স্কুলে গেলেও নিয়মিত যাতায়াত সম্ভব হচ্ছে না। পথ চিনে না, দূরত্ব বেশি–ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই তারা আর স্কুলমুখী হচ্ছে না।

এ যেন চোখের সামনে একটি জনপদের নীরব ধ্বংস। বিষয়টি দেখার কি কেউ নেই—প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি কিংবা সমাজের সচেতন মানুষজন? স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত বিদ্যালয়টি পুনরায় চালু না হলে ছোট মহেশখালী ইউনিয়নের উম্বনিয়া পাড়া মহেশখালীর সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া এলাকা হয়ে উঠবে। শিক্ষার আলো না পেলে এখানকার শিশুরা ভবিষ্যতে নানা সামাজিক অপরাধে জড়িয়ে পড়তে পারে—এই শঙ্কাও প্রকাশ করছেন তারা।

উম্বনিয়া পাড়ার বাসিন্দাদের বিশ্বাস, মহেশখালীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরান মাহমুদ ডালিম উদ্‌ দোগ নিলে বিদ্যালয়টি পুনরায় চালু করা সম্ভব। তারা প্রশাসনের সক্রিয় হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী বনি আমিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন। তবে বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সাংবাদিকদের জানাবেন বলে আশ্বাস দেন।

একটি বিদ্যালয় শুধু একটি ভবন নয়—এটি একটি প্রজন্মের ভবিষ্যৎ। উম্বনিয়া পাড়া কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয় আবার কবে শিশুদের কোলাহলে মুখর হবে—সে অপেক্ষাতেই এখন একটি জনপদ।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.