কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগ: হোয়াইক্যং’র পাহাড় কেটে বানানো হচ্ছে সমতল
ডেপুটি রেঞ্জার সাংবাদিকদের ফোন ধরেননা ডিএফও'র অনুমতি ছাড়া-
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের হোয়াইক্যং রেঞ্জে বনাঞ্চল ধ্বংসের মহোৎসব চলছে। বনরক্ষক ও ভূমিখেকো সিন্ডিকেটের যোগসাজশে অবাধে চলছে পাহাড় কাটা। এতে বনরক্ষকরাই বন উজাড় ও ধ্বংস করছেন বলে অভিযোগ ওঠেছে পুরো এলাকাজুড়ে।
হোয়াইক্যং রেঞ্জের দায়িত্বে থাকা ডেপুটি রেঞ্জার জহির উদদীন মো: মিনার চৌধুরীর যোগসাজশেই কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের আওতাধীন এই রেঞ্জের বন ধ্বংস, পাহাড় কাটা, বনভূমি বিক্রি ও ঘুস বাণিজ্য চলছে প্রকাশ্যে।
হোয়াইক্যং রেঞ্জের মনখালীবিটসহ পুরো রেঞ্জের অধীন এলাকাজুড়ে চলছে হোয়াইক্যং এর ঝাউগাছ নিধন, পাহাড় কেটে সমতল ভূমি তৈরি, বনভূমি দখল ও বেচাকেনা, অবৈধ করাতকল পরিচালনা, বালু ও মাটি উত্তোলন এবং বনভূমিতে নতুন ঘর নির্মাণ নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
এসব কর্মকাণ্ড পরিচালিত করার জন্য জহির উদদীন মিনার চৌধুরীর নেতৃত্বে রয়েছে একটি চক্র।
জানা যায়, পাহাড় কাটা এবং পাহাড়ের জায়গায় নতুন ঘর বাধা ও অবৈধ করাতকল থেকে এবং ক্ষেত্র বিশেষে দালান মালিক থেকে বেছে বেছে নির্দিষ্ট অর্থ আদায় করেন এই ডেপুটি রেঞ্জার জহির উদদীন মো: মিনার চৌধুরী।
স্থানীয়রা প্রতিবেদককে জানিয়েছেন এই ডেপুটি রেঞ্জারের মূল ব্যবসা হচ্ছে মোটা অংকের বিনিময়ে পাহাড় কেটে সমতলভূমি তৈরীতে সহযোগিতা করা।
এই অঞ্চলে জনশ্রুতি রয়েছে, হোয়াইক্যং রেঞ্জের ডেপুটি রেঞ্জার জহির উদদীন মো: মিনার চৌধুরী হচ্ছে কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল-মামুনের খুবই ঘনিষ্ঠ।
ফলে তার সকল অপকর্মে দক্ষিণের ডিএফও আব্দুল্লাহ আল মামুনের রয়েছে অলিখিত অনুমতি। তাই এই ডেপুটি রেঞ্জার জহির উদদীন মো: চৌধুরী মিনার কোন সাংবাদিকের ফোনও রিসিভ করেননা ও তোয়াক্কা করেনা।
জনশ্রুতির সেই খবরের সত্যতা পায় এই প্রতিবেদক, হোয়াইক্যং রেঞ্জের ডেপুটি রেঞ্জার জহির উদদীন মো:মিনার চৌধুরীকে ৪দিন ধরে অফলাইন আর অনলাইনে কল দিয়ে এবং টেক্সট দিয়েও তার হোয়াইক্যং রেঞ্জের অপকর্মের বিষয়ে এবং গুঞ্জন ওঠা তার অপকর্মের অংশীদার ডিএফও’র সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে আলাপ করা সম্ভব হয়নি।
হোয়াইক্যং এর পাহাড় কেটে সমতলভূমি তৈরীর বিষয়ে ডেপুটি রেঞ্জার মিনারের যোগসাজশের বিষয়ে কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগ এর বিভাগীয় কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন এই বিষয়ে বলেন- আপনার অভিযোগ আমি শুনেছি বিষয়টি আমি দেখতেছি এবং আমি ডেপুটি রেঞ্জারের বিষয়ে তদন্ত দিব।
হোয়াইক্যং এর ডেপুটি রেঞ্জার জহির উদদীন মো: মিনার চৌধুরীকে দায়িত্বরত অবস্থায় সাংবাদিকদের কল রিসিভ না করার জন্য কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের কার্যালয় থেকে কিংবা ডিএফও এর ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে অঘোষিত কিংবা লিখিত কোন নির্দেশনা দেয়া আছে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আমি তো এমন কোন নির্দেশনা দিইনি। কেনই বা তিনি সাংবাদিকের কল ধরেননা সেটাও তো আমি জানিনা এবং বুঝতেছিনা।
আমি বিষয়টা আগামীকাল ডেপুটি রেঞ্জার জহির উদদীন মো:মিনার চৌধুরী থেকে অফিসিয়ালি জানতে চাইবো।
এদিকে ডেপুটি রেঞ্জার জহির উদদীন মো: মিনার চৌধুরীর মত চট্টগ্রাম উত্তর বনবিভাগের সদর রেঞ্জের ক্যাশিয়ার খ্যাত সাবেক রেঞ্জ কর্মকর্তা এবং বর্তমানে বান্দরবান লামা বনবিভাগের মাতামুহুরি রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল মালেকও বনবিভাগকে পুঁজি করে নিজের আখের গুছিয়ে- জবাবদিহির আওতায় না আসার জন্য উপরমহলকে ম্যানেজ করে সাংবাদিকদের ফোন না ধরার অভ্যাস আছে বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার বনবিভাগে বিভিন্ন সময় চাকরি করা একাধিক কর্মকর্তা।
সৈ/আ/উ চট্ট/কক্স-ধারাবাহিক পর্ব-০১