কৃষকদের নামে অবৈধ স্কীম বসিয়ে সেই পানি ফেলানো হচ্ছে খালে, ভেতরে ভয়ংকরের অন্য আলামত
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় তেমুহনী নয়াখাল এলাকায় অনুমোদনহীন জায়গায় অবৈধ স্কীম বসিয়ে মোটা দাগের টাকা কামাচ্ছে স্থানীয় একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কৃষকদের নামে স্কীম বসিয়ে সেই পানি ব্যবহার হচ্ছেনা কৃষকদের স্বার্থে, উক্ত পানি ফেলা হচ্ছে পার্শ্ববর্তী গড়ালা খালে।
কারণ পানি শুকিয়ে গেলে যাতে ইটভাটার জন্য মাটি কাটতে সুবিধা হয় চক্রটির।
মূলত একটি মাটি খেকো চক্রের হয়ে কৃষকদের নাম দিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র স্কীমের আবেদন করে অনুমতির পূর্বেই এই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে সূত্র নিশ্চিত করেছেন।
জানা যায়, বেশ কিছুদিন আগে সাতকানিয়া তেমুহনী এলাকার পাঠানী পুলে কৃষি কাজের জন্য সাতকানিয়া উপজেলা বিএডিসি অফিস একটি স্কীম অনুমোদনের জন্য প্রত্যায়ন দেন স্থানীয় বেলাল নামে এক ব্যক্তিকে।
এবং ওই প্রত্যায়ন দেয়ার সময় বিধি মোতাবেক সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রত্যায়নে সরকার নির্ধারিত স্কীম রেটে পিডিবি(বিক্রয় ও বিতরণ কেন্দ্র) কে বিদ্যুৎ সরবরাহ করার জন্য পদক্ষেপ নিতে বলা হয়।
কিন্তু তখন সরেজমিনে এবং ইস্যুকরা প্রত্যায়ন পত্রে নির্ধারিত এলাকা দেখানো হয়েছে কৃষিকাজের জন্য পাঠানীপুল এলাকায়, কিন্তু এখানে ইস্যুকৃত স্কীম বসানো হয়েছে একটি ইটভাটার পাশে -ইট ভাটার জন্য মাটি কেটে বড় বড় যে লেক গুলো হয়েছে ওই লেক গুলোতেই স্কীম বসিয়ে পানি সেচ করা হচ্ছে।
এবং পানি গুলো পাশের গড়ালা খাল নামক খালে ফেলে দেয়া হচ্ছে।
এসব বিষয় নিয়ে গত ডিসেম্বর মাসে ‘চট্টগ্রাম সংবাদ’ আর ‘দৈনিক সকালের সময়’ ধারাবাহিক সংবাদ ছাপালে উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে উক্ত স্কীম প্রকল্পটি বন্ধ ঘোষনা করে যাবতীয় সরঞ্জাম জব্দ করে নিয়ে যায়।
এদিকে আবারো একই চক্র পুনরায় দরখাস্ত দেয় উপজেলা প্রশাসনের নিকট তবে এবার অনুমতি দেয়ার আগেই দিনের বেলায় মোটরে ডিজেল চালিয়ে এবং রাতে ডিরেক্ট লাইন থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে ওই স্কীম পরিচালনা করেন।
এদিকে রাতের বেলায় ডিরেক্ট লাইন থেকে বিদ্যুৎ আর দিনের বেলায় মাটি কাটার জন্য প্রকাশ্যে ডেবা সেচঁ করার বিষয়ে সাতকানিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান থেকে জানতে চাইলে তিনি বলেন,একটা দরখাস্ত দিয়েছে আমি কোন ধরনের অনুমতি দেইনি।
যদি কেউ এই কাজ করে তাহলে আমি আগের মতো বন্ধ করে দিব।
এদিকে একই কথা বলেন সাতকানিয়া উপজেলা বিএডিসির উপ প্রকৌশলী মো:ইকবাল হোসেন, তিনি বলেন পিডিবি থেকে লাইন দেয়া হয়নি এবং উপজেলা প্রশাসন থেকেও অনুমতি দেয়া হয়নি,শুনছি তারা নিজেরা নিজেরা পানি সেচ কার্যক্রম চালাচ্ছে।
এদিকে স্থানীয়রা জানান,যেখানে উপজেলা প্রশাসন মাটি কাটার বিরুদ্ধে জিরোটলারেন্স নীতিতে হাঁটছে সেখানে চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়ক থেকে দেখা যায় মতো বিশাল ঢেবা সেঁচ করে মাটি কাটার বড় প্রকল্পকে প্রশ্রয় দেয়া অনেকটা স্ববিরোধীতা।