ভর্তি রোগী সরিয়ে আহত নেতাকর্মীদের ভর্তি,বিকেলেই হাসপাতাল ত্যাগ -চরম ভোগান্তিতে ভর্তি রোগীরা
রাজনীতির নাট্যমঞ্চ থেকে রেহায় পেলনা রোগীরাও-
আনোয়ারা প্রতিনিধি:
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের শপথ গ্রহণের প্রায় এক সপ্তাহ পর নিজ এলাকায় এসে হাসপাতালে পরিদর্শনে গেলেন চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম। তবে সেই পরিদর্শনে ভোগান্তিতে পড়েতে হয়েছিল বলে অভিযোগ সেই হাসপাতালের আবাসিক ভর্তি রোগীদের।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন দুই গ্রুপের মারামারি এবং আনোয়ারা বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রের আশেপাশে অবস্থান করা বিএনপির নেতাকর্মীরা সেনাবাহিনীর দৌড়ানি খেয়ে আহত হয়।সেই আহতদের যার যার এলাকায় দেখতে না গিয়ে তাদের সবাইকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বেডে ভর্তি দেখিয়ে পরিদর্শনের নামে সেখানে ভর্তি থাকা প্রকৃত রোগীদের বাইরে সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠে।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে যান। এ সময় তাঁর সঙ্গে বিপুলসংখ্যক দলীয় নেতাকর্মীর উপস্থিতি দেখা যায়। ফলে ভোগান্তিতে পড়েন হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগী ও চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষেরা।এসময় পরিদর্শন ঘিরে হাসপাতালের স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়,হাসপাতালে আগে থেকে ভর্তি থাকা একাধিক রোগীকে সরিয়ে আহত একাধিক নেতাকর্মীদের বেডে ভর্তি দেখানো হয়।এতে ভোগান্তিতে পড়েন চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা। হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও ওয়ার্ড এলাকায় অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে চলাচলে বিঘ্ন ঘটে এবং চিকিৎসাসেবায় বিলম্ব হয়।তবে ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভিন্ন চিত্র দেখা যায়।
সসরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,বিকেল নাগাদ আহত অবস্থায় ভর্তি থাকা নেতাকর্মীরা হাসপাতাল ত্যাগ করেন। ফলে যেসব রোগীকে সাময়িকভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল,তাঁদের নিয়ে তৈরি হয় চরম অসন্তোষ।এক বৃদ্ধ রোগীর বলেন,সকালে আমাদের এই রুম থেকে সরিয়ে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয় এবং কাউকে কাউকে বাইরে রাখা হয়। এখানে নির্বাচনে আহত হওয়া কিছু নেতাকর্মীদের রাখা হয়। তবে বিকেলেই এই রুমটা খালি হয়ে যায়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক রোগীর স্বজন বলেন,আমাদের রোগী ভর্তি ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক লোকজন আসার পর আমাদের সরিয়ে দেওয়া হয়।পরে এমপির সাথে তারা সবাই চলে গেছে।আক্ষেপ নিয়ে এক রোগী বলেন,এমপি সাহেবকে সালাম দেয়ার সুযোগ পাইনি। নেতাকর্মীদের চাপে এমপি সাহেব রোগীদের সাথে সুখ-দুঃখের কথাও বলতে পারেনি।তিনি প্রকৃত ভর্তি রোগী যেখানে আছেন সেখানে দেখতে আসেনি।যারা এসে ভর্তির ফরম সংগ্রহ করেছেন তাদের জনপ্রতি দুই হাজার টাকা করে এমপি দিয়েছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে ২৩ জন রোগী ভর্তি হয়। বিকেল গড়াতেই এসব রোগী হাসপাতাল ছাড়েন। জানতে চাইলে নাম প্রকাশ করার অনুরোধ করে এক নার্স বলেন, বিষয়টি নিয়ে স্যারের সাথে কথা বলেন। আমাদের কাছে ভর্তির তালিকা আছে। কিন্তু বর্তমানে এখন ওই রোগীরা হাসপাতালে নেই।
বিষয়টি অস্বীকার করে মুঠোফোনে সরওয়ার জামাল নিজাম বলেন,আমি কেন এমনটা করবো। আমি সাধারণ রোগীদের সাথে কথা বলেছি। অসুস্থ নেতাকর্মীদের আমি দেখতে চেয়েছি তাই তাদের এখানে আসতে বলা হয়েছিল।
জানতে চাইলে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহতাবউদ্দীন চৌধুরী বলেন, নির্বাচনকালীন সময়ে আহত নেতাকর্মীরা ভর্তি হয়েছে শুনে এমপি সাহেব হাসপাতালে ছুটে এসেছেন। রোগী সরিয়ে দেয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ ভূয়া ও মিথ্যা।’তিনি আরও যোগ করেন,আহতরা আগে চট্টগ্রাম নগরীর বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলো, পুনরায় চিকিৎসা নিতে এখানে এসেছে। উনার আসাতে আমাদের চিকিৎসা সেবায় কোনো ধরনের বেগ পেতে হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে,হাসপাতাল রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকা জরুরি। রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে চিকিৎসাসেবায় অগ্রাধিকার দেওয়া হলে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার ক্ষুণ্ন হয়।