বালি উত্তোলন- তবে কি উপজেলা প্রশাসনের সমঝোতায় বিলীন হচ্ছে লোহাগাড়ার টিলা ও পাহাড়?

ঝুঁকিতে বনজ সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য

নিজস্ব প্রতিবেদক, লোহাগাড়া(উপজেলা) চট্টগ্রাম 

লোহাগাড়া উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নে সংরক্ষিত বনের টিলা কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার মাইজবিলা এলাকায় জামছড়ি খাল সংলগ্ন স্থানে শ্যালো মেশিন বসিয়ে প্রভাবশালী একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ বিধ্বংসী এই কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। এতে বনজ সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ার পাশাপাশি স্থানীয় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, চরম্বা ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্যের নেতৃত্বে একটি চক্র প্রভাব খাটিয়ে সংরক্ষিত বনের টিলা ও সমতল ভূমি পানি দিয়ে কৃত্রিমভাবে ভেঙে বালু উত্তোলন করছে। গত রোববার সরেজমিনে দেখা যায়, বালু উত্তোলনের ফলে জামছড়ি খালের পাড় ক্ষতবিক্ষত হয়ে পড়েছে। সেখানে বালু উত্তোলন কাজে ৬–৭ জন শ্রমিক নিয়োজিত ছিল। তবে সংবাদকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে বালুবাহী ডাম্পট্রাকগুলো দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয় এবং শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে সটকে পড়ে। একপর্যায়ে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত শ্যালো মেশিনটিও বন্ধ করে দেওয়া হয়। বালুবাহী ভারী ডাম্পট্রাক চলাচলের কারণে স্থানীয় কাঁচা সড়ক দেবে গেছে এবং সড়কে বালুর আস্তরণ পড়ে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। এছাড়া বালু উত্তোলনের স্থান থেকে মাত্র ২০০ গজ দূরে একটি কালভার্ট রয়েছে।

 

চরম্বা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সৈয়দ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে কয়েকবার ওই ইউপি সদস্যকে টিলা কেটে বালু উত্তোলন করতে নিষেধ করেছি। কিন্তু তিনি তা কর্ণপাত করেননি। এর আগে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার উত্তোলিত বালু জব্দ করা হয়েছিল এবং তার বিরুদ্ধে দুটি মামলাও রয়েছে। তবুও তিনি এই অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি সদস্যের সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ পেয়েছি। দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

এদিকে স্থানীয়রা চট্টগ্রাম সংবাদকে জানান,মূলত সিন্ডিকেটের সাথে উপজেলা প্রশাসনের গোপন সমঝোতা চলছে।ফলে এসব অপকর্ম বন্ধ করা সম্ভব না।

 

 

 

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.