আনোয়ারা প্রতিনিধি :
চট্টগ্রাম আনোয়ারা উপজেলার চাতরী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোঃ হাসান তারেকের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেক আইডি থেকে মিথ্যা অপপ্রচার ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) উপজেলা পরিষদ এলাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী ইউপি সদস্য হাসান তারেক এ অভিযোগ করেন।
ইউপি সদস্য হাসান তারেক বলেন, আমার বিরুদ্ধে কয়েকদিন ধরে ‘চাতরী ইউনিয়ন নিউজ পোর্টাল’ নামের এক ফেক আইডি থেকে বিভিন্ন মিথ্যা অপপ্রচার ছড়াচ্ছে। এই আইডি থেকে ‘চাতরী ইউনিয়নে গভীর নলকূপের পানি নিতে জনগণ থেকে টাকা নেওয়া’, কেঁয়াগড় স্লুইস গেট নির্মাণ এলাকায় একটি বাঁশের সাঁকো’ ভাঙা’ সহ বিভিন্ন ভূয়া তথ্য দিয়ে আমার বিরুদ্ধে প্রচার করেন একটি কুচক্রী মহল। যা মিথ্যা ও বানোয়াট। এতে আমার সম্মান ক্ষুন্ন হচ্ছে।
এদিকে সত্যতা নিশ্চিত করতে চাতরী ইউনিয়নের সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চাতরী ইউনিয়নের ফতে খাঁন দিঘীর পাড় এলাকায় একটি গভীর নলকূপ বসানো হয়েছে। এখান থেকে কেঁয়াগড় ও সিংহরা এলাকায় লাইন নিয়ে টাংকি বসানো হয়৷ প্রতিদিন এখান থেকে গ্রামের নারী-পুরুষরা পানি ব্যবহার করে। এসব এলকার বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন সকাল বিকাল রাতে পানি ব্যবহার করা হয়। এতে কোনো বাঁধার সম্মুখীন হতে হয়না। এমনকি কোনোদিন টাকা কাউকে দিতে হয়নি। কয়েক বছর আগে সরকারি নলকূপ বসানোর জন্য যখন জায়গা পাচ্ছেনা তখন তারেক মেম্বার নিজ এলাকায় জায়গা করে দিয়েছে। তারেক মেম্বারের আন্তরিক প্রচেষ্টায় আজ গ্রামের মানুষ বিশুদ্ধ পানি পাচ্ছে।
অন্যদিকে কেঁয়াগড় স্লুইস গেট নির্মাণধীন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, স্লুইস গেট নির্মাণ কাজের সুবিধার্থে একটি অস্থায়ী বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়। এটি দিয়ে কোনো মানুষ চলাচল করে না। নির্মাণধীন শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সেতুটি নির্মাণের পর কেউ ভাঙেনি। যেরকম নির্মাণ করা হয়েছে সেভাবে এখনো রয়েছে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত ইবনে শাহীদ বলেন, স্লুইস গেট নির্মাণ কাজে পাইপ ব্যবহার করতে অস্থায়ী বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়। এটি দিয়ে মানুষ চলাচল করে না। এটি তেমন গুরুত্বপূর্ণ না। কাজ শেষে ভেঙে ফেলা হবে।
এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে ইউপি সদস্য হাসান তারেক গত ২০২৪ সালের ৫ই আগষ্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরে চাতরী ইউনিয়ন পরিষদে প্রভাব বিস্তার করেছে। এ বিষয়ে ওই ইউনিয়ন পরিষদের একাধিক পুরুষ ও মহিলা ইউপি সদস্য থেকে জানতে চাইলে তারা এটিকে মিথ্যা ও বানোয়াট বলে জানান।
ইউপি সদস্য বিকাশ ঘোষ জানান, তারেক মেম্বার পরিষদে কোনোদিন প্রভাব বিস্তার করেনি। আমাদের সাথে তার সম্পর্ক ভাল রয়েছে। আমি পরিষদের বিভিন্ন বাজেট, কার্ড পেয়েছি।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, হাসান তারেক ইউপি সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর জনগণের জন্য কাজ করে গিয়েছে। সরকারি বিভিন্ন বাজেট, অনুদান, সহায়তা কার্ড সঠিকভাবে মানুষের কাছে বন্টন করেছে। কোনো অসহায় মানুষের ওপর জুলুম অত্যাচার করেনি। তার সুনামে ঈর্ষান্বিত হয়ে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে একটি কুচক্রী মহল। এতে তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান স্থানীয়রা।
এদিকে ফেক আইডির বিরুদ্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও আইনী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান ভুক্তভোগী ইউপি সদস্য মোঃ হাসান তারেক।