অভিযানে গিয়ে বালু খেকোদের হাতে হামলার শিকার ইউএনও

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

খাগড়াছড়ির রামগড়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ (ইউএনও) উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

 

মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেল আনুমানিক ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে রামগড় ইউনিয়নের পূর্ব বলিপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রামগড় উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী শামীম অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। এ সময় রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাজির আলমের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযানকালে প্রশাসন অবৈধ বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত ছয় থেকে সাতটি সেলো মেশিন ও বালু পরিবহনের পাইপ ধ্বংস করে। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বালু উত্তোলনের পাশাপাশি কয়েকজন কৃষকের জমিতে পানি দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত সেলো মেশিন ও পাইপও ভাঙচুর করা হয়।

 

এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে প্রশাসনের লোকদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সংঘর্ষ চলাকালে বিক্ষুব্ধ জনতার ছোড়া ইট-পাটকেলে ইউএনও কাজী শামীমসহ অভিযানে যাওয়া ছয়জন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আনসার সদস্যরা শর্টগান থেকে পাঁচ-ছয় রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করেন। এ সময় সংঘর্ষে স্থানীয় চারজন আহত হন।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন ইউএনও কাজী শামীম, সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল ওহাব জুয়েল, আনসার সদস্য মো. নুর মোহাম্মদ, উপজেলা প্রশাসনের কর্মচারী মো. জয়নাল আবেদীন, ইউএনওর গাড়িচালক মো. কামাল হোসেন, এপিসি মো. সালাউদ্দিন।

স্থানীয় আহতদের মধ্যে রয়েছেন মো. আজাদ, সুমন, নূর হোসেন ও আবুল হাশেম।

 

পরে আহতদের রামগড় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে তারা প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আহতদের কারোর অবস্থা আশঙ্কাজনক নয়।

আহত আবুল হাশেম বরেন, সেচ মেশিন, পাইপসহ যন্ত্রপাতি নষ্ট করায় সবাই মিলে প্রতিবাদ জানাতে গেলে আনসার সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি করে। আনসার সদস্যদের ছোড়া গুলি লেগে তারা আহত হয়েছেন।

তবে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের কিছুই জানাননি ইউএনও কাজী শামীম।

রামগড় থানা-পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোহাম্মদ নাজির আলম বলেনা, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি। অভিযোগ দায়েরের পর তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আহতদের মধ্যে কেউ আশঙ্কাজনক নেই।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.