সাতকানিয়া প্রতিনিধি
বাংলাদেশ পুলিশ জনগনের সেবক, জনগণের বন্ধু একটা সত্যিই এবং বাস্তব। পুলিশি সেবা কার্যক্রম পাল্টে দিতে কাজ করে যাচ্ছেন সাতকানিয়া থানা পুলিশ। এক সময় মানুষের মাঝে ভূল-ভ্রান্তি ছিল, কিন্তু এখন সেটি সম্পুর্ণ পাল্টে গেছে । বাংলাদেশ পুলিশ এখন মানুষের দৌড়গোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছেন। তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি ড.বেনজির আহমেদ, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার রাশিদুল হক ও সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকারিয়া রহমান জিকুর নির্দেশনায় সাতকানিয়ায় সাধারণ মানুষের দৌড়গোড়ায় পুলিশি সেবা পৌঁছে দিতে কাজ করে যাচ্ছেন সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) আনোয়ার হোসেন ।
বর্তমানে থানায় পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন, জিডি কিংবা মামলা করতে টাকা লাগেনা, কোন অপরাধীর তথ্য যদি কোন পুলিশ সদস্যকে দিয়ে থাকেন তাহলে তথ্য দাতার নাম গোপন রাখা হবে।
জানা যায়, আনোয়ার হোসেন সাতকানিয়া থানায় অফিসার ইনচার্জ হিসেবে যোগদান করার পর পুলিশি সেবা কার্যক্রম পাল্টে দিয়েছেন। অভিযোগ, জিডি ও বিশেষ করে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স করতে কোন টাকার প্রয়োজন হয়না। পুলিশ সেবা সাধারণ মানুষের দৌড়গোড়ায় পৌঁছে দিতে নিরলসভাবে কাজ করছেন। ওসি আনোয়ার হোসেনের সুদক্ষ নেতৃত্বে এলাকায় সন্ত্রাস,মাদকের বিরুদ্ধে অবস্হান নিয়েছেন। বিভিন্ন ধরণের মামলা উদঘাটন করে আসামীদের জেলহাজতে প্রেরণ করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি যোগদান করার পর থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের যাত্রীবাহী বাস,প্রাইভেটকার ও মিনিট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে কোটি কোটি টাকার ইয়াবা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন।বিশেষ করে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার ইয়াবা, চোলাইমদসহ মাদক ও সন্ত্রাসীদের আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছেন। বিভিন্ন ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী, ধর্ষক, ইভটিজার, চোর, ডাকাত সহ বিভিন্ন ধরণের অপকর্মের সাথে জড়িতদের কে আইনের আওতায় নিয়ে এসেছেন। এলাকার আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। মানুষের দৌড়গোড়ায় পুলিশি সেবা পৌঁছে দিতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিট পুলিশি সেবা চালু করা হয়েছে ।
ওসি আনোয়ার হোসেন প্রথমবারের করোনাকালীন সময়ের শুরুতে অসহায় ও কর্মহীন মানুষের মাঝে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের পক্ষ থেকে এবং তার নিজস্ব অর্থায়নে ত্রাণ সহায়তা ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছেন। সাধারণ মানুষের মাঝে সম্মান কুড়িয়েছেন এবং প্রশংসীত হয়েছেন।ঠিক এবারেও মানুষের ঘরে ঘরে ত্রাণ ও ইফতার সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন।
ওসি আনোয়ার হোসেন জানান, আমরা পুলিশি সেবা মানুষের দৌড়গোড়ায় পৌঁছে দিতে কাজ করে যাচ্ছি। মাননীয় আইজিপি স্যার, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মহোদয়, সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকারিয়া রহমান জিকু স্যারের নির্দেশনায় সাতকানিয়ার আইন শৃঙ্খলার উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি।ইভটিজিং, নারী নির্যাতন, যৌতুক প্রথা , বাল্য বিবাহসহ বিভিন্ন ধরণের অসামাজিক কার্যকলাপের সাথে যারা জড়িত, তাদেরকে আমরা আইনে আওতায় সৌপর্দ করেছি। আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আমার ভূমিকা অপরিহার্য। তিনি আরও জানান,এখন পুলিশি সেবার কার্যক্রম পাল্টে গেছে। থানায় এখন জিডি,অভিযোগ ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স করতে কোন টাকার প্রয়োজন হয়না। আমার দরজা সবার জন্য খোলা। আমার অফিসে আসতে দালালের প্রয়োজন হয়না । দালাল ছাড়া নির্ভরে পুলিশি সেবা পেতে থানায় এসে সেবা গ্রহণ করুন। কোন ধরণের অন্যায় তদবির চলবেনা। অন্যায়কারী, চোর, ডাকাত,সন্ত্রাস ও মাদক সেবনকারী ও বিক্রেতাদের কোন প্রকার ছাড় দেওয়া হবেনা। এসব বিষয়ে আমরা সবসময় জিরো টলারেন্সে রয়েছি। এলাকার আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পাশাপাশি এলাকার জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজ ও সাংবাদিকদের ভূমিকা রয়েছে। এজন্য আপনাদের সকলের সহযোগীতা দরকার।