বনকর্মীদের নিরাপত্তা ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবিতে ফরেস্ট রেঞ্জার’স অ্যাসোসিয়েশনের স্মারকপত্র

নিয়মিত রক্ত ঝরলেও দেয়া হচ্ছেনা পর্যাপ্ত সুরক্ষা -

 

নিজস্ব প্রতিবেদক,  চট্টগ্রাম 

মাঠপর্যায়ে বনভূমি জবরদখল উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনায় বিদ্যমান জীবনঝুঁকি নিরসন, আইনি অস্পষ্টতা দূরীকরণ, প্রশাসনিক সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়নের দাবিতে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক (সিএফ) বরাবর এক স্মারকপত্র দিয়েছে ‘বাংলাদেশ ফরেস্ট রেঞ্জার’স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন, আঞ্চলিক কমিটি, চট্টগ্রাম অঞ্চল’। অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মেহরাজ উদ্দীন এবং সাধারণ সম্পাদক সিফাত আল রাব্বানী স্বাক্ষরিত এই আবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি সুন্দরবনে ফরেস্ট অফিসে হামলা, মৌলভীবাজারে জবরদখল উচ্ছেদ অভিযান এবং কক্সবাজারের রামুতে বনকর্মীদের ওপর নৃশংস ও বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় মাঠপর্যায়ের বনকর্মীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এছাড়া কমলা বাগান উচ্ছেদ অভিযানে বনকর্মীদের আইনি এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় তৈরি হয়েছে প্রশাসনিক অনিশ্চয়তা। এই পরিস্থিতিতে বন ও বনজ সম্পদ রক্ষায় নিয়োজিত কর্মকর্তাদের সুরক্ষিত রাখতে সংগঠনের পক্ষ থেকে ৮ দফা দাবি ও সুপারিশমালা পেশ করা হয়।

১. সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামো ও SOP প্রণয়ন:
বন আইন-১৯২৭ অনুযায়ী উচ্ছেদ অভিযানে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষমতা ও আইনি ভিত্তি স্পষ্ট করে জরুরি পরিপত্র জারি করা এবং জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে বাধ্যতামূলক standard Operating Procedure (SOP) প্রণয়ন করা।
২. শহীদ ও আহত বনকর্মীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ:
শহীদ ইউসুফ (ফরেস্টার), শহীদ সজল (ফরেস্টার) সহ হামলায় হতাহত বনকর্মীদের পরিবারের ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে ‘পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়’ এবং ‘বন অধিদপ্তর’-এর সমন্বয়ে একটি স্থায়ী আইনি সহায়তা সেল (Legal Support Cell) গঠন করা।
৩. নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও লজিস্টিক সহায়তা:
অভিযানে অংশগ্রহণকারীদের জন্য বুলেটপ্রুফ ভেস্ট, আধুনিক অস্ত্র, দাঙ্গা প্রতিরোধক হেলমেট, বডি-ওর্ন ক্যামেরা, হেলমেট, প্রতিটি রেঞ্জে ডাবল কেবিন টহল পিকআপ ও প্রাথমিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করা।
৪. নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উচ্চপর্যায়ের নেতৃত্ব:
উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ বনাঞ্চলে (চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, ঢাকা, টাঙ্গাইল, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ, পার্বত্য চট্টগ্রাম ইত্যাদি) অভিযান পরিচালনায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (DFO)-এর প্রত্যক্ষ উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা।
৫. বিশেষ ঝুঁকি ভাতা (Risk Allowance) চালু:
ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে দায়িত্ব পালনকারী বনকর্মীদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ ‘ঝুঁকি ভাতা’ চালু করা।
৬. আন্তঃদপ্তর সমন্বয় ও আনুষ্ঠানিক নির্দেশ:
তড়িঘড়ি করে অভিযান না চালিয়ে লিখিত অফিস আদেশ, পূর্বঘোষণা ও প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করা।
৭. জরুরি চিকিৎসা তহবিল ও হাসপাতাল স্থাপন:
আহত কর্মীদের প্রশাসনিক জটিলতামুক্ত দ্রুত চিকিৎসার জন্য ‘Emergency Medical Fund’ গঠন এবং অঞ্চলভিত্তিক নিজস্ব হাসপাতালের মাধ্যমে বিনামূল্যে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা।
৮. বাস্তবভিত্তিক নীতিনির্ধারণ:
মাঠপর্যায়ের ঝুঁকি ও বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে দেশের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে জরুরি নির্দেশনা প্রদান ও নীতি নির্ধারণ করা।

স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন: মেহরাজ উদ্দীন, সভাপতি, বাংলাদেশ ফরেস্ট রেঞ্জার’স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন, চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কমিটি, চট্টগ্রাম। সিফাত আল রাব্বানী, সাধারণ সম্পাদক সম্পাদক, রিয়াদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক, আবির হাসান, দপ্তর সম্পাদক,বাংলাদেশ ফরেস্ট রেঞ্জার’স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন কেন্দ্রীয় কমিটির, সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, মাহমুদুল হাসান রাসেল, ফিরোজ আল আমিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক সহ চট্টগ্রাম অঞ্চলের কর্মরত ফরেস্ট রেঞ্জার’স গণ।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.